আয়নাতলী বাজারে মানবিক কারণে অর্ধ শতাধিক দোকান না ভাঙার অনুরোধ ব্যবসায়ীদের

শাহরাস্তি (চাঁদপুর): চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের আয়নাতলী বাজারে সরকারি খালের উপর গড়ে উঠা অর্ধ শতাধিক দোকান না ভাঙ্গতে প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছেন ওই বাজারের ব্যবসায়ীরা। খালের পাড়ে দোকান গড়ে উঠায় আশপাশের কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে নিজ উদ্যোগে এক্সকেভেটর দিয়ে খাল পরিষ্কার করে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করেছে বাজারের ব্যবসায়ীরা।

জানা যায়, উপজেলার আয়নাতলী মৌজার অন্তর্ভুক্ত ওই বাজারে সড়ক ও জনপথের রাস্তার পূর্ব পাশে খালের উপর গড়ে উঠা এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থানীয়ভাবে খালপাড়ের দোকান নামে পরিচিত। যুগ যুগ ধরে দখল সূত্রে মালিক বা ভাড়াটিয়া হয়ে এসব দোকানে ব্যবসা করে আসছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। গত জুন মাসে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর শারমিন আক্তার স্বাক্ষরিত নোটিশে অবৈধভাবে নির্মিত এসব অবকাঠামো নিজ দায়িত্বে অপসারণ করে সহকারি কমিশনার (ভুমি) শাহরাস্তির নিকট ভুমির দখল বুঝিয়ে দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। খাল দখলমুক্ত করতে ইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার তাগিদ দেয়া হয়েছে।

সরেজমিনে ওই বাজারে গিয়ে ব্যবসায়িদের সাথে আলাপকালে তারা নোটিশ প্রাপ্তির কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠা এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিলে তাদের পথে বসতে হবে বলে হতাশা ব্যক্ত করেন।

বাজারের ফল ব্যবসায়ী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, অনেক কষ্টে ঋণ নিয়ে এ ব্যবসা শুরু করেছি। দোকানের আয় দিয়েই আমার ৬ সদস্যের সংসার চলে। দোকান ভাঙ্গলে আমরা কর্মহীন হয়ে যাব, আর বাজারের অন্য পাশে গড়ে উঠা মার্কেটের মালিকরা লাভবান হবে। তাদের মার্কেটে ভাড়া হয় না এজন্য আমাদের দোকান ভেঙ্গে ওখানে ভাড়া দেয়ার জন্য তারা উঠেপড়ে লেগেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের কাছে আমাদের অনুরোধ মানবিক কারনে যাতে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা করা হয়। আমরা যাতে সন্তানাদি নিয়ে কোনমতে জীবন যাপন করতে পারি।

কাপড় ব্যবসায়ী মোঃ কবির হোসেন, আমরা তো অসহায়, আমরা কি করবো? আমাদের কোন উপায়ও নেই। এই দোকান ছাড়া আমার আর কিছুই নেই, আমি হার্টের অপারেশন হয়েছি। খুব মানবেতর জীবন যাপন করছি। এই দোকান ছাড়া আমার কোন সম্বল নেই।

দর্জি দোকানি পরীক্ষিত জানান, এখানে দোকানদারি করেই আমাদের জীবন চলে। এতেই আমাদের জীবিকা। সরকারের কাছে অনুরোধ মানবিক কারনে যাতে আমাদের দোকানগুলো না ভাঙ্গা হয়।

লণ্ড্রী দোকানি অতুল চন্দ্র দাস জানান, আমরা গরীব মানুষ, আমরা কোথায় যাব? জায়গা-সম্পদ কিছুই নাই। এ দোকানের উপর নির্ভর করেই আমরা চলি।

আরেক ব্যবসায়ী চাঁদ মিয়া জানান, আমরা বহু বছর ধরে ব্যবসা করে আসছি। দোকান ভাঙ্গলে গরীবের পেটে লাথি পড়বে।

বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি মোঃ তাজুল ইসলাম জানান, খালপাড়ে ভাঙলে এখানকার লোকজন কোথায় যাবে? ৪৪ বছরের বেশি সময় ধরে এসব দোকান। এখন ভেঙ্গে ফেললে এসব লোকজন পথে বসতে হবে।  দোকান ভাঙ্গলে যেন সরকারের পক্ষ থেকে বিকল্প ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।

ফম/এমএমএ/

ফয়েজ আহমেদ | ফোকাস মোহনা.কম