চাঁদপুর: দীর্ঘদিনের একনায়কতান্ত্রিক চর্চার অবসান ঘটিয়ে এই অভ্যুত্থান রাষ্ট্রে নতুন এক ভারসাম্য তৈরির তাগিদ দিয়েছে। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতা চর্চা, সংবিধানে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি বড় ধরনের চাপ হিসেবে কাজ করবে।
২০২৪ সালের ৩১ জুলাই ছিল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন এবং জামায়াতে ইসলামীর জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর সময়। ওই দিন তৎকালীন সরকার দলটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা পরদিন ১ আগস্ট কার্যকর করা হয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকরের মাত্র তিন দিনের মাথায় গণআন্দোলনের মুখে সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
জুলাই বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে শুক্রবার (৩১ জুলাই) বাদ জুমা চাঁদপুর বাস স্ট্যান্ড মসজিদে গোরে গরিবায় চাঁদপুর শহর জামায়ের উদ্যোগ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অ্যাড. মো. শাহজাহান মিয়া।
চাঁদপুর শহর জামায়ের আমির অ্যাড. মো. শাহজাহান খানের সভাপত্বিতের অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বাস স্ট্যান্ড গোরে গরিবা মসজিদের নতুন খতিব আলহাজ্ব মাওলানা মাকসুদুর রহমান। অনুষ্ঠানে শহর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ শত শত মুসল্লিগণ অংশগ্রহণ করেন।
এসময় অ্যাড. মো. শাহজাহান মিয়া আরো বলেন, বলেন, ক্ষমতা যে চিরস্থায়ী নয় এবং জনগণের সম্মতি ছাড়া শাসন চালানো সম্ভব নয়এই বার্তা এই অভ্যুত্থান স্পষ্ট করেছে। ভবিষ্যতে যেকোনো সরকার বা রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে, যা স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা দেবে। আমরা জুলাই আন্দোলনে শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং যারা আহত হয়েছেন তাদের আরোগ্য কামনা করছি।
শহর জামায়াতের আমির অ্যাড. মো. শাহজাহান খান বলেন, তরুণ ও শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ও নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাব এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বাস্তব রূপ পেয়েছে। প্রথাগত রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে তরুণদের নাগরিক দাবি আদায় ও রাষ্ট্র সংস্কারে ভূমিকা রাখার এই দৃষ্টান্ত ভবিষ্যতে নীতি-নির্ধারণে তরুণদের অংশগ্রহণকে অপরিহার্য করে তুলবে।
আইনের শাসন ও সুশাসনের ঘাটতি কাটাতে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার রক্ষার ওপর নতুন করে জোর তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিতার যে দাবি উঠেছে, তা ভবিষ্যতে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে।
ফম/এমএমএ/



