চাঁদপুর: সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), চাঁদপুর-এর ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপের উদ্যোগে চাঁদপুর প্রেসক্লাব ভবনের দ্বিতীয় তলায় সোমবার ( ২৪ আগস্ট) চাঁদপুরে স্বেচ্ছাসেবী তরুণ সংগঠকদের নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
চাঁদপুরে স্বেচ্ছাসেবী তরুণ সংগঠকদের কর্মশালায় স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ তারুণ্যের শক্তির মাধ্যমেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া তরুণ সংগঠকবৃন্দ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন পরিচালনায় সনাক-টিআইবিকে সহযোগিতা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। চাঁদপুরের স্থানীয় ২৮টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অর্ধশতাধিক তরুণ কর্মশালায় অংশ নেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী তরুণ সংগঠকরা বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা কেবল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; নাগরিক সমাজ, বিশেষ করে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণও এ প্রক্রিয়ার অপরিহার্য অংশ। এই দেশ আমাদের, তাই এই দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার দায়িত্ব আমাদেরকেই নিতে হবে। তরুণরা মুক্তিযুদ্ধ ও বৈষম্যবিরোধী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে ভূমিকা পালল করবেন বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, নাগরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গঠনে তরুণরা আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
টিআইবি’র চট্রগ্রাম ক্লাস্টারের কো-অর্ডিনেটর মোঃ জসীম উদ্দিনের সঞ্চালনায় সনাক সভাপতি মোঃ আলমগীর পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে কর্মশালা পরিচালনা করেন টিআইবি’র সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের কো-অর্ডিনেটর কাজী শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা একটা সুন্দর ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের ম্বপ্ন দেখি। তোমাদেরও স্বপ্ন থাকতে হবে। স্বপ্নকে যেন আমরা টাকার কাছে বিক্রি না করি। তিনি আরও বলেন তারুণ্য একটি শক্তির নাম। তারুণ্যের শক্তি দিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কাউকে পেছনে রেখে কখনই উন্নয়নের কথা চিন্তা করা যাবেনা। আমাদের একটাই উদ্দেশ্য সেটা হলো টেকসই উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করা। প্রাতিষ্ঠানিক সকল ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। দুর্নীতিবিরোধী সামজিক আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে হলে এই তরুণ সমাজকেই এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়াও তিনি কর্মশালায় প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের মূল উপাদান ও বৈশিষ্ট্যসমূহ, চ্যালেঞ্জ, উত্তরণের উপায়, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট পরিচিতি, লক্ষ্যমাত্রাসমূহ, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন বিষয়সমূহ উপস্থাপন করেন।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে সনাকের সাবেক সভাপতি ও সদস্য কাজী শাহাদাত বলেন, সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নিজেকে স্বচ্ছ ও সাহসী হতে হবে। সামষ্টিক সচেতনতা সামগ্রিক দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন কখনো একার পক্ষে সফল করা সম্ভব নয়, এজন্য দরকার সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণ। তরুণ প্রজন্ম যদি সচেতন থাকে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় তাহলেই এদেশ থেকে দুর্নীতি দূর করা সম্ভব হবে। আমাদেরকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য সম্পর্কেও জানতে হবে। কারণ তথ্য মানুষকে অনেক বেশি শক্তিশালী করে। তিনি কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী তরুণ সংগঠকদের টিআইবি’র দুর্নীতিবিরোধী শপথবাক্য পাঠ করান।
সভাপতির বক্তব্যে সনাক সভাপতি মোঃ আলমগীর পাটওয়ারী বলেন, আমরা যদি এদেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতে না পারি তাহলে এদেশে কখনই কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না। আমরা যেখানে অনিয়ম ও দুর্নীতি দেখি সেখানেই প্রতিরোধ করতে হবে। উন্নয়নের টেকসই লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য সুশাসন অবশ্যই প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, আপনাদের নিকট আমাদের প্রত্যাশা, আপনারা নিজেরা সুশাসনের চর্চা করবেন এবং সমাজে টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়নের জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। আজ এই কর্মশালার মাধ্যমে সনাকের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সাথে যুক্ত হলেন। দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে তরুণ সংগঠকদের সক্রিয়ভাবে ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। এছাড়াও কর্মশালায় শুভেচ্চা বক্তব্য উপস্থাপন করেন টিআইবি’র অ্যাসিস্টেন্ট কোঅর্ডিনেটর ইয়াসমিন আরা বেবী, সনাক সদস্য মোঃ হাবীবুর রহমান পাটওয়ারী ও ইয়েস গ্রুপের সহ-দলনেতা শৈলী দাস।
অংশগ্রহণকারী সংগঠকবৃন্দ ৪টি দলে বিভক্ত হয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি ও পরিবেশ বিষয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তরুণ সংগঠকদের প্রতিবন্ধকতাসমূহ এবং উত্তরণে করণীয় বিষয়সমূহ উপস্থাপন করেন। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী তরুণ সংগঠকগণ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিতে যার যার সাংগঠনিক অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেন।
ফম/এমএমএ/




