ময়না তদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন হবে চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তার ছেলের মরদেহ

চাঁদপুর : ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণপিটুনিতে নিহত চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তাঁর ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের মরদেহ দুই বছর পরে ময়না তদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ঘটনার পর পরিস্থিতির কারণে ময়না তদন্ত ছাড়াই তাদেরকে নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ।

ওসি ফয়েজ আহমেদ বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি কবর থেকে উত্তোলনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আবেদনটি অনুমোদন করেছেন। তবে কবে মরদেহ দুটি উত্তোলন করা হবে, সে তারিখ এখনো নির্ধারণ হয়নি।

ওসি আরো বলেন, ২০২৪ সালে চেয়ারম্যান ও তার ছেলে নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এই ঘটনায় মডেল থানা পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করে। ওই মামলায় আদালত ময়না তদন্তের নির্দেশ দেয়। মামলাটির বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা হচ্ছেন শহরের নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) চাঁদ মিয়া।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সন্ধ্যায় এলাকা ছাড়ার সময় সেলিম খান ও তাঁর ছেলে শান্ত খান একটি গাড়িতে ছিলেন। তাঁরা চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের চাপিলা গ্রামের হাফেজিয়া মাদ্রাসা এলাকায় পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ জনতার মুখে পড়েন। সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেও পরে পাশের বাগড়া বাজার এলাকায় তাঁদের গাড়ি আটকে যায়। সেখানে জনতার পিটুনিতে সেলিম খান ও তাঁর ছেলে শান্ত খান নিহত হন।

পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সে সময়ের পরিস্থিতিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পরে তাঁদের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর গ্রামের খান বাড়িতে দাফন করা হয়।

সেলিম খান চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব ছিল বলে বিভিন্ন সময় স্থানীয়ভাবে আলোচনা ছিল। রাজনীতির পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তাঁর ছেলে শান্ত খান চলচ্চিত্রে অভিনয় করতেন।

সেলিম খানের বিরুদ্ধে পদ্মা ও মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলাও চলমান ছিল। পাশাপাশি বালু উত্তোলনের ঘটনায় তৎকালীন জেলা প্রশাসক তার বিরুদ্ধে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়ায় টাকা আদায়ের মামলা করেন।

এ ছাড়া চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়েও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম