হটক্রিহটক্রিম কি আইসক্রিমের বিকল্প হতে পারে?

।। রাসেল ইব্রাহীম।। আইসক্রিম – যা সবার খেতে মন চায় কিন্তু চিকিৎসকের নিষেধ থাকলে তা কি আর খাওয়া যায়? খেলেও কি ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়?

তাই গীতিকার,খাদ্য গবেষক, কলামিস্ট ও ফরিদগঞ্জ আদর্শ একাডেমির শিক্ষক রাসেল ইব্রাহীম নতুন খাবারের ধারণা দিয়েছেন। আর তা হলো– হটক্রিম।

হটক্রিম কী?

এটি একটি সম্পূর্ণ নতুন উষ্ণ ডেজার্ট,যা খেতে হুবহু আইসক্রিমের মতো ক্রিমি ও সুস্বাদু, কিন্তু ঠান্ডা নয়—কুসুম গরম অবস্থায় পরিবেশন করা হয়।

চিকিৎসকের নির্দেশে যারা(শিশু/ শিক্ষার্থী / ইয়ং/ এডাল্ট) কোল্ড এলার্জি বা অন্যকোনো কারণে আইসক্রিম খেতে পারে না কিংবা ঠান্ডা খেতে পারে না কিন্তু আইসক্রিমের স্বাদ পেতে চায়, তারা খাবে হটক্রিম। তাই চিকিৎসকের নির্দেশ অমান্য করার সুযোগ থাকবে না এবং কাঙ্ক্ষিত লাইফস্টাইল মেইনটেইন করা যাবে।

তাছাড়া শীতকালে কর্মসংস্থান হ্রাস পাবে না। যেকোনো ঋতুতে হটক্রিম বিক্রি হবে। আইসক্রিম নর্মাল হলে ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হয়, তখন এটি খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যায়।গলে যাওয়া আইসক্রিম খেলে ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া বা পেট খারাপ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। কিন্তু হটক্রিম নর্মাল হলেও খাওয়া যায়।

হটক্রিম তৈরির উপাদান: তরল দুধ, হুইপড পাউডার,কনডেন্সড মিল্ক/ মধু, ভ্যানিলা এসেন্স/চকলেট ফ্লেভার( যেকোনো পছন্দনীয় ফ্লেভার),কর্নফ্লাওয়ার/ ময়দা,বাদাম।

যেভাবে হাফ লিটার দুধ দিয়ে বানাবেন:ধারাবাহিক কাজ–

১ নম্বর বাটি:(ডিম ও কর্নফ্লাওয়ার মিক্স)

কী নেব?

– ১/৪ কাপ নর্মাল দুধ + ১টি ডিমের কুসুম + ২/৩ টেবিল চামচ কর্নফ্লাওয়ার(এটি ঘনত্ব বাড়ায়)।

কাজ: চামচ দিয়ে খুব ভালো করে নাড়তে হবে।

২ নম্বর বাটি (দুধ ও হুইপড পাউডার মিক্স)

কী নেব?: ১/২ কাপ নর্মাল দুধ +৪

টেবিল চামচ/ ৫০ গ্রাম হুইপড পাউডার মিশিয়ে নাড়তে হবে বিটার দিয়ে এবং ফোমের মতো বানাতে হবে।

কাজ: এটিও ভালো করে নেড়ে/ ব্লেন্ড করে নিতে হবে) । (আলাদা বাটিতে গুললে সুবিধা হলো এটি ক্রিমের রিচনেস ধরে রাখবে)।

সসপ্যান/ পাতিলে(দুধ ও কনডেন্সড মিল্ক)

কী নেব?: বাকি তরল দুধ + আধা কাপ কনডেন্সড মিল্ক( প্রয়োজনে পর্যাপ্ত মিষ্টি স্বাদ পেতে বাড়ানো যাবে),সাথে মন চাইলে ১/২ চামচ চিনি।

কাজ: চুলায় মাঝারি আঁচে ফুটিয়ে নিব।

চুলায় যেভাবে মেলাব (গুরুত্বপূর্ণ ধাপ):

১. সসপ্যানের দুধ ফুটে উঠলে চুলার আঁচ একদম কমিয়ে দেব।

২.পরপরই ১ নম্বর বাটির ডিম ও কর্নফ্লাওয়ারের মিক্সটি অল্প অল্প করে ঢালব এবং অন্য চামচ দিয়ে অনবরত নাড়তে থাকব যেন ডিম জমাট না বাঁধে।

৩. এরপর তাপ কমিয়ে ১ নম্বর বাটির হুইপড পাউডারের মিক্সটি দুধে ঢেলে দ্রুত নাড়তে হবে।

৪. ৩-৪ মিনিট নাড়লেই মিশ্রণটি বাটি দিয়ে চামচে খাওয়ার মতো ঘন হটক্রিমে পরিণত হবে।

সবশেষে নামানোর আগে ভ্যানিলা এসেন্স/ বিভিন্ন প্রকার বাদাম/চকলেট ফ্লেভার দিয়ে বাটিতে ঢেলে নিতে হবে।

হটক্রিম বানিয়ে ৫/৬ মিনিটের মধ্যেই পরিবেশন করলে প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যাবে।

হটক্রিম খেলে যেসব উপকার হয়:

১. ঠান্ডা জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি

টনসিল ও সাইনাস রক্ষা: সাধারণ আইসক্রিম খেলে অনেকের টনসিল ফুলে যায় বা সাইনাসের সমস্যা বাড়ে। হটক্রিম গরম অবস্থায় পরিবেশন করা হয় বলে এই ঝুঁকি থাকে না।

কোল্ড অ্যালার্জি বান্ধব: শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ক যাদের ঠান্ডা জিনিসে অ্যালার্জি আছে, তারা কোনো শারীরিক অস্বস্তি ছাড়াই এটি উপভোগ করতে পারেন।

২. পুষ্টিগুণ ও শক্তি বৃদ্ধি

ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের উৎস: এটি তৈরিতে প্রচুর পরিমাণে তরল দুধ ও ডিমের ব্যবহার থাকায় এটি হাড় ও দাঁত মজবুত করতে সাহায্য করে।

তাৎক্ষণিক শক্তি (Energy): এতে থাকা ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট এবং প্রোটিন শরীরকে দ্রুত চাঙ্গা করে এবং ক্লান্তি দূর করে।

প্রোটিনের জোগান: ডিমের কুসুম এবং দুধের সংমিশ্রণ শরীরের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখে।

৩. মানসিক প্রশান্তি ও মেজাজ উন্নত করা

হ্যাপি হরমোন বৃদ্ধি: দুগ্ধজাত উপাদান থাকায় এটি মস্তিষ্কে ট্রিপটোফ্যান এবং সেরোটোনিন (হ্যাপি হরমোন) নিঃসরণে সহায়তা করে, যা মানসিক চাপ কমিয়ে মন ভালো করতে সাহায্য করে।

৪. ঘরে তৈরির কারণে স্বাস্থ্যসম্মত

সংরক্ষণকারী মুক্ত: এটি শতভাগ ঘরোয়া উপায়ে তাজা উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়। ফলে বাজারের আইসক্রিমের মতো এতে কোনো কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ বা ক্ষতিকর কেমিক্যাল থাকে না।

সতর্কতা: যেহেতু এতে কনডেন্সড মিল্ক বা চিনি এবং ফ্যাট থাকে, তাই ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।

লেখক: ফুড রিসার্সার, গীতিকার ও শিক্ষক।

ই-মেইল: russellibrahim1212@gmail.com

ফোকাস মোহনা.কম