
চাঁদপুর: চাঁদপুর শহরের হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তখন উৎসবমুখর পরিবেশ। বিশাল এলইডি স্ক্রিনে চলছে আর্জেন্টিনা বনাম জর্ডানের ফুটবল ম্যাচ। প্রিয় দলের খেলা দেখতে সকাল থেকেই জড়ো হয়েছেন অসংখ্য ফুটবলপ্রেমী। কারও চোখ মাঠে নয়, সবার দৃষ্টি এলইডি স্ক্রিনে। উত্তেজনা, আলোচনা আর খেলার আবহে মুখর ছিল পুরো এলাকা।
ঠিক সেই সময় মাঠের একপাশে অবস্থিত চিশতিয়া জামে মসজিদের সামনে শুরু হয় ভিন্ন এক আয়োজন একজন মানুষের শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি। ধীরে ধীরে সেখানে জড়ো হতে থাকেন স্বজন, প্রতিবেশী ও মুসল্লিরা। শুরু হয় জানাজার নামাজের প্রস্তুতি।
মুহূর্তেই বদলে যায় দৃশ্যপট। খেলার উত্তেজনার মাঝেই মোশারফ ফাউন্ডেশনের আয়োজকরা এলইডি স্ক্রিন বন্ধ করে দেন। মাইক্রোফোনে ঘোষণা আসে সকলকে জানাজার নামাজে অংশগ্রহণের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। শুধু ঘোষণা দিয়েই দায়িত্ব শেষ হয়নি, খেলার জন্য ব্যবহৃত মাইক্রোফোনটিও জানাজার নামাজ পরিচালনার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়।
এরপর এক ভিন্ন দৃশ্যের জন্ম হয়। কিছুক্ষণ আগেও যারা প্রিয় দলের জয়-পরাজয়ের হিসাব করছিলেন, তারাই খেলা দেখা বন্ধ রেখে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে যান একজন মানুষের শেষ বিদায়ের প্রার্থনায়।
জানাজা শেষে আবার চালু হয় খেলা। ফিরে আসে ফুটবলের উত্তেজনা। তবে এর মাঝখানে কিছু সময়ের জন্য যেন একটি বার্তা ছড়িয়ে যায় জীবনের আনন্দের পাশাপাশি মানবিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধের স্থানও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
শোয়েবসহ উপস্থিত অনেকেই বলছেন, এটি শুধু খেলা বন্ধ করার ঘটনা নয়; বরং এটি একটি বার্তা যেখানে বিনোদনের মাঝেও মানুষের প্রতি দায়িত্ব ও মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
মোশারফ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মারজুক মুঈদ ঐশ্বর্য বলেন, খেলাধুলার আনন্দ ও বিনোদনের পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতিও তারা সমান গুরুত্বারোপ করে থাকে। সেই সচেতনতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির অংশ হিসেবে জানাজার নামাজ শুরু হওয়ার আগেই মাঠে স্থাপিত এলইডি স্কিন বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে উপস্থিত সকল দর্শক ও এলাকাবাসী নির্বিঘ্নে জানাজায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। এতে ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি সামাজিক সহমর্মিতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্তও সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মাঠের পার্শ্ববর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম চলমান থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ যাতে কোনোভাবে বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এজন্য মাঠে সকল ধরনের আতশবাজি ফোটানো, অতিরিক্ত হইহুল্লো, উচ্চ শব্দে স্লোগান কিংবা শব্দদূষণ সৃষ্টি করতে পারে এমন কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে খেলাধুলার পাশাপাশি সামাজিক শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধেরও একটি সুন্দর সমন্বয় লক্ষ্য করা গেছে।
ফম/এমএমএ/



