হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর): চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর বাকিলা ইউনিয়নে কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে-অস্তিত্বহীন “মজুমদার বাড়ির রাস্তা” দেখিয়ে কাগজে প্রকল্প দেখানো হলেও বাস্তবে সেখানে কোনো কাজই হয়নি। ৯ টন ৬১৮ কেজি চালের বরাদ্দ থাকলেও মাঠে দেখা মিলেছে মাত্র ৯–১০ হাজার টাকার অল্প কিছু মাটির কাজের।
২০২৪–২৫ অর্থবছরে “বাকিলা রেললাইন থেকে মজুমদার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার” প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল সাড়ে ৯ টন চাল, যার সরকারি মূল্য প্রায় ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলাকায় “মজুমদার বাড়ি” নামে কোনো বাড়ি বা এমন কোনো রাস্তার অস্তিত্বই নেই। স্থানীয় বাসিন্দারাও জানান, কখনো এই নামে কোনো রাস্তা ছিল না।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান দাবি করেন-বিসমিল্লাহ কফি হাউসের পাশে মজুমদার বাড়িতে রাস্তার কাজ হয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঐ এলাকায় বা আশপাশে এই নামে কোনো বাড়ি পাওয়া যায়নি। রেললাইনের পাশে কালো মিয়ার পরিবার বংশপরিচয়ে “মজুমদার” হলেও তারা নিশ্চিত করেছেন-তাদের রাস্তায় কখনো কাবিখার কোনো সরকারি প্রকল্প হয়নি।
কালো মজুমদারেন স্ত্রী খুকি বেগম বলেন, আমাদের রাস্তায় কোনোদিন সরকারি কাজ হয়নি। আমরা নিজেরাই টাকা দিয়ে রাস্তা করি।
একই স্থানের দুই বাসিন্দা রেদওয়ান মিজি ও জসিম মিজি জানান, তাদের বাড়ির সামান্য অংশে খুব অল্প কিছু মাটি ফেলা হয়েছিল। রেদওয়ান মিজির হিসাব-মোট ৯৫ ঘণ্টার মতো শ্রমিক কাজ করেছে, যার মূল্য সাড়ে ৯ হাজার টাকার বেশি নয়। যেখানে প্রকল্পের রাস্তার দৈর্ঘ্য মাত্র ৭০–৮০ ফুট, সেখানে সাড়ে ৯ টন চালের বরাদ্দকে তারা “অযৌক্তিক” ও “প্রশ্নবিদ্ধ” বলেছেন।
তাদের অভিযোগ—মজুমদার বাড়িকে দেখিয়ে বরাদ্দ নেওয়া হলেও সামান্য কাজ করা হয়েছে মিজি বাড়িতে। অর্থাৎ প্রকল্পের নামে নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দ উত্তোলনই যেন মূল লক্ষ্য ছিল।
এ প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য নার্গিস বেগম জানান, “প্রকল্প কোথায় হয়েছে আমি জানি না। আমাকে কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। শুধু পিআইও অফিসে গিয়ে সাইন করেছি। সবকিছু পিআইও স্যার জানে ”
স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করেন, প্রকল্পের কোথাও সাইনবোর্ড টানানো হয়নি-এটি তথ্য গোপনের উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান দাবি করেন, “মাটি কাটা হয়েছে।” কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা কাগজের সাথে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আশেকুর রহমান বলেন, ফাইল দেখে বিষয়টি যাচাই করব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনে আল জায়েদ হোসেন জানান, অভিযোগের তদন্ত করা হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, প্রকল্পে বরাদ্দকৃত চালের মূল্য ছিল প্রায় ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, অথচ মাঠপর্যায়ের কাজের মূল্য মাত্র ৯–১০ হাজার টাকা। ফলে বাকি অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে-তা নিয়ে এখন পুরো এলাকায় চলছে তীব্র আলোচনা ও ক্ষোভ।
ফম/এমএমএ/



