
চাঁদপুর: চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চলছে কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ছাড়াই। র্দীঘ বেশ কবছর যাবত এভাবেই চলছে। ফলে মারাত্মক বিগ্নিত হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা। স্বাস্থ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দূর দূরান্ত থেকে আশা চরাঞ্চলের সাধারন মানুষজন।
দশজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে চলছে ৩১ শয্যার এ উপজেলা জরার্জীণ হাসপাতালটি।
মেঘনা নদী বেষ্টিত ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নদীবিধৌত এ উপজেলার প্রায় ২.৬ লাখ জনসংখ্যা অধ্যূষিত লোকজন সুচিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না।
সরকারি পরিসংখান বলছে, জনসংখ্যার অধের্ধকের বেশীই নারী। আছে তাদের অগণিত শিশুও। নতুন ৪তলা ভবনের নির্মান কাজের জন্য টিনের চালের সেমি পাকা হাসপাতালটি জরার্জীণ হাসপাতালের অর্ধেক ভেংগে ফেলা হলো ২০১৯ সালে। সেই ২০১৯ সালে কাজ শুরু হয় । শেষ করার কথা ২০২১- এ ।নির্মান কাজ চলছিলো। নির্মান সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় নির্মান কাজের ঠিকাদার গত ন-মাস কাজ বন্ধ রেখেছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেলো, এখন নির্মান কাজ চলছে। নির্মান কাজ গত ৫বছরেও শেষ হয়নি বলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়। তাই জনমনে সৃষ্টি হয়েছে অনেক ক্ষোভ। আগামী বছর শেষ হবে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ ওপরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা: একে এম আ আল মামুন। হাসপাতালে মারাত্মক স্থান সংকুলানের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে সুচিকিৎসা সেবা ।
একান্ত আলাপচারিতায় এমনটাই জানালেন হাসপাতালের প্রধান ডাক্তার (উপজেলা স্বাস্থ্য ওপরিবার পরিকল্পনা অফিসার) এ কে এম আ আল মামুন।
তিনি জানান, দূর-দূরান্ত থেকে দৈনিক প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচশত রোগী এ ৩১- শয্যার হাসপাতালে আসে চিকিৎসার জন্য। কিন্তু কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় অনেকেই হতাশ হন। নেই কোন শিশু বিশেষজ্ঞ, নেই কোন মেডিসিন কনসালটেন্ট, নেই কোন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, দন্ত বিশেষজ্ঞ, কোন গাইনী চিকিৎসক। নেই কোন অপারেশন, নেই কোন এক্স- রে মেশিন, নেই কোন অপারেশন থিয়েটার, নেই কোন এক্স- রে মেশিন, নেই কোন আল্ট্রাসনোগ্রামও ।
বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে বেশী টাকা ব্যয় করে গ্রামাঞ্চলের রোগীদেরকে চিকিৎসা নিতে হয়-জানালেন বিশকাটালীর ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ব আলী আশরাফ ও তার স্ত্রী । বেশ ক-জন বোরকা পড়া রক্ষনশীল নারীও। এদের বাড়ি উপজেলার গন্ডামারা ও জনতা বাজার এলাকায়।
হাসপাতালের জরুরী বিভাগটি চলছে অল্প আলোতে। এটি এতো ছোট যে একজনের বেশী জায়গা নেই। দেখা গেলো জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিচ্ছেন ডিপ্লোমা ডাক্তার অমিত মজুমদার। তার ভাব এমন যে তিনি এমবিবিএস ডাক্তার বা বিসিএস (স্বাস্থ)কেডারের ডাক্তার। আসলে তিনি হচ্ছেন সেকমো-Sub Assistant Community Medical Officer. এক রুমে তিন/চারজন ডাক্তার গাদাগাদিভাবে বসে চিকিৎসা সেবা দেন।
ঘুরে ঘুরে দেখা গেলো স্থান সংকুলানের অভাবে একেক রুমে চারজন করে নারী রোগী ভর্তি।কোন পুরুষ রোগী ভর্তি নেই ।
ডাক্তারদের ভিন্ন কক্ষও নেই । ১৬ জন নার্স র্কমরত। নার্সদের কক্ষটিও ছোট্ট ।

স্টোরকীপার রিয়াদ হোসেন জানান, স্থান সংকটের কারনে অনেক ওষুধ ও মালামাল রাখা যায় না। তাই কীটবক্সগুলো করিডোরের রেলিং এর ওপর রাখা হয়েছে ।
জরুরি ও প্রসূতির সিজার অপারেশনের রোগীদেরকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্স বা জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। কোন গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই।
কোন পুরুষ রোগী ভর্তি দেখা যায় নি। কারন হিসেবে অনেকে বললো “কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই। তাই পুরুষ রোগী বা কোন শিশু রোগী ভর্তি নেই ।’’
উপজেলা স্বাস্থ কর্মকর্তা আল মামুন অঅরও জানান, ডাক্তারদের কোন সরকারি আবাসিক কোর্য়াটারও নেই। তাই সব ডাক্তার জেলা শহর থেকে হাইমচরে এসে চাকুরি করেন। তিনি নিজে হাসপাতালের কাছে ভাড়া করা একটি কক্ষে বাস করেন। ডাক্তারদের আবাসিক কোর্য়াটারও নির্মানাধীন।
সিভিল সার্জন ডা মো শাহাদাৎ হোসেন জানান, আমি গত সপ্তাহে এ হাসপাতালে গিয়েছি। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ব্যাপারে তিনি বলেন, মন্ত্রনালয় পদায়ন না করলে আমাদের কিছু করনীয় নেই।
তিনি আরও বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে এ হাসপাতাল শিফট হবে নির্মানাধীন ৪তলা ভবনের নীচ তলায়। তখন এসব বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
তিনি আরও জানান, জেলার সাত উপজেলায় ৭১ টি মেডিকেল অফিসারের পদ শূন্য রয়েছে। আশা করছি মন্ত্রনালয় শিগগিরই এসব শূন্য পদ পূরন করবে।
ফম/এমএমএ/



