চট্টগ্রামের দুই প্রতারক চাঁদপুরে আটক

চাঁদপুর: চাঁদপুর পৌরসভায় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী পদে চাকুরি দেয়ার কথা বলে টাকা আদায় করায় কাজী শামীম হাবিব ও সাইফুল ইসলাম নামের দুই প্রতারককে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৬ নভেম্বর) দিনগত রাত ৯টায় পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমানের নির্দেশে শহরের চিত্রলেখার মোড়ের গাজী আবাসিক বোর্ডিং এর তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে তাদেরকে আটক চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ।

প্রতারক কাজী শামিম হাবিব চট্টগ্রাম জেলার পিসি রোড নিমতলার কাজী হানিফের ছেলে ও সাইফুল ইসলাম চট্টগ্রাম একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

প্রতারনার শিকার মোঃ মাঈনুদ্দিন জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের দক্ষিণ হাঁসা গ্রামের আঃ রাজ্জাকের ছেলে। সে পেশায় একজন গাড়ীচালক।

মাঈনুদ্দিন জানায়, ১৭ নভেম্বর চাঁদপুর পৌরসভার অফিস সহকারি পদে নিয়োগ দেয়া হবে মর্মে কাজী শামীম এর সাথে চাকরী দেয়ার সুবাধে ২লাখ ৫০ হাজার টাকা চুক্তি হয়। চুক্তি আলোকে বুধবার সকালে শহরের গাজী বোডিং এর ১০১নং কক্ষে প্রতারক কাজী শামীমকে ২৫ হাজার টাকা দেয়া হয়।

এদিকে মোঃ মাঈনুদ্দিন রাতে পুনরায় প্রতারক কাজী শামীম ও সাইফুলকে ২৫ হাজার টাকা দিতে আসলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আলিম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে প্রতারক চক্র কাজী শামীম ও সাইফুলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তবে বাকী ২ লক্ষ টাকা চাকুরী পাওয়ার পর দিবে বলে মাঈনুদ্দিনের সাথে প্রতারক চক্রের চুক্তি হয়।

পৌরসভার কর্মকর্তারা জানান, প্রতারক চক্র চাঁদপুর পৌরসভার সচিবের স্বাক্ষর জাল করে একটি নিয়োগপত্র মাঈনুদ্দিকে প্রদান করেন। কিন্তু সচিব নামে বর্তমানে চাঁদপুর পৌরসভায় কোন পদ নেই। পূর্বের সচিব পদটি বর্তমানে নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি প্রতারক চক্র জানত না।

পৌরসভার সাবেক সচিব ও বর্তমান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম ভূঁইয়া জানান, চাঁদপুর পৌরসভায় বর্তমানে সচিব নামে কোন পদ নেই। এছাড়া পৌরসভায় কোন নিয়োগ হবে তা পৌর কর্মকর্তা হিসেবে আমার জানা নেই। বিষয়টি তারা সম্পূর্ণ প্রতারণা করেছে।

পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল জানান, এ প্রতারক চক্রকে আটক করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। এ প্রতারক চক্রের মূল হোতা এবং এদের সম্পূর্ণ ঠিকানা অবশ্যই জানতে হবে।

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ বৃহস্পতিবার দুপুরে লেন, তাদেরকে এখনো জিজ্ঞাসবাদ করা হচ্ছে। প্রতারণার শিকার মাইনুদ্দিন এখনো থানায় আসেননি। উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম