চালক নেই, ৪ বছরেও চালু হয়নি চাঁদপুরের নৌ অ্যাম্বুলেন্স

ফাইল ছবি।

চাঁদপুর: চাঁদপুর সদর, হাইমচর ও মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর পশ্চিমে ২০টি দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ বরাবরই অবহেলিত হয়ে আসছেন। লক্ষাধিক মানুষের বসবাস এসব চরে। দুর্গম এসব চরের মানুষ যাতে দ্রুত ও সহজে চিকিৎসাসেবা নিতে পারে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এগিয়ে আসেন।

২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর তিনি অর্ধকোটি টাকা দামের অত্যাধুনিক একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করেন। স্থানীয় সংসদ-সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির অনুরোধে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে নৌ অ্যাম্বুলেন্স চাঁদপুরে পাঠানো হয়। কিন্তু এই অ্যাম্বুলেন্স চালাতে যে একজন চালক ও তার জন্য জ্বালানি তেল প্রয়োজন গত চার বছরেও তার নিয়োগ এবং বরাদ্দ মেলেনি।

এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ অনেকবার চিঠি চালাচালিও করেছেন। তাছাড়া যাদের সুবিধার জন্য নৌ অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া দেওয়া হয়েছে, সেই চরাঞ্চলবাসীও তার সম্পর্কে জানেন না।

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্সটি বর্তমানে মুখার্জি ঘাটের ডাকাতিয়া নদীর তীরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অযত্ম-অবহেলায় পড়ে থাকার কারনে অ্যাম্বুলেন্সটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে বৃষ্টিতে এর গ্লাস ভেঙে গেছে । নস্ট হয়ে গেছে ব্যাটারি। যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে গেছে। শ্রীহীন হয়ে এখন অনেকটা ব্যবহার অনুপযোগী এ নৌ অ্যাম্বুলেন্স। এর আগে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আবেদন করে নতুন করে মেরামত করার জন্য নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামত করে চাঁদপুরে নিয়ে আসা হয়। এরপর দীর্ঘদিন অলস পড়ে থাকায় আবারও এটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেস্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী হযরত আলী বেপারি বলেন, যারা চরে বসবাস করে তারা সবাই ভীতির মধ্যে থাকে। দেখা যায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ট্রলারে করে হাসপাতালে রোগী নিতে নিতে অনেক সময় মারা যায়।

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বেলায়েত হোসেন বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর প্রচেষ্টায় চাঁদপুরে একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স আনা হয়। আমরা চালক নিয়োগ জটিলতার কারনে অ্যাম্বুলেন্সটির কার্যক্রম শুরু করতে পারিনি। এ জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদা দেওয়া হয়েছে। চালক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত নিয়োগ হবে বলে তিনি জানান।

এর আগে ২০০৮ সালে চাঁদপুর আড়াইশ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালের জন্য পাঠানো সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পাঠানো নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি একমাত্র চালকের অভাবেই দীর্ঘ ১৬ বছরেও চালু করা যায়নি।
ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম