ফরিদগঞ্জে জমি লিখে না দিয়ে মিজানের প্রতারণা, উল্টো হামলায় আহত ১০

চাঁদপুর:  চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের পাটওয়ারী বাজারের ব্যবসায়ী জমি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতারণায় অভিযুক্ত মিজানুর রহমান ও তার ভাড়াটিয়া লোকদের হামলায় প্রতিপক্ষ শরীফুল ইসলামের কমপক্ষে ১০জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ফরিদগঞ্জ থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, শোশাইরচর গ্রামের মিজানুর রহমানের সাথে পাশের বালিথুবা গ্রামের শরীফুল ইসলামের জমি ও বিল্ডিং ক্রয় করার বায়না পত্র হয় গেল বছর ডিসেম্বর মাসে। দুই লক্ষ টাকা অগ্রিম নিয়ে প্রায় ১০ মাস পার হলেও মিজানুর রহমান সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। মিজানুর রহমান প্রতারণা করে বায়না সম্পত্তি অন্যত্র বিক্রির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই ঘটনায় মিজানুর রহমানসহ একটি সিন্ডিকেট জড়িত।

তারই ধারাবাহিকতায় গত ১২ অক্টোবর শরীফুল ইসলামের আত্মীয় স্বজন ও এলাকার লোকজন কী কারণে শরীফুল ইসলামকে তার বায়না করা সম্পত্তি লিখে দেয়া হচ্ছে না এবং প্রতারণা করা হচ্ছে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তার প্রতিষ্ঠানে যায়। সেখানে মিজানুর রহমানের ছেলে সহ লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি সৃষ্টি হয়।

হামলায় আহতরা হলেন-মো. মহরম বেপারী, ইলিয়াছ খান, মোহাম্মদ কাইয়ুম, মো. সজিবসহ প্রায় ১০জন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে ফরিদঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাকিরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেয়। এই ঘটনায় ওইদিনই জমির বায়না গ্রহীতা শরীফুল ইসলাম ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

আহত মো. মহরম বেপারী বলেন, শরীফুল ইসলাম আমাদের প্রতিবেশী। মিজানুর রহমান দীর্ঘ প্রায় ১০মাস জমির বায়না করে তা লিখে দিচ্ছেন না। এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য গেলে মিজানুর রহমান, তার ছেলে কামাল, বাগিনা হাবীব বাহার সহ বেশ কয়েকজন মিলে আমাদের ওপর হামলা চালায়। ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দেয়া হলেও তাদেরকে আইনের আওতায় না এনে শরীফুল ইসলামের লোকদের আটক করে পুলিশ। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবী করি।

ভুক্তভোগী ও প্রতারণার শিকার শরীফুল ইসলাম বলেন, মিজানুর রহমান আমার সাথে চুক্তি করে তা ভঙ্গ করেছে। প্রায় ১০মাস আমি ভুক্তভোগী। জমি লিখে না দেয়ায় বহুবার শালিশ বৈঠক হয়েছে। বিশেষ করে মিজানুর রহমানের ওই জমি ব্যাংকে দায়বদ্ধ থাকায় সমন্বয় করার জন্য ইউসিবিএল চাঁদপুর শাখার ম্যানেজার ফয়সালের অফিস কক্ষেও একাধিকবার বৈঠক হয়। জমি বায়নার কাজটিও ম্যানেজারের পরামর্শে ও স্বাক্ষীদের উপস্থিতিতে তার অফিস কক্ষে সম্পাদন হয়।

তিনি আরো বলেন, জমির মূল্য পরিমাণ টাকা ব্যাংক ম্যানেজার ও মিজানুর রহমানের কথা অনুযায়ী ইউসিবিএল ব্যাংকে জমা করেও ঋণ সমন্বয় না করায় জমি লিখে দেয়া হয়নি। মূলত আমি এই জমি ও বিল্ডিং ক্রয় করতে চাইনি। স্থানীয় সুধীমহলের অনুরোধ মিজানুর রহমানের এই জমি ক্রয় করতে সম্মত হই। এসব কারণে আমার পরিচিত ও আত্মীয় স্বজন মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলার শিকার হন। এই বিষয়ে আমি ফরিদগঞ্জ থানায় ঘটনার রাতে অভিযোগ দিয়ে এখন পর্যন্ত কোন প্রতিকার পাইনি।

অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের সাথে প্রতারণার সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে মুঠোফোনে কথা হয়। তিনি অভিযোগের কথা স্বীকার করেন এবং বলেন শরীফুল ইসলাম সঠিক সময় টাকা না দেয়ায় জমি লিখে দেয়া হয়নি। কিন্তু তার লোকজন এসে আমার ছেলেকে মারধর করেছে। আর দায়বদ্ধ সম্পত্তি এইভাবে লিখে দেয়া যায় না। তিনি বিষয়টি আইনের ওপর ছেড়েদেন।

তবে অভিযুক্তের কথার বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে জানাগেছে, গত ১০ মাসে ৬ থেকে ৭টি বৈঠক হয়েছে। সেখানে মিজানুর রহমানের পক্ষে কথা বলা বাজার ব্যবসায়ী সেন্টু, সভাপতি জাহাঙ্গীর ঢালী ও শাহজাহান তপাদারে সাথে কথা বলে জানাগেছে, টাকা সঠিক সময়ে দিতে পারেনি বিষয়টি সঠিক নয়। টাকা তাদের নিজ একাউন্টে জমা ছিলো এবং পরে ব্যাংক ম্যানেজারের পরামর্শে ইউসিবিএলে জমা করা হয়।

ফম/এমএমএ/

সংবাদদাতা | ফোকাস মোহনা.কম