চাঁদপুর : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় প্রবাসী ছেলের জন্য ওষুধ পাঠাতে এসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন খাদিজা বেগম (৫০) নামে এক গৃহবধূ। অটোরিকশায় ওঠার অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় দ্রুতগতির একটি হাইচ গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেড়িবাঁধ সড়কে দীর্ঘদিন ধরেই বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল করলেও কার্যকর নজরদারির অভাবে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে।
সোমবার (২১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার তাতুয়া এলাকার বেড়িবাঁধ সংলগ্ন পাকা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত খাদিজা বেগম মতলব দক্ষিণ উপজেলার খিদিরপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের স্ত্রী। তিনি এক ছেলে ও তিন মেয়ের জননী। পরিবারের একমাত্র ছেলে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে কর্মরত।
স্বজনদের ভাষ্য, ছেলের প্রয়োজনীয় ওষুধ বিদেশে পাঠানোর উদ্দেশ্যে তিনি তাতুয়া এলাকায় এসেছিলেন। কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার জন্য রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে একটি অটোরিকশায় ওঠার অপেক্ষা করছিলেন। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির হাইচ গাড়ি তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর গাড়িটি না থেমেই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সোহাগ হালদার বলেন, “খাদিজা বেগম অটোরিকশায় ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হঠাৎ দ্রুতগতির একটি হাইচ গাড়ি এসে তাকে ধাক্কা দেয়। আমরা দৌড়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করি। হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার আগেই তিনি মারা যান। চালক এক মুহূর্তের জন্যও গাড়ি থামায়নি।”
স্থানীয়রা বলছেন, তাতুয়া বেড়িবাঁধ সড়কে প্রায়ই অতিরিক্ত গতিতে হাইচ, পিকআপ ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। সড়কটিতে গতি নিয়ন্ত্রণ কিংবা নিয়মিত ট্রাফিক তদারকি না থাকায় পথচারীরা সবসময় ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তাদের দাবি, এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি ঘাতক চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সড়কটিতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে মতলব উত্তর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের কপাল, গাল, হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি একটি সড়ক দুর্ঘটনা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘাতক হাইচ গাড়িটি শনাক্তে কাজ চলছে। আশপাশের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। চালককে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফম/এমএমএ/



