
অঞ্জনা খান মজলিস। ছবি: সংগ্রহীত।
সরকারি কর্মকর্তারা আসেন, দায়িত্ব পালন করেন, তারপর একসময় বদলি হয়ে চলে যান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অধিকাংশ নামই মানুষের স্মৃতি থেকে হারিয়ে যায়। কিন্তু ব্যতিক্রমও আছে। কিছু মানুষ তাঁদের কর্ম, সাহস, সততা ও জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। চাঁদপুরের মানুষের কাছে তেমনই একটি নাম-অঞ্জনা খান মজলিশ।
‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’ এই জেলার প্রশাসনিক ইতিহাসে বহু দক্ষ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে স্থানীয় অনেকের মতে, দায়িত্ব পালনকালে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া, প্রশাসনিক দৃঢ়তা এবং আপসহীন অবস্থানের কারণে অঞ্জনা খান মজলিশ একটি আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে সদস্য (অর্থ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রশাসনের বাস্তবতা প্রায়ই কঠিন। নীতি ও আইনের প্রশ্নে আপস না করলে একজন কর্মকর্তাকে নানা ধরনের চাপ, বিরোধিতা, সমালোচনা এমনকি ব্যক্তিগত ঝুঁকিরও মুখোমুখি হতে হয়। চাঁদপুরে দায়িত্ব পালনকালে অঞ্জনা খান মজলিশকেও এমন নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করতে হয়েছিল বলে সে সময়ের বিভিন্ন আলোচনা ও স্থানীয়দের স্মৃতিচারণে উঠে আসে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি সরকারি সম্পদ সংরক্ষণ, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। বিশেষ করে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত বিতর্ক, নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন প্রতিরোধ এবং সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহারের প্রশ্নে তাঁর ভূমিকা নিয়ে সে সময় ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। সমর্থকদের দাবি, এসব ক্ষেত্রে তাঁর প্রশাসনিক পদক্ষেপ সরকারের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি কমাতে সহায়ক হয়েছিল।
এসব পদক্ষেপের কারণে সে সময়ের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল-এমন আলোচনাও দীর্ঘদিন ধরে চাঁদপুরের জনপরিসরে রয়েছে। এছাড়াও স্থানীয়দের দাবী, দায়িত্ব পালনকালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং নানা ধরনের চাপের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও মূল্যায়ন ভিন্ন হতে পারে।
ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে একজন পেশাদার প্রশাসক হিসেবেই পরিচিত। তাঁর বাবা ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। পারিবারিকভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের আত্মীয়-স্বজন থাকলেও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে তিনি নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেছেন-এমন মূল্যায়নও অনেকের।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক ফাইলের ধুলো জমে, দায়িত্ব বদলায়, ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। কিন্তু মানুষের স্মৃতিতে থেকে যায় কিছু কাজ, কিছু সিদ্ধান্ত, কিছু সাহসী অবস্থান। চাঁদপুরের বহু মানুষের কাছে অঞ্জনা খান মজলিশ সেই স্মৃতিরই একটি অংশ।
আজও জেলার বিভিন্ন আড্ডা, সামাজিক পরিসর কিংবা নাগরিক আলোচনায় তাঁর নাম উঠে আসে। কেউ তাঁকে একজন কঠোর প্রশাসক বলেন, কেউ একজন সৎ কর্মকর্তা, আবার কেউ একজন জনস্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্রকর্মী হিসেবে মূল্যায়ন করেন। এই মূল্যায়ন অবশ্য ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে, তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, দায়িত্ব শেষ হওয়ার বহু বছর পরও তাঁকে ঘিরে আলোচনা থেমে যায়নি।
রাষ্ট্র পরিচালনায় সৎ, দক্ষ ও সাহসী প্রশাসনের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। কারণ উন্নয়ন শুধু ভবন নির্মাণে নয়, বরং সুশাসন, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং আইনের সমান প্রয়োগের মধ্যেই টেকসই হয়। আর সেই কারণেই চাঁদপুরের অনেক মানুষের বিশ্বাস-দেশের প্রতিটি জেলায় যদি দায়িত্বশীল, নীতিবান ও জনস্বার্থে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ প্রশাসক তৈরি হয়, তবে রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থাও আরও সুদৃঢ় হবে।
হয়তো এ কারণেই সময়ের ব্যবধান সত্ত্বেও চাঁদপুরের মানুষের মুখে আজও ফিরে আসে একটি নাম-অঞ্জনা খান মজলিশ।
জানা যায়, ছাত্রজীবনে কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে তিনি জড়িত ছিলেন না। তাঁর বাবা ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। আপন চাচারাও কেউ রাজনীতির সাথে জড়িত নয়। তবে তাঁর বাবার তিন চাচাতো ভাই রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তার মধ্যে দাউদ খান মজলিশ ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের তথ্য উপদেষ্টা। আরেক চাচাতো ভাই ইয়াহিয়া খান মজলিশ ছিলেন সিরাজগঞ্জ -৬ আসনের বিএনপির এমপি, আরেক চাচাতো ভাই সামসুদ্দোহা খান মজলিশ ছিলেন ঢাকা-১৮ এর আওয়ামী লীগের এমপি। এজন্য আওয়ামী আমলে বিএনপির এমপি ও উপদেষ্টার জন্য তাঁকে বিপদে পড়তে হয়েছিলো, আর এই সময়ে আওয়ামী এমপি চাচার জন্য বিব্রত হয়েছিলেন।
আরো জানা যায়, চাঁদপুরে ডিসি থাকাকালীন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, লিখিত প্রতিবাদও করেছিলেন। দিপু মনির ভাই জে আর ওয়াদুদ টিপুর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। এজন্য তাঁকে চাকরী হারানোসহ প্রাণ সংশয়েও পড়তে হয়েছিলো। ঐ সময়ে দিপুমনির লোকজন তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানাভাবে অপপ্রচার করেছিলো।
সেই অঞ্জনা খান মজলিশকে নিয়ে নানা অপপ্রচার করতে আজও দুস্কৃতিরা কারীরা থেমে নেই। বর্তমান বাংলাদেশে এমন অঞ্জনা খান মজলিশ প্রতি ঘরে ঘরে দরকার বলে মনে করেন চাঁদপুরবাসী। আরো মনে করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার প্রতিশ্রুতি “সবার আগে বাংলাদেশ” গড়তে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এমন অঞ্জনা খান মজলিশদেরই দরকার।
ফম/এস.পলাশ/এমএমএ/



