প্রাথমিক-মাধ্যমিকের অধিকাংশ শিক্ষার্থী সহায়ক বইয়ের ওপর নির্ভরশীল

চাঁদপুর : চাঁদপুরে প্রাথমিকের তৃতীয় থেকে পঞ্চম, মাধ্যমিকের ৬ষ্ঠ থেকে নবম শ্রেনী পর্যন্ত অধিকাংশ শিক্ষার্থীই সহায়ক বইয়ের উপর নির্ভরশীল। খুবই কম সংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছেন যারা চলতি শিক্ষা বর্ষের ৯ মাসের মধ্যে সহায়ক বই পড়েননি। তবে ৬ষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেনীতে সহায়ক বই পড়ার হার কিছুটা কম। জেলা সদরের একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সহকারী শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবকের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানাগেছে।

মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শহরের স্কুলগুলোতে সরেজমিন ঘুরে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বললে সহায়ক বই পড়া এবং সহকায়ক বই পড়ার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো উঠে আসে।

শহরের লেডি দেহলভী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস ও পুঁজা রায়ের সাথে কথা হয়। তারা দুজনেই সহায়ক বই পড়েন। এর মধ্যে জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন-তার স্কুলের শিক্ষকই তাকে ফুলকুড়ি গাইড পড়ার জন্য বলেছেন। তবে পুঁজা রায় বলেন-গ্রামার ও বাংলা ব্যকরণ বুঝার জন্য সে গাইড বই পড়ে।

একই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেনীর ফুহাদ, সুরাতুল মুনতাহা ও তানিয়া গাইড বই পড়েন। তাদের মধ্যে মুনতাহা পাঞ্জেরী বাকী দুজন পড়েন ফুলকুড়ি গাইড।

পঞ্চম শ্রেনীতে গণিত পড়ান ফারহানা সুলতানা। তিনি বলেন- গনিতের জন্য কোন সহায়ক বই প্রয়োজন হয় না। সহায়ক বই ছাড়াই তিনি পড়ান।

লেডি দেহলভী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর শিক্ষার্থী ৪৫জন উপস্থিত ছিল। এর মধ্যে ২৩জন সহায়ক গাইড পড়েন। বাকী ২২জন কোন গাইড পড়েন না। বাকীরা পঞ্জেরী গাডই পড়েন। এর মধ্যে রোল নম্বর ১ ফতেমা আক্তার জানান, সে অতিরিক্ত জ্ঞান চর্চার জন্য সহায়ক বই পড়েন।

৬ষ্ঠ শ্রেণীতে গণিত ও বিজ্ঞান পড়ান আয়েশা ইয়াসমিন। তিনি বলেন- সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা পড়েন। কিন্তু অতিরিক্ত জ্ঞান অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীরাই সহায়ক বই পড়ে। আমাদের পক্ষ থেকে পড়ার জন্য বলা হয় না।

সপ্তম শ্রেণীর রোল নম্বর ১ ফারহানা আক্তার বলেন-সে পাঞ্জেরী গাইড পড়ে। কিন্তু বছরের একটা সময় এসে তার আর গাইড পড়া প্রয়োজন হয় না। এ শ্রেণীর ১৬জন সহায়ক হিসেবে গাইড বই পড়েন। বাকী ১১জন পড়েন না। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বাসা-বাড়ীতে পৃথক গৃহ শিক্ষকের নিকট পড়েন।

লেডি দেহলভী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইলিয়াছ মিয়া বলেন- বর্তমানে ৬ষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেনীতে গাইডের প্রয়োজন হয় না। তবে শ্রেনীতে শিক্ষার্থী কম লাগবে। বেশী হলে দলগত পড়ার জন্য সমস্যা হয়। তবে অষ্টম ও নবম শ্রেনীতে বিস্তারিত পড়ার জন্য সহায়ক বইয়ের প্রয়োজন হয়।

তিনি আরো বলেন, নতুন কারিকুলামে ৬ষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেনীতে পড়া অনেক সুবিধা হয়েছে। কারণ শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়া এখন নিজেই আনন্দের মধ্যে পড়তে পারেন। কিন্তু অভিভাবকদের কিছুটা সমস্যা হয়। কারন নতুন কারিকুলাম সম্পর্কে অভিভাবকরা অবগত না।

শহরের আল-আমিন মডেল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেনীতে পড়েন মানসুর আহমেদ মিরাজ। তা মা জানান, নতুন কারিকুলামে শুরু হওয়ার পর থেকে তার সন্তান বাসায় খুবই কম পড়ে। পড়ার কথা জানতে চাইলে বলে-মাদ্রাসার ক্লাসেই দলগতভাবে সব পড়া শেষ হয়েছে।

মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থী রেজওয়ানা, তাহমিনা ও হাসনা জানান, তারা সকলেই সহকায়ক বই পড়েন। তবে বিদ্যালয় থেকে শিক্ষকরা কোন সহায়ক বই পড়বে তা নির্ধারণ করে দেননি।

ওই ক্লাশের ইংরেজী শিক্ষক চাঁদ সুলতানা জানান, তারা কখনোই শিক্ষার্থীদেরকে সহায়ক বই পড়ানোর জন্য বলেন না। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অতিরিক্ত পড়ানোর জন্য নিজেরই বাসা থেকে পড়া তৈরী করে শিক্ষার্থীদের পড়ান।
একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর শিক্ষার্থী হচ্ছে ৫৯জন। উপস্থিত পাওয়াগেছে ২৪জন। সহায়ক বই পড়েন ১৮জন। বাকী ৬জন সঠিকভাবে উত্তর দেননি।

এই শ্রেণীর রোল নম্বর ১ সাদিয়া ফারভীন বলেন, কোন সহায়ক বই সে পড়ে না। পাঠ্য বই পড়তে তার ভাল লাগে। তবে তার গৃহশিক্ষক আছে। তবে বাকী অধিকাংশ শিক্ষার্থী রয়েল ও পাঞ্জেরী নামে সহায়ক বই পড়েন।

এই ক্লাশের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক কামরুল আহসান গাজী বলেন, বাংলা বিষয়ে আমরা যেভাবে ক্লাশে পড়াই, তাতে কোন সহায়ক বই পড়ার প্রয়োজন হয় না।

মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শিরিন আক্তার বলেন, তিনি নিজেও কিছুদিন বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর নতুন কারিকুলামে বিজ্ঞান পড়িয়েছেন। সেখানে তিনি উপলব্দি করেছেন সহায়ক কোন বই শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন হয় না।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম