চাঁদপুর: দীর্ঘ ১২বছর পর সাধারণ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব পাচ্ছে সাহিত্য একাডেমী চাঁদপুর। এনিয়ে স্থানীয় লেখকদের মাঝে উৎসবের আমেজ আর আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। যদি সাহিত্য একাডেমীর পথ চলা সমৃদ্ধ করতে ঐকান্তিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন চাঁদপুর জেলা জেলা প্রশাসক ও সাহিত্য একাডেমীর সভাপতি মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, সাহিত্য একাডেমী চাঁদপুর এর ১২০ সদস্যের সাধারণ ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয় গত ১৮ মার্চ। একাডেমীতে বর্তমানে সংরক্ষিত বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা করে সাধারণ সদস্যদের এ তালিকা করা হয়েছে। খসড়া তালিকায় অনেকের নাম বাদ যেতে পারে। পূর্বে সাহিত্য একাডেমীর সদস্য ছিলেন কিন্তু নিম্নবর্ণিত খসড়া তালিকায় নাম নেই, এমন কেউ থাকলে তাঁকে যথাযথ প্রমাণ সংযুক্ত পূর্বক ০৫ এপ্রিল ২০২৫ খ্রি. তারিখের মধ্যে সভাপতি, সাহিত্য একাডেমী ও জেলা প্রশাসক, চাঁদপুর বরাবরে আবেদন করার জন্য অনুরোধ জানা হয়েছে। এখানে অল্প কিছু সংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। সেসব আবেদন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
এরপর গত ১০ মে ২০২৫ তারিখ সকাল ১০টায় সাধারণ সভার সময় নির্ধারণ করা হয়। পরে সংশোধিত নোটিশের মাধ্যমে একই দিন বিকেল ৩টায় করা হয়। একপর্যায়ে ওই দিন সভা হবে মর্মে মৌখিক ভাবে জানানো হয়। সবশেষে গত ১১ তারিখ নতুন পরে সংশোধিত নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয় ১৬ মে বিকেল ৩টায় চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির এজিএম তথা বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। আজ সে কাক্সিক্ষত দিন। চাঁদপুরের তরুণ প্রবীণ সাহিত্যিকরা এ দিনটির অপেক্ষায় ছিলো বছরের পর বছর।
গত ১৮ মার্চ থেকে যারা বিভিন্ন পদে প্রার্থী হবে তারা সাধারণ ভোটারদের কাছে ভোট চাওয়া শুরু করেন। গত ১৫ দিনে সে ভোটের হিসেব নিকেষ আরো জটিল হয়ে উঠেছে। কে কাকে ভোট দিবে, কেন দিবে, সাহিত্যের অগ্রযাত্রায় তার অবদান কী? এমন আরো নানান প্রশ্নের সমীকরণ মেলাচ্ছেন ভোটাররা।
এদিকে বেশ কয়েক বছর যাবত ঝিমিয়ে থাকা সাহিত্য একাডেমী ভবনটি বর্তমানে কোলাহল মুখরিত সাহিত্যপ্রেমীদের আড্ডায়। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে সাহিত্যিক এবং সাহিত্য প্রেমীদের মধুর এই আড্ডা। আড্ডায় অংশ নিতে উপস্থিত হন জেলার বিভিন্ন স্থানে বসবাসকারী সাহিত্য প্রেমীরা। সাহিত্য আড্ডার পাশাপাশি পরিকল্পনা আঁকা হয় পরবর্তী প্রজন্মকে কিভাবে আরো সম্পৃক্ত করা যায় সাহিত্যের সাথে। আলোচনা দেখা সাক্ষাতে সাহিত্যিকদের মাঝে গড়ে উঠছে অটুট বন্ধন। সাহিত্য একাডেমীতে সাহিত্যিকদের ও সাহিত্য প্রেমীদের আড্ডার মাঝে উচ্ছ্বাস ছড়াচ্ছে আজকের সাহিত্য একাডেমীর এজিএম তথা নির্বাচন।
ইতিমধ্যে সাহিত্য একাডেমির বিভিন্ন পদে প্রার্থীদের ভোটারদের কাছে মুঠোফোনে চালিয়েছেন ভোটের আবদার। ভোটাররাও উৎসাহ নিয়ে শুনছেন প্রার্থীদের কথা। জানতে চাইছেন নির্বাচিত হলে কেমন পদক্ষেপ নেয়া হবে সাহিত্য একাডেমির উন্নয়নে এবং সাহিত্যচর্চার প্রচার প্রসারে।
চলতি সাহিত্য একাডেমী নির্বাচনে মোট ভোটার রয়েছেন ১২০জন। একাডেমীর সাংগঠনিক কাঠামো মোতাবেক পদ রয়েছে ২১টি। এর মধ্যে পদাধিকার বলে সভাপতি জেলা প্রশাসক। এছাড়াও সভাপতি কর্তৃক মনোনীত করা হবে আরো ৫টি পদে। এর মধ্যে সিনিয়র সহ-সভাপতি ১ জন, পরিচালক ১ জন ও কার্যনির্বাহী সদস্য ৩জন। বাকী ১৫টি পদে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হবেন। এসব পদের মধ্যে রয়েছে সহ সভাপতি ১ জন, মহাপরিচালক ১ জন, পরিচালক ৩ জন ও কার্যনির্বাহী সদস্য ১০ জন। সাহিত্য একাডেমী নির্বাচনে একজন ভোটার বিভিন্ন পদে ১৫টি ভোট প্রদান করতে পারবেন।
এদিকে একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্য চর্চার অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। এখন তারা কেউ কেউ প্রকাশ্যে এসে মিথ্যাচার করছে। গতকাল দুপুরে সাহিত্য একাডেমীর সামনে নির্বাচনকে বানচাল, অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে জেলার সর্বস্তরে লেখক সমাজ।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন পর চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমীর সাধারণ সভা হতে যাচ্ছে। এই সভায় সাধারণ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সাহিত্য একাডেমীর নিয়মিত কমিটি গঠন করা হবে। সাহিত্য একাডেমি নির্বাচনকে ঘিরে চাঁদপুর লেখকদের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে। অথচ দুই একজন ব্যক্তি চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য অপপ্রচার এবং মিথ্যাচার করছে। তারা জেলা প্রশাসনের এই সুন্দর প্রয়াসকে বানচাল করতে উঠে পড়ে লেগেছে।
বক্তারা আরো বলেন, মূলত তাদের ক্ষোভ হলো সাহিত্য একাডেমী সদস্য হতে না পারা। গত এক বছর পূর্বে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে স্থানীয় সকল পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সাহিত্য একাডেমীর সদস্য আহবান করা হয়। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে এক লেখক অপর লেখকের সাথে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন সুদীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাথমিক সদস্য থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিক সদস্য পরে সাধারণ সদস্য করেন। পাশাপাশি যারা অলেখক তাদেরকে সদস্য থেকে বাতিল করেন।
পরবর্তীতে সাহিত্য একাডেমীর ইতিহাস এই প্রথমবারের মতো সাধারণ সভার আহবান করে প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্মিত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসন। এখন যারা সাহিত্য একাডেমির নির্বাচন নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে তারা কেউ তখন সদস্য হওয়ার জন্য আগ্রহ দেখায়নি। এখন নির্বাচনের উৎসব দেখে গাত্রদাহ থেকে তারা মূলত এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সাহিত্য একাডেমী চাঁদপুর এর সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন জানান, সাহিত্য একাডেমী সরব করতে আমি একটি কমিটি গঠন করে দেয়ার চেষ্টা করছি। তবে এ নিয়ে যেনো কোনো প্রশ্ন তৈরি না হয় সে বিষয়টিও দেখছি। যেহেতু আজ সাধারণ সভা, সাধারণ সদস্যদের অধিকাংশের মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
ফম/এমএমএ/


