
কচুয়া (চাঁদপুর) : কচুয়া বঙ্গবন্ধু সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও মাদক কারবারি দূরত্ব ইব্রাহীম (২৯) কে ১০ বোতল ফেনসিডিলসহ গত বুধবার গ্রেফতার করে চাঁদপুর ডিবি পুলিশ। ইব্রাহীম উপজেলার বাসাবাড়িয়া গ্রামের সেলিম মেম্বার বাড়ির আশেক আলীর ছেলে।
জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ওসি মজিবুর রহমান জানান, দূরত্ব ইব্রাহীম দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা, চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির এসআই মাজাহারুল হক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বুধবার কচুয়া বিশ^রোড সংলগ্ন মায়ের দোয়া মৎস্য আড়তের সামনে থেকে তাকে আটক করে।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আব্দুল হালিম বলেন- সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ সংগঠন কচুয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির দূরন্ত ইব্রাহীমকে ১০ বোতল ফেনসিডিল সহ গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২০১৮ সনের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে ৩৬(১)১৪ (ক) ধারায় কচুয়া থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
কিভাবে ইব্রাহিম থেকে দূরন্ত ইব্রাহীম হয়ে উঠেন
জানা যায়- ছাত্রদলের হাত ধরেই রাজনীততে পদার্পণ করে ইব্রাহীম। পরে পৌর মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নাজমুল আলম স্বপনের আর্শীবাদপুষ্ট হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। তার গ্রাম বাসাবাড়িয়ায় তাকে সকলে ইব্রাহীম হিসেবে চিনে। ছোট বেলা থেকে বিভিন্ন চোর চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়েন। এলাকায় হাস, মুরগী, গরু, ছাগল চুরি হতে শুরু করে এক সময় চোরদের সর্দারে পরিনত হয়। দিন-দুপুরে গরু চুরি করে ধরা খেয়ে এলাকায় গরু চোর ইব্রাহীম হিসেবে সুপরিচিত লাভ করে। হঠাৎ করে ইব্রাহীম থেকে দূরত্ব ইব্রাহীম হিসেবে তার নাম প্রচার পায়। সাবেক সাংসদ সেলিম মাহমুদ ও পৌর মেয়র নাজমুল আলম স্বপনের আশীবাদপুষ্ট হয়ে অপরাধ জগতে পা বাড়ান দূরন্ত। এমন কোন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড নেই যে তার সাথে দূরত¦ ইব্রাহীম জড়িত নেই। উপজেলার শীর্ষ নেতাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে মাদক কারবারি, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, ব্লাকমেইল, সম্পত্তি দখল সহ সকল অপরাধ করে অল্প সময়ের মধ্যেই অপরাধ জগতের হিরো বনে যায়। কলেজ শাখার আহ্বায়ক বাঁগিয়ে নিয়ে সে উপজেলা ছাত্রলীগকেও নিয়ন্ত্রন করতো।
মেয়রের ভাগিনা পরিচয় দিয়ে সর্বত্র তার প্রভাব বিস্তারে মেতে উঠে। বিগত দিনে তার বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে বহু অভিযোগ দায়ের করলেও অদৃশ্য শক্তির কারনে সকল অভিযোগ থেকে পার পেয়ে যেতেন দূরন্ত ইব্রাহীম। সর্বশেষ গত জুন- ২০২৪ মাসে সেলিম মাহমুদ ও স্বপনের মাধ্যমে পৌর সভায় স্টোর কিপার পদে চাকরি বাঁগিয়ে নেন। সরকার পতনের পর সারা দেশের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে গেলেও আবার নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ কলেজ শাখা আহ্বায়ক হয়েও বীরদর্পে কচুয়া পৌর সভায় চাকরি ও চলাফেরার করতে থাকেন। তার দ্বারা আওয়ামী সরকারের আমলে নির্যাতিত সাধারণ মানুষ সরকার পরিবর্তন হওয়ার পরও অংতকে থাকতেন।
অনেকের মুখে বলতে শোনা গেছে উপজেলা বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের সাথে তার সুসম্পর্ক থাকায় এখনো বীরদর্পে দাপটিয়ে বেড়াচ্ছে। মাদক সহ গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি নেমে আসে। তাদের মনে এখনো সংশয় আবার কোন আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বের হয়ে এসে আবার কি কচুয়ায় রামরাজত্ব কায়েম করবে দূরন্ত ইব্রাহিম ? প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর জোড়দাবী দুষ্টপ্রকৃতির দূরন্ত ইব্রাহীম আর যেন আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বের হয়ে না আসতে পারে। তার অপকর্মের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান উপজেলাবাসী।
ফম/এমএমএ/



