চাঁদপুর: চাঁদপুরের বানের পানিতে শাহরাস্তি উপজেলা ও জলাবদ্ধতায় সদর এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলায় অধিকাংশ পোল্ট্রি খামারগুলো পানিতে তলিয়েগেছে। তবে খামারিদের সঠিক তথ্য বলতে পারছে না উপজেলাগুলোর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা।
গত কয়েকদিন জেলার শাহরাস্তি, ফরিদগঞ্জ, সদর ও হাইমচর উপজেলা ঘুরে দেখাগেছে, বসতবাড়ির সাথে খড়ের গাদা, গোয়ালঘর ও পোল্ট্রি ফার্মগুলো পানির নীচে তলিয়ে আছে।
শাহরাস্তি উপজেলার সূচিপাড়া উত্তর, সুচিপাড়া দক্ষিণ, চিতোষী ইউনিয়নের বহু গ্রাম কুমিল্লা, ফেণী ও নোয়াখালী জেলার বানের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। যার ফলে এসব এলাকার প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। লোকজন আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই নিলেও গবাদি পশু নিয়ে অনেকে আছেন বিপাকে। আর পোল্ট্রি খামারগুলো পানিতে তলিয়ে।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল্লাহ আল শামীম বলেন, বানের পানিতে এখন পর্যন্ত উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলে ১৫টি পোল্টি খামার পানিতে তলিয়েছে। ব্যাক্তি কেন্দ্রিক পালন করা ২০০-২৫০টি গবাদি পশু আশ্রয় কেন্দ্রে আনা হয়েছে। এগুলোর খাবার সংকট আছে। আমরা ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, গবাদি পশুর বড় ধরণের কোন খামার এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে এই এলাকায় প্রায় ১০টি খামার আছে। আমাদের মাঠ কর্মীরা কাজ করছে। কিছুদিন পরে খামারিদের তালিকা ও ক্ষতি নির্ণয় করা হবে।
চাঁদপুর সদরের বাগাদি, বালিয়া ও চান্দ্রা ইউনিয়নে টানা বৃষ্টিতে তৈরী হয়েছে জলাবদ্ধতা। যে কারণে অধিকাংশ খড়ের গাদা, পোল্ট্রি ফার্ম পানির নিচে। চান্দ্রা ইউনিয়নের মদনা এলাকার খামারি রহমান জানান, পানি আসার কারণে ছোট সাইজের মুরগি বিক্রি করে দিয়েছি। পানি না কমলে বুঝা যাবে খামারে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।
একই ইউনিয়নের গাইনগো দীঘির এলাকার খামারি মনির হোসেন। তিনি বলেন, খামার তলিয়ে যাওয়ার কারণে আপাতত মুরগি লালন পালন বন্ধ। আমাদের এলাকার আরও কয়েকজনের খামারের একই অবস্থা। গত এক সপ্তাহে পানি কমছে না।
সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মকবুল হোসেন বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পোল্ট্রি ফার্মের তালিকা তৈরী করিনি। আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা কাজ করছে।
চাঁদপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ জ্যোতির্ময় ভৌমিক বলেন, জেলার শাহরাস্তি, ফরিদগঞ্জ ও সদর উপজেলায় বানের পানি ও অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরী হয়েছে। জেলায় খামারিদের তথ্য এখন পর্যন্ত আসেনি। উপজেলা থেকে তথ্য আসলে তখন পরিসংখ্যান বলা যাবে।
ফম/এমএমএ/



