
চাঁদপুর : দেশের অন্যতম অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ফ্লাইট এক্সপার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সালমান বিন রশিদ শাহ সাইম এর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কাদলা ইউনিয়নের মুরাদপুর গ্রামের ব্যাপারী বাড়ি। গত কয়েক বছর তাদের এই ব্যবসায় জড়িয়েছেন কচুয়া ও পাশবর্তী ফরিদগঞ্জ উপজেলার বহু লোকজন। এর মধ্যে এই প্রতিষ্ঠান থেকে একজন ব্যবসায়ী পাবেন ৫৪ লাখ টাকা। আরো বেশ কয়েকজন পাবেন ১ থেকে সর্বোচ্চ ৩লাখ টাকা। বিমানের টিকিট ক্রয় এবং অগ্রিম বুকিং দিয়ে তারা এখন ভুক্তভোগী।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে ওই গ্রামের কয়েকজন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যাক্তির সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানাগেছে। তবে সাইমদের বাড়িতে (ব্যাপারী বাড়ি) গিয়ে স্বজন কাউকে পাওয়া যায়নি। বাড়ির লোকজনও তাদের বিষয়ে কথা বলতে অনিহা প্রকাশ করেন। সাইম এর বাবা এম এ রশিদ শাহ্ সম্রাট ও তার চাচা ইয়াছিন ব্যাপারীর বাড়িতে বসত ভিটা থাকলেও কোন ঘর নেই।
ওই বাড়ির তপু ব্যাপারীর স্ত্রী বলেন, রশিদ শাহ্ ও তার ভাই ইয়াছিন গত ১৫ বছর আগে বাড়ি থেকে ঢাকায় চলে যান। সর্বশেষ গত তিন বছর পূর্বে তাদের বাবা মারাগেলে বাড়িতে আসেন। আর দুই মাস পূর্বে তাদের বসতঘর দুটি বিক্রি করে দিয়েছেন ওই বাড়ির সাখাওয়াত পরিবারের কাছে। বর্তমানে তাদের দুটি বসতঘরের ভিটা খালি পড়ে আছে। বাড়ির লোকদের কাছে বসতভিটা বিক্রির প্রস্তাব দিলেও রাজি না হওয়ায় এখন পর্যন্ত অবিক্রিত।
কাদলা ইউনিয়ন শ্রমিকদল সভাপতি মো. জহির মুন্সি বলেন, ফ্লাইট এক্সপার্ট নামে কোম্পানীর এমডি সাইম ও তার বাবা রশিদ শাহ্ অফিস থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরপরই আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। এরপর টেলিভিশনেও সংবাদ প্রচার হওয়ার পর এলাকার লোকজন ঘটনাটি জানতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের ইউনিয়নের কাদলা এলাকায় বাড়ি ঢাকায় থাকেন এবং আমার বন্ধু রাজ্জাক বলেন, সাইমদের ফ্লাইট এক্সপার্ট থেকে কচুয়া ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকজন টিকিট ক্রয় এবং বুকিং দিয়েছেন। তাদের টাকার পরিমান ১ থেকে সর্বোচ্চ ৩লাখ টাকা। তারা সকলেই টাকার জন্য গিয়ে অফিস বন্ধ পেয়েছেন। তবে সাইম এর বাবা রশিদ শাহ্ ও চাচা ইয়াছিন এর ট্রাভেল এজেন্সি অফিস খোলা রয়েছে।
জহির আরো বলেন, রশিদ শাহ্ এর বাড়িতে সম্পত্তি কম। একটি ছোট পুকুর আছে। নাল সম্পত্তি নাই। তবে তার ভাই ইয়াছিনের গ্রামে অনেক সম্পদ রয়েছে।
এমডি সাইমদের পাশবর্তী বরৈগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও চৌমহনী বাজারের ব্যবসায়ী হাজী আলী মুর্তজা বলেন, রশিদ শাহ্ পরিবারের সাথে আমার প্রায় ১০ বছর ভালো সম্পর্ক। তাদের ফ্লাইট এক্সপার্ট প্রতিষ্ঠান থেকে আমরা অনেক সেবা নিয়েছি। সর্বশেষ আমাদের গ্রামের ফখরুল ইসলাম তাদের কাছ থেকে অগ্রিম টিকিট ক্রয় ও বুকিং দিয়েছে ৫৪লাখ টাকার। তিনি এখন বার বার ফোন দিয়ে আমাকে তাদের খোঁজ খবর জানতে চান। কিন্তু তাদের খোঁজ এখন কেউ দিতে পারছে না। আমার মাধ্যমে ফ্লাইট এক্সপার্টের সাথে ফখরুলের ব্যবসায়ী কার্যক্রম শুরু হয়। কিছুদিন পূর্বে ফখরুল এলাকা থেকে জমি বিক্রি করে ব্যবসায় বিনিয়োগ করে। ফখরুল টাকা হারিয়ে হতাশ।
সাইম এর বাবা রশিদ শাহ্ এর নামে রয়েছে স্থানীয় চৌমুহনী বাজারে তিনতলা মার্কেট। এই মার্কেট থেকে প্রতিমাসে ভাড়া পান ২০হাজার টাকা। এই অর্থ দিয়ে সাইম এর দাদা মৃত মো. আফিজ উদ্দিন ও দাদি মৃত চাঁন বানুর নামে এতিমখানার খরচ চালানো হয়। এমন তথ্য জানালেন এতিমখানার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মুজিব তালুকদার।
মুজিব তালকুদার বলেন, রশিদ শাহ্ সম্রাট এতিমখানার জায়গা দিয়েছেন। আমরা এতিমখানা নির্মাণ করে পরিচালনা করছি। এতিমখানার প্রতিমাসের খরচ প্রায় লাখ টাকা। মার্কেট থেকে আয় ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়। বাকি টাকা এলাকাবাসির দান থেকে নেয়া হয়। এতিম খানার সভাপতি হলেন স্থানীয় ইটভাটা ব্যবসায়ী স্বপন পাঠান।
উল্লেখ্য, ২ আগস্ট রাতে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ফ্লাইট এক্সপার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী বিপুল সরকার। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে মতিঝিল থানা পুলিশ।
মামলায় আসামিরা হলেন-প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সালমান বিন রশিদ শাহ সাইম, এমডির বাবা এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, হেড অব ফিন্যান্স মো. সাকিব হোসেন, চিফ কমার্শিয়াল অফিসার সাইদ আহমেদ ও চিফ অপারেটিং অফিসার এ কে এম সাদাত হোসেন।
এর আগে ২ আগস্ট ফ্লাইট এক্সপার্টের ওয়েবসাইট হঠাৎই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো গ্রাহক ও টিকিট বিক্রেতা এজেন্সি। যারা অগ্রিম টিকিট বুকিংয়ের জন্য অর্থ পরিশোধ করেছিলেন।
ফম/এমএমএ/


