ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর): চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রামপুর বাজারে সরকারি সম্পত্তিতে জোরপূর্বকভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে গত ৩ মাস ধরে নির্মিত হচ্ছে বহুতল ভবন। ইতিমধ্যে ভবনের দ্বিতীয় তলার কাজ শেষ হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভূমির হস্তক্ষেপে সরকারি ভূমি উদ্ধারে নোটিশ করে এবং কাজ বন্ধ করার নোটিশ করেও বন্ধ করা যাচ্ছে না ভবন নির্মাণ কাজ। এমন অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে তিন তলা ভবন নির্মান কাজ শেষের পথে। জমি রয়েছে অন্য দাগে দখল করেছে সরকারের ১ নং খতিয়ানের সরকারি সম্পত্তি। আর প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উক্ত এলাকার জনৈক আব্বাস আলী নামে ব্যাক্তি। শুধু তাই নয়, তিনি উক্ত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে দিনে রাতে কাজ করে যাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পুরান রামপুর বাজারে ১৭৩নং পশ্চিম লাড়ুয়া মৌজার ১৭৮৭ দাগে খরিদ সূত্রে মালিক হয়েছেন স্থানীয় আব্বাস আলী। কিন্তু তিনি দখলে রেখেছেন ১৭৮৮দাগে। স্থানীয় লোকজন জানার পর জেলা রেকর্ড রুম থেকে বিধি মোতাবেক কাগজপত্র উত্তোলন করে ফরিদগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশন ভূমি বরাবরে এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করে। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নড়ে চড়ে বসে ইউনিয়ন ভূমি অফিস।
এদিকে উক্ত আব্বাস আলী ভুমি অফিসে ভুল তথ্য উপস্থাপন করে সরকারের ১নং খতিযানের সম্পত্তি নিজের দাবী করে ভুমি অফিস থেকে আব্বাস আলী নিজের নামে নামজারি করেন। এই সম্পত্তি সরকারের এটি জানাজানির পর গোবিন্দপুর দক্ষিণ ভূমি অফিস আব্বাস আলীর নামজারি বাতিলের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি বরাবরে লিখিত আবেদন করেন।
নামজারি বাতিলের আবেদন তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষে লিখত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা এমরান হোসেন ভূঁইয়া।
স্বপন ভূঁইয়া জানান, এই দাগে আব্বাছ আলীর কোন মালিকানা জমি নেই। এই দাগে তার কোন খরিদকৃত জমিও নেই। তার জমি রয়েছে ১৭৮৭ দাগে। এটা তার জবর দখল।
এমরান হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এই জায়গা পুরান রামপুর ঐতিহ্যবাহী তোহা বাজার এবং নদীর ঘাট ছিলো। ভূমি অফিসকে ভূয়া তথ্য দিয়ে আব্বাস আলী খারিজ খতিয়ান করেছেন। স্থানীয় ইউপি ভূমি অফিস তা তদন্ত করে বাতিল করবে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করবে।
গত কয়েক মাস ধরে সরকারের সম্পত্তিতে দিবারাত্রি কাজ করে উক্ত স্থানে বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলার কাজ চলমান অবস্থায় স্থানীয় এমরান হোসেন ভুইয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভুমির নির্দেশে ইউনিয়ন ভুমি অফিসের ভুমি কর্মকর্তা প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত জনগণের সামনে নোটিশ পড়ে, ভবনের সন্মুখে একটি নিষেধাজ্ঞা নোটিশ সাঁটিয়ে দিয়ে আসেন। শুধু তাই নয়, এই সম্পওির প্রকৃত মালিকানার বিষয়ে সকল কাগজ পত্র নিয়ে এসিল্যান্ড অফিসে উপস্থিত হওয়ার জন্য ফরিদগঞ্জ সহকারী কমিশনার ভূমি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজিজুন নাহার নোটিশ দিয়েছেন। এই নোটিশ জারির করার পর নির্দিষ্ট তারিখে উক্ত ভুমির মালিকানা দাবীদার আব্বাস আলী ভুমি অফিসে উপস্থিত না হয়ে বরং বহুতল ভবনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের বিষয়ে উক্ত ইউনিয়নের ভুমি সহকারী কমকর্তা সুজন মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এই সম্পওির ভুয়া মালিকানা দাবিদার আব্বাস আলী ১৮৮৭ দাগে জমি ক্রয় করে মিথ্যে তথ্য দিয়ে ১৮৮৮ দাগে সরকারি জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ করছেন। পরে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখতে পাই মুলত এটি আমাদের সম্পত্তি। তাই সরকারের সম্পত্তি সরকারের দখলে নেয়ার জন্য আমাদের সকল প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আশা করছি এ বিষয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে কাজ চলমান বিষয়ে তিনি বলেন, আব্বাস আলী স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি সকল বাধা বিপত্তিকে তোয়াক্কা না করে ভবনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
অভিযোগের বিষয়ে আব্বাস আলীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এটি আমার খরিদকৃত সম্পত্তি। এর বাইরে তিনি আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
ফম/এমএমএ/



