‘চাঁদপুর গ্যান্ডারি’ আখের সুনাম দেশজুড়ে

রঙ বিলাস আখ। ছবি: ফোকাস মোহনা.কম।

চাঁদপুর: কৃষি উৎপাদনে নদী উপকূলীয় জেলা চাঁদপুরের ঐতিহ্য বহু বছরের। মৌসুমের অধিকাংশ কৃষি ফসল আবাদ হয় জেলায়। বিশেষ করে ‘চাঁদপুর গ্যান্ডারি’ নামক আখের সুনাম দেশজুড়ে। কারণ চিবিয়ে খাওয়ার জন্য এই আখ সবচাইতে বেশী উপযোগী। তবে এখন ‘চাঁদপুর গ্যান্ডারি’ নামক আখের পাশাপাশি রঙ বিলাস আখের আবাদও বেড়েছে। একই জমিতে মিশ্র আখের আবাদ করেছেন কৃষকরা। ফরিদগঞ্জ ও চাঁদপুর সদরের কৃষকরা ইতোমধ্যে আখ কাটতে শুরু করেছেন। ফলন ভাল হলেও অনেক জমিতে ছত্রাক জাতীয় রোগে আক্রান্ত হয়েছে আখ।

সম্প্রতি চাঁদপুর সদরের বাগাদী, বালিয়া, ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়ন ঘুরে দেখাগেছে কৃষকরা আখ কাটতে শুরু করেছেন। ব্যবসায়ীদের নিয়োজিত শ্রমিকরা আখ অন্য জেলায় পাঠানোর জন্য আঁটি বেধে প্রস্তুত করছেন। আবার অনেক কৃষক তাদের জমির আখ নিজেরাই কেটে স্থানীয় হাট-বাজারে ও শহরের বিভিন্ন সড়কে দাঁড়িয়ে বিক্রি করছেন। ছোট থেকে বড় প্রতি পিস আখ বিক্রি হচ্ছে ১০-৬০টাকা পর্যন্ত।

চাঁদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, এ বছর জেলায় আখ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬২০ হেক্টর, আবাদ হয়েছে ৬৪০ হেক্টর। এর মধ্যে বেশী আবাদ হয়েছে ফরিদগঞ্জ উপজেলায়। এ উপজেলার ৬ ইউনিয়নে আবাদ হয়েছে ২৯০ হেক্টর। সাধারণত জেলা সদর, চাঁদপুর সেচ প্রকল্প ও মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের জমিগুলো আখ আবাদের জন্য বেশী উপযোগী। যে কারণে এসব এলাকায় এবছরও ‘চাঁদপুর গ্যান্ডারি’ আখের পাশাপাশি রঙ বিলাস, ইশ^রদী ও মানিকগঞ্জ ২০৮ জাতের আখ আবাদ হয়েছে।

সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের পশ্চিম সেকদী গ্রামের কৃষক আমির হোসেন বলেন, তিনি এ বছর প্রায় ২০ শতাংশ জমিতে আখের আবাদ করেছেন। ছত্রাক জাতীয় রোগে কিছুর আখ গাছ শেষ সময়ে এসে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যে কারণে তিনি এসব আখের দাম কম পাবেন।

একই এলাকার আখ চাষী শিপন মিয়া বলেন, তিনি এ বছর ২২ শতাংশ জমিতে মিশ্র জাতের আখ করেছেন। ‘চাঁদপুর গ্যান্ডারি’ এর পাশাপাশি রঙ বিলাস আবাদ করেছেন। উভয় জাতের আখই ভাল ফলন হয়েছে। রঙ বিলাস আখ সাইজে অনেক লম্ব হয়। তবে চিবিয়ে খাওয়ার জন্য ‘চাঁদপুর গ্যান্ডারি’ স্থানীয় লোকজনের কাছে জনপ্রিয়।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের আখ চাষী কলন্দর খান বলেন, তিনি রঙ বিলাস জাতের আখ আবাদ করেছেন। মিশ্রসহ তার আখের আবাদের পরিমান ১শ’ ২০ শতাংশ। রঙ বিলাস খুবই মিষ্টি ও রসালো। তবে এই উপজেলার কৃষকরা খুব কমই আবাদ করেন রঙ বিলাস। সদর উপজেলায় রঙ বিলাসের আবাদ বেড়েছে।

তিনি আরো বলেন, পূর্ব পুরুষদের দেখাদেখি আমরা আখের আবাদ করে আসছি। কৃষি বিভাগ থেকে আমাদের কাছে কেউ আসে না এবং তাদের পক্ষ থেকে আমরা কোন ধরণের সহযোগিতাও পাই না।

চাঁদপুর সদরের বাগাদী ইউনিয়নের মো. রফিকুল ইসলাম আখের ব্যবসা করেন প্রায় ২৫ বছর। তিনি বলেন, এ বছর আখ ছত্রাক জাতীয় রোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিশেষ করে বেড়ি বাঁধের বাহিরের জমিগুলোতে এই রোগ বেশী। পশ্চিম সেকদি গ্রামের এক জমির আখ তিনি ২২ হাজার টাকায় ক্রয় করেছেন। রঙ বিলাস ও ‘চাঁদপুর গ্যান্ডারি’ মিশ্রিত আবাদে জমিটি। এসব আখ কেটে তিনি নোয়াখালী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মনবাড়িয়া ও ঢাকায় পাঠাবেন বলে জানান।

চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, এ বছর চাঁদপুর জেলায় চিবিয়ে খাওয়া আখের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিলে ৬২০ হেক্টর, আবাদ হয়েছে ৬৪০ হেক্টর। জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকদের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। জলবাদ্ধতা ও ছত্রাক জাতীয় রোগ থেকে রক্ষায় কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম