বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের ধারায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। ব্যাংকটির চাঁদপুর শাখা সম্প্রতি ‘ডিজিটাল দানবাক্স’ নামক একটি যুগোপযোগী সেবা চালু করেছে, যা চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন মসজিদে স্থাপন করা হয়েছে। এই উদ্যোগ ইসলামী মূল্যবোধ ও আধুনিক প্রযুক্তির অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সোমবার (২১ এপ্রিল) চাঁদপুর শহরের একাধিক মসজিদে এই কার্যক্রমের সূচনা করেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি চাঁদপুর শাখার ব্যবস্থাপক মো. সাখাওয়াত হোসাইন।
তিনি জানান মসজিদভিত্তিক তহবিল ব্যবস্থায় প্রযুক্তির বিস্তারিত।
আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দানের নতুন দিগন্ত:
মসজিদে দান করার প্রচলিত ব্যবস্থায় সাধারণত নগদ অর্থ ব্যবহার করা হতো। তবে ডিজিটাল যুগে, বিশেষ করে করোনা মহামারির পর, নগদহীন লেনদেনের প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসলামি ব্যাংকের ডিজিটাল দানবাক্স সময়ের দাবি মিটিয়েছে। এখন মুসল্লিরা নগদের পাশাপাশি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (সেলফিন, এমক্যাশ, বিকাশ, রকেট), ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে খুব সহজেই দান করতে পারছেন।
ডিজিটাল দানবাক্সের বৈশিষ্ট্য:
১. কিউআর কোড সুবিধা: প্রতিটি দানবাক্সে রয়েছে নির্দিষ্ট ছজ কোড, যেটি স্ক্যান করে যে কেউ নিজের মোবাইল থেকে সরাসরি অর্থ দান করতে পারেন।
২. ২৪/৭ দানে সময়: গতানুগতিক দান গুলো জুমার নামাজ বা ওয়াক্তিয়া নামাজের পর ধর্ম প্রান মুসুল্লিগন থেকে দান গ্রহনের ব্যসস্থা ছিল। কেউ চাইলে এ সময়ের পর দান করা ছিলো কষ্ট সাধ্য। ডিজিটাল দান বক্স এর মাধ্যমে এখন যে কোন সময় দান করা যাবে। কিউ আর কোড মসজিদের সামনে, দেয়ালে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিগোচর স্থানে আটকানো থাকে, ফলে এটি স্কেন করে খুব সহজেই দান করা যায়। ছজ কোডটি ছবি তুলে বিভিন্ন দোকান, অফিস আদালত, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাসা, জনবহুল স্থানে কপি করে সাঁটানো যায়। এর ফলে মানুষ চাইলে যে কোন সময় যে কোন স্হান থেকে দান করতে পারবে।
৩. স্বচ্ছ হিসাবরক্ষণ: প্রতিটি লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে রেকর্ড হয়, ফলে দাতার ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি থাকে স্বচ্ছ ও সুরক্ষিত।
৪. নিরাপত্তা নিশ্চয়তা: ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় আর্থিক নিরাপত্তা এবং হিসাবের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
৫. সময় ও খরচ সাশ্রয় : ডিজিটাল দান বক্স সময় ও খরচ সাশ্রয় করে। মাইকে কোন ব্যক্তি দান করার জন্য প্রচারণা করতে হবে না। এজন্য মসজিদের সময় ও খরচ সাশ্রয় হয়।
ইতোমধ্যেই চাঁদপুর শহরের আলীরেজা জামে মসজিদ, , দারুসসালাম মসজিদসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মসজিদে ডিজিটাল দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে। সেবা চালুর পর থেকেই এ উদ্যোগ ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানান, আগে যেখানে দিনে নির্দিষ্ট সময়ে কেউ দান করতেন, এখন দিনে যেকোনো সময়, এমনকি ঘরে বসেও মুসল্লিরা মসজিদের জন্য দান পাঠাতে পারছেন।
“ইসলামি ব্যাংক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে এই প্রকল্প শুরু করেছে। ইসলামি ব্যাংক সবসময় প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে ব্যবহারের পক্ষে। ডিজিটাল দানবাক্স সেবার মাধ্যমে এ ব্যাংক দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিল ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ এবং নিরাপদ করবে। চাঁদপুরে এই সেবার সফলতা দেখে অন্যান্য মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্টান এটি চালুর পরিকল্পনা শুরু করেছে । ভবিষ্যতে মাদ্রাসা, এতিমখানা ও দাতব্য প্রতিষ্টান গুলোতেও এই ডিজিটাল দানবাক্স স্থাপন করা হবে।
স্থানীয় মুসল্লি ও সাধারণ জনগণ ইসলামি ব্যাংকের এই আধুনিক সেবাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছেন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আগে ছোটখাটো দান করলেও মনে হতো, হিসাব হয়তো ঠিক থাকে না। এখন আমি নিশ্চিত থাকি, আমার দান সঠিক স্থানে যাচ্ছে এবং তার ব্যবহারও যাচাইযোগ্য।”
ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর ডিজিটাল দানবাক্স সেবা নিঃসন্দেহে দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক খাতে এক নবদিগন্ত উন্মোচন করেছে। এটি শুধু ব্যাংকিং খাতেই নয়, বরং একটি প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে অবদান রাখবে বলে আশা করা যায়।-বিজ্ঞপ্তি।



