চাঁদপুরে ইফার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমাম সম্মেলনে বিভাগীয় পর্যায়ে ৩ জন মনোনিত

চাঁদপুর: চাঁদপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) আয়োজনে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমী হতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমামদের জেলা পর্যায়ে ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২২ মার্চ) সকাল ১১ টায় চাঁদপুর শহরের ফিশারী গেইট নুরজাহান নিবাস ইফার হল রুমে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে দুই ক্যাটাগরিতে জেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমামগণ অংশ নেন। এর আগে উপজেলা ভিত্তিক দুই ক্যাটাগরিতে ইমাম বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। পরে তাদেরকে জেলা সম্মেলন লিখিত পরীক্ষা ও বিভিন্ন আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইমামদের ভূমিকা বিষয়ের ডকুমেন্টের উপর জেলায় ৬ জনকে বিভাগীয় পর্যায়ে মনোনীত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোঃ মোসা। তিনি মাহে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে ইমামদের উদ্দেশ্যে বলেন, সমাজের নেতৃত্ব দেওয়া এটা আল্লাহতালার অশেষ মেহেরবানি। আর নেতৃত্ব একটা সম্মান। সম্মানের জায়গায় থেকে মানুষকে ভাল উপদেশ দেওয়া ভালো কাজে অংশ। এটাও একটা ইবাদত। আমরা মানুষ। আল্লাহ আমাদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আমরা এমন একটি ধর্ম লালন করি, যে ধর্মে ধনী-গরিব একাকার হয়ে একে অপরের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে শিখিয়েছে। রমজানে যাকাত-ফেতরার মাধ্যমে আমরা গরিবের হক আদায় করে থাকি। এতেও ও বইয়ের মাধ্যমে একটি সেতুবন্ধন সৃষ্টি হয়। তিনি আরো বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ইসলামের পথেই আমাদের জীবন উৎসর্গ করতে হবে। আল্লাহর আদেশে নবীর দেখানো পথে আমরা সিয়াম সাধনা করি। আর দিনভর পানাহার ব্যতীত থেকে যদি অপরাধে জড়িয়ে পড়ি, তাহলে সে রোজায় আমাদের কি লাভ হবে। আমরা দেখি অনেকে রোজা রেখেছেন। আল্লাহকে ভয় করে কোন খাবার গ্রহণ করেন না। কিন্তু রোজা রেখে ঘুষ খায়। ওজনে কম দেয়। খাবারে ভেজাল করে । তাহলে তাদের রোজা রেখে কি লাভ হবে। সুতরাং রোজা রেখে অপরাধ না করে আপনারা মানুষকে সে বিষয়ে উজ্জীবিত করবেন।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াসিন আরাফাত, জেলা জাতীয় ইমাম সমিতি চাঁদপুরের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন খন্দকার ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোঃ আব্দুস সালাম প্রমুখ।

ইফার উপ-পরিচালক মোঃ রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে ও জেলা ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোঃ আবদুর রহমান গাজীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইফার ফিল্ড অফিসার মোঃ বিল্লাল হোসেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কচুয়া উপজেলা মডেল মসজিদের খতিব মাওঃ গোলাম কিবরিয়া । নাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম পরিবেশন করেন হাজীগঞ্জ চড়পাড়া বাইতুল মামুর জামে মসজিদের খতিব মাওঃ মাসুদুর রহমান । দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন হাইমচর ফকির বাড়ি জামে মসজিদের খতিব মাওঃ মোখতার আহমেদ।

সম্মেলন ২০২২-২৩ অর্থ বছরের জেলার শ্রেষ্ঠ ইমাম হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ১ম স্থান মাওঃ মোঃ মাকসুদুল আমিন (ফরিদগঞ্জ), ২য় স্থান মাওঃ আবু মুসা (মতলব দক্ষিণ) ও
৩য় স্থান মাওঃ মোহাম্মদ মোবারক হোসেন (কচুয়া)

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা ৫৬৪টি মডেল মসজিদ স্থাপন করে এক ইতিহাস করেছেন। এই মসজিদ ঘিরে ইসলামী সাংস্কৃতিক চর্চা সহ বেশ কিছু কাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে মসজিদ। ইতিমধ্যে এ প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিন ও খাদেম সহ নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং তাদের বেতন-ভাতা সরকার থেকে পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রত্যেকটা কাজই আল্লাহর ইচ্ছায় হয়। আল্লাহ কবুল করেছেন বিদায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৫৬৪টি মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।তিনি আরো বলেন, বর্তমানে ফেতন-ফাসাদ চরম আকার ধারণ করছে। আমাদের সমাজে যাতে ফিতনা-ফাসাদ না হয়। সে দিকে ইমাম তথা আলেম সমাজের ভূমিকা থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমীতে মসজিদের ইমামদের ইসলামিয়াত, গণশিক্ষা, প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরিচর্যা, পরিবার কল্যাণ, কৃষি ও বনায়ন, পশু-পাখি পালন এবং মৎস্য চাষ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান ৪৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষন দেয়া হয়। ওই প্রশিক্ষণ লব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে যে সকল ইমাম আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন প্রতিবছর তাদেরকে সম্মেলনের মাধ্যমে পুরস্কৃত করা হয়। উপজেলা পর্যায়ে হয়ে, জেলা পর্যায়ে হয়ে বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত ইমামদেরকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করে ওমরা হজ সহ মিশরে সফরে ব্যবস্থা করা হয়।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম