ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর): চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুপসা ইউনিয়নের কাওনিয়া ভূঁইয়া বাড়িতে অবস্থিত বিবি হাজেরা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিংএ প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক এতিম শিশু, স্থানীয় অসহায় ও মুসল্লিদের জন্য ইফতারের আয়োজন।
প্রতি বছরের ন্যায় মাসব্যাপী ইফতারের আয়োজনে প্রতিদিন প্রথমে ইফতার সামগ্রী এবং পরবর্তীতে নামাজ শেষে রাতের খাবার হিসেবে ভাত-মাংশের আয়োজন করা হয়। প্রথম রমজান থেকে শুরু হয়ে ৩০ রমজান পর্যন্ত এ আয়োজন চলমান থাকবে বলে জানান আয়োজকরা।
প্রথমে ইফতার মাহফিলে খেজুর, সরবত, আপেল, জিলাপী, ছোলাবুট, বেগুনি, আলুরচপ, পিয়াজুসহ অনান্য সামগ্রী। এরপর মাগরিব নামাজ শেষে ভাত, গরুর মাংশ ও মুঘডালের আয়োজন করা হয়। এতে মাদ্রাসার এতিম শিশু, কাউনিয়া গ্রাম ও আশে-পাশের প্রায় দুই শতাধিক গরীব-অসহায় ও মসজিদে আসা মুসল্লিারা অংশ গ্রহন করেন। এছাড়াও মাঝে মধ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও এসব কোরআনে হাফেজদের সাথে ইফতারে অংশ নেন।
জানাগেছে, ২০০২ সালের ২৩ অক্টোবর ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৬নং রুপসা ইউনিয়নের কাওনিয়া গ্রামের ভূঁইয়া বাড়িতে বিবি হাজেরা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিংএ প্রতিষ্ঠা করেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের নির্বাহী সদস্য ও চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া। এই কমপ্লেক্সে রয়েছে জুম্মা মসজিদ ও কমপ্লেক্স।
ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া তা মা মরহুম বিবি হাজেরা নামে প্রতিষ্ঠিতা করেন এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিং। শুরু থেকে প্রায় একশ’ এতিম শিশুদের নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন বলে জানান, ফরিদগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও স্থানীয় বাসিন্ধা মহীউদ্দিন ভূঁইয়া ইরান।
তিনি জানান, বিবি হাজেরা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিংয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা ও আশেপাশের উপজেলা থেকে মা ও বাবা হারা এতিম শিশু ও গরীব শিশুদের লেখাপড়া করানো হয়। কোরআনে হাফেজসহ স্থানীয় বিদ্যালয়ে তাদের লেখাপড়া করানো হয়। এখানে নূরানী, নাজেরা ও হিফজ বিভাগ রয়েছে।
এছাড়াও প্রতিবছর রমজান মাসে প্রায় দুই শতাধিক এতিম শিশু, স্থানীয় অসহায় ও মুসল্লিদের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়।
ইফতারের সার্বিকভাবে খোঁজখবর নেয় ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়ার সহধর্মিনী অধ্যাপক ডা. আনোয়ারা হক, বড় ছেলে ইঞ্জিনিয়ার আতিকুল হক, বড় মেয়ে ডা. শামসুন বিনতে হক, ছোট মেয়ে ডা. সাবরিনা বিনতে হক এবং ছোট ছেলে ডা. এহসানুল হক সজল।
সম্প্রতি সময় এতিমখানায় গিয়ে দেখা যায়, বিবি হাজেরা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিংয়ে তত্ত্বাবধায়ক মো. জসীম উদ্দিনের নেতৃত্বে সকাল থেকেই রান্না শুরু হয়। রোধ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রতিদিন বিকেল ৫টার মধ্যে সকল আয়োজন সম্পন্ন করে ইফতার সাজানো শুরু করা হয়। এতে সার্বিক সহযোগিতা করেন এতিমখানা শিক্ষক, ছাত্র, কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ও স্থানীয় যুবকরা। অত্যান্ত সুন্দর ও শৃঙ্খল পরিবেশ ইফতার ও ভাত খাওয়ার বিষয়টি সম্পন্ন করা হয়।
ফম/এমএমএ/



