শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে ওই নারীর মৃত্যু হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর প্রায় ১ ঘণ্টা আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বারবার অনুরোধের পরও কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীকে দেখতে না এসে নিজের কক্ষে স্মার্ট মোবাইল দেখছিলেন।
হাজেরা বেগম লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা বাজার ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের শেখের বাড়ির বাসিন্দা ও আক্তার হোসেনের স্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাজেরা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তারা কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. প্রিয়াঙ্কাকে রোগীকে দেখতে আসার অনুরোধ করেন। এ সময় চিকিৎসক রোগীর কাছে না এসে নিজের কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্বজনদের অনুরোধের পর চিকিৎসক রোগীকে বেড থেকে কাঁধে করে তার কক্ষে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। এ সময় রোগীর স্বামী আক্তার হোসেন একার পক্ষে তার স্ত্রীকে কাঁধে করে চিকিৎসকের কক্ষে নিয়ে আসা সম্ভব নয় জানালে চিকিৎসক রোগীকে অক্সিজেন দেওয়ার পরামর্শ দেন বলে স্বজনদের দাবি। এর কিছুক্ষণ পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাজেরা বেগমের মৃত্যু হয়।
হাজেরা বেগমের স্বামী আক্তার হোসেন বলেন, আমার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। ডাক্তারকে বারবার অনুরোধ করার পরও তিনি রোগীকে দেখতে আসেননি। তিনি চিকিৎসা দিলে হয়ত এ ঘটনা ঘটত না।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. প্রিয়াঙ্কার বক্তব্য জানতে গেলে সাংবাদিকদের বক্তব্য নিতে বাধা দেন হাসপাতালের কার্ডিওলজি কনসালট্যান্ট ডা. জয়ন্ত মালাকার।
তিনি নিজেকে ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন দাবি করে জানান, চিকিৎসকের কর্তব্যে অবহেলা সংক্রান্ত রোগীর স্বজনদের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের সব বিষয়ের দায় তিনি নেবেন এবং চিকিৎসকের পক্ষ থেকে সব ধরনের বক্তব্য তিনিই দেবেন।
কথোপকথনের একপর্যায়ে ডা. জয়ন্ত মালাকার বলেন, ওই রোগীর আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন ছিল। লিভারের জটিল চিকিৎসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সম্ভব নয় বলেও তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নাছের শাকিল মুঠোফোনে বলেন, কর্তব্যে অবহেলার বিষয়টি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




