ফরিদগঞ্জ (চঁদপুর): চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে IUGIP’র রাস্তার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বালুর স্থলে চর থেকে ড্রেজার দ্বারা রাস্তায় কাদা মাটি দিয়ে ভরাট চলছে। মাটি বিক্রির চুক্তির দাবী মুঠোফোনে স্বীকার করেছেন যুবদল নেতা আমিন মিজি। চর কমিটির সভাপতি বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান দুলাল ফোনকল রিসিভ করেননি। বালু-মাটির চুক্তি করেছেন সাব-ঠিকাদার মো. শাহজাহান। সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেছেন, আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলার কেরোয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে রোববার (১লা নভেম্বর) দুপুরে।
সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী জানিয়েছেন, কেরোয়া গ্রামের গজারিয়া চরে সরকার ঘোষিত অবৈধ মিনি ড্রেজার স্থাপন করা হয় শনিবার। তার সঙ্গে প্রায় ৬ শত ফিট দৈর্ঘ্য পাইপ সংয়োগ দেয়া হয়। রোববার দুপুরে স্টার্ট হয় ড্রেজার। রাস্তা নির্মাণের জন্য IUGIP–এর নির্মাণাধীন নতুন রাস্তার বক্স কাটিং করা হয়। চরে স্থাপন করা ওই ড্রেজার দ্বারা কথিত বালু (মাটি) তুলে বক্স ভরাট কাজ শুরু হয়। এতে, চর থেকে ওঠা পানিতে রাস্তায় চলাচল সম্পুর্ন বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে বসবাস করেন হাজারও মানুষ। চর থেকে মাটি-পানি দিয়ে রাস্তা সয়লাব এবং চলাচল বন্ধ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
এদিকে, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদির মুঠোফোনে জানিয়েছেন, নির্মাণাধীন রাস্তাটি IUGIP’র। কাজটি পৌরসভার সঙ্গে সম্পর্কিত। কাজ দেখাশোনার জন্য IUGIP’র দুইজন প্রকৌশলী, একজন ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট দায়িত্ব প্রাপ্ত আছেন। আমাদের পৌর প্রশাসকের নেতৃত্বে আমিসহ আমিসহ আমাদের সাব এসিস্ট্যান্ট প্রকৌশলীও দেখাশনার দায়িত্বে আছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আজ (রোববার) আমাদের কোনো প্রতিনিধি রাস্তায় উপস্থিত ছিলেন না। তিনি আরও বলেছেন, রাস্তায় বালু ফেলবে এ খবর আমাদের জানানো হয়নি। অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, চর থেকে ড্রেজার দ্বারা বালু বা মাটি রাস্তার কাজে লাগানো বেআইনি।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, চর উন্নয়ন কমিটির অনুমতি ছাড়া এখানে ড্রেজার স্থাপন ও বালু-মাটি উত্তোলন করতে পারে না। তাদের যোগসাজস থাকতে পারে বলে তারা মন্তব্য করেছেন।
এদিকে, গণমাধ্যম কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হওয়ার প্রায় ৪০ মিনিট পর চর উন্নয়ন কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও যুবদল নেতা আমিন মিজি ফোনে কথা বলেন। তিনি জানান, চর উন্নয়ন কমটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে বিএনপির উপজেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মজিবুর রহমান দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক আজাদ পাটওয়ারী। জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, চর থেকে ড্রেজার দ্বারা বালু নেয়ার জন্য রাস্তার সাবঠিকাদার স্থানীয় বাস ট্যান্ডের মো. শাহাজাহানের সঙ্গে প্রতি ফিট বালু ১৫ টাকা দরে চুক্তি হয়েছে।
আমিন মিজির সঙ্গে কথা বলার পরে এ বিষয়ে জানার জন্য মুঠোফোনে কল দিলে বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান দুলাল কল রিসিভ করেননি।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদির জানিয়েছেন, রাস্তার টেন্ডার নিয়েছে এসএস এন্টারপ্রাইজের রাকিবুল হাসান দীপু। কিন্তু, সাব ঠিকা নিয়ে কাজ করছেন মো. শাহজাহান।
ঠিকাদার রাকিবুল হাসান দীপু মুঠোফোনে দাবী করেছেন, শাহজাহান কে, আমি চিনি না। আমার কাছ থেকে লাইসেন্স নিয়ে অনেকেই কাজ করে। ড্রেজার দিয়ে মাটি তোলা হলে IUGIP ও পৌরসভার ইঞ্জিনিয়াররা সেটা দেখবেন।
জানতে চাইলে এসি (ল্যান্ড) মো. আনিসুর রহমান বলেছেন, সকালে (সোমবার) সরজমিন উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে সকল প্রকার আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ফরিদগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেছেন, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ফম/এমএমএ/


