মতলবে চাঁদা না দেওয়ায় তুলে নিয়ে ৪ ঘন্টা নির্যাতন

বসতঘরে হামলা, লুটপাট

মতলব উত্তরে চাঁদা না পেয়ে এক যুবককে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে এবং বসতঘরে ভাংচুর লুটপাট করে। ইনসেটে হামলাকারীরা।

মতলব উত্তর (চাঁদপুর): চাঁদা না দেওয়ায় এক যুবককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে টানা চার ঘন্টা শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার বাড়িতে হামলা দিয়েও লুটপাট করেছে দুর্বৃত্তরা।

গত ১৭ জুন বিকালে মতলব উত্তর উপজেলার ছোট লক্ষীপুর গ্রামে এ ঘটনার পর ওই যুবক আলআমিনের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

এতে বিবাদী করা হয়েছে, ছোট লক্ষীপুর গ্রামের সাইফুল আনোয়ার মতিনের ছেলে হাসনাত সরকার (৪০) ও মোঃ সোহেল (৫০), সিরাজ সরকারের ছেলে মোঃ মাসুম (৩০), আফিয়া বেগম ও আংকুরি বেগম সহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২ জন। এ ঘটনায় আলআমিন সরকার, তার পিতা মোখলেছুর রহমান ও তার স্ত্রী আলেয়া বেগম আহত হয়েছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিবাদীদের সাথে বাদী পরিবারের পূর্ব থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। উক্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ১৭ জুন বিবাদীরা তাদের সহযোগী বহিরাগত অজ্ঞাত নামা ১০/১২ জনকে সাথে নিয়ে মটরসাইকেল যোগে লাঠি, সোটা, দাও, সেনা দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে নিয়ে বাদীর বাড়িতে হামলা করে, ঘরের দরজা জানালা ভংচুর করে ঘরে প্রবেশ করে। তারা বাদীর স্বামী আলআমিন সরকারকে এলোপাথারী মারপিট করে মাটিতে ফেলে দিলে, অজ্ঞাত নামা সকল বিবাদীরা তাকে আঘাত করে, শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। বাদী এবং অন্যান্য লোকজন তাকে রক্ষা করতে গেলে, সকল বিবাদীরা বাড়ির সবাইকে এলোপাথারি মারপিট করে মাটিতে ফেলে দেয়। বাদী আলেয়া বেগম মাটিতে পরে গেলে হাসনাত সরকার তার চুলের মুঠি ধরে টানা হেচড়া ও শ্লীলতাহানি করে, তার গলা এবং কান থেকে দেড় ভরি স্বর্ণলংকার ও ঘরে থাকা সোকেস থেকে জমি বিক্রির চার লক্ষ টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়। বিবাদীরা তাদেরকে মারপিট করার পর আলআমিন সরকারকে মটরসাইকেল যোগে প্রথমে লক্ষীপুর বালুর মাঠে পরে মতলব দক্ষিণের ফেরীঘাট সংলগ্ন একটি ইটভাটায় নিয়ে এলোপাথারী মারপিট করে হাতে, পায়ে, রানে, কোমড়ে, পিঠে, মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। দীর্ঘ ৪ ঘন্টা তাকে শারীরিক নির্যাতন করে এবং তার পরিবারকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বলে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে আলআমিনকে ছাড়িয়ে আনতে। অন্যথায় তাকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। পরে মতলব দক্ষিণ থানার পুলিশের সহায়তায় আলআমিনকে ওই দিন রাত ৯ টায় উদ্ধার করা হয়।

আহত আলআমিন বলেন, হাসনাত ও সোহেল সহ তারা ১০/১২টা মোটরসাইকেল যোগে এসেই আমার উপর মারপিট শুরু করে। আমার বাবা ও স্ত্রী এগিয়ে আসলে তাদেরকেও মারপিট করে। পরে আমাকে তারা তুলে নিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিট করে। প্রথমে বালুর মাঠে পরে ফেরীঘাট ইটভাটায় নিয়ে যায়। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

আলআমিনের স্ত্রী বাদী আলেয়া বেগম বলেন, এ ঘটনা আমার চোখের সামনে আমি মেনে নিতে পারছি না। তারা এসে আমার স্বামী ও শ্বশুরকে মারপিট শুরু করে। আমি এগিয়ে যাওয়ায় আমাকে মারধর করেছে এবং শরীরের কাপড় চোপন টেনে ছিড়ে ফেলেছে। খুবই জঘন্য এই অপরাধের আমি কঠিন বিচার চাই।

প্রত্যক্ষদশী তাছলিমা ও মৌসুমী আক্তার বলেন, ডাকচিৎকার শুনে আমরা এগিয়ে যাই। গিয়ে দেখি হাসনাত ও সোহেল তাদের লোকজন নিয়ে তাদের ঘরের জিনিসপত্র ভাংচুর করছে আবার কেউ আলআমিনকে মারছে। হাসনাত ও সোহেল বিভিন্ন এলাকার লোকজন নিয়ে এসে প্রায়ই এই গ্রামের লোকজনের কাছ থেকে চাঁদা চায়, না দিলে মারপিট করে আর হুমকি দেয় মতলব গেলে ধরবে। এই ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পায়।

এলাকাবাসী জানায়, তারা প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটায়। তাদের হাতে এরআগেও অনেক বয়স্ক মানুষও মার খেয়েছে। ভয়ে তাদের বিচার কেউ করতে পারে না। সোহেল ও হাসনাতের এই অত্যাচারী সন্ত্রাসী কর্মকান্ড থেকে মুক্তি চায় ছোট লক্ষীপুর গ্রামের মানুষ। এদিকে সোহেল ও হাসনাত ঘটনার পর থেকে গা ঢাঁকা দিয়েছেন। তাই তাদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার পর মতলব উত্তর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওসি মোঃ রবিউল হক বলেন, মতলব দক্ষিণ থানা থেকে খবর পেয়ে আলআমিনকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ফম/এমএমএ/আরাফাত/

আরাফাত আল-আমিন | ফোকাস মোহনা.কম