ফ্রি ফায়ার গেমে আসক্তি, বই বিমুখ কোমলমতি শিশুরা

চাঁদপুর: সানি ও নাঈম সম্পর্কে তারা মামাতো ও ফুফাতো ভাই। সানি শহরের একটি মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্র আর নাঈম শহরের একটি স্কুলের ৩য় শ্রেনীর ছাত্র। থাকে খান বাড়িতে। এই কোমলমতি  শিশুরা তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে ঘরকুনো হয়ে গেমের নেশায় বুঁদ হয়ে যাচ্ছে।

মোবাইল ব্যবহারে টেনে নিয়ে যাচ্ছে ফ্রি ফায়ার-পাবজি নামক গেমের আসক্তিতে। গেম দুইটি কোমলমতি বাচ্চাদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় ধীরে ধীরে তাদের ভয়ঙ্কর ভবিষ্যতের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ব্যয়বহুল এই গেমস দুইটি হয়ে উঠেছে বই বিমুখ অবসর বিনোদনের কেন্দ্রবিন্দু।

শনিবার (২৭ মে) বিকালে শহরের খান সড়ক এলাকায় গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়।

সানি ও নাঈম বলেন, আমরা দুইজন মামাতো-ফুফাতো ভাই। দুইজন মিলে অনলাইনে ফ্রি ফায়ার গেম খেলি। মূলত মোবাইলটি নাঈমের। ফ্রি ফায়ার গেম খেলতে ডায়মন্ড কিনতে হয়। আমরা দুইজন টাকা ভাগাভাগি করে ১০০ ডায়মন্ড কিনেছি। ১০০ ডায়মন্ডের দাম ৩৮০ টাকা।

সানি ও নাঈম আরো বলেন, আমরা অনলাইনে সাতজনে গেম খেলি। লেভেল বড় হয়। আমাদের লেভেল ২২-২৩ হয়েছে।

কোথায় থেকে ডায়মন্ড কিনো এমন প্রশ্নের জবাবে সানি ও নাঈম বলেন, শহরের আউট স্টেডিয়ামের লোডের দোকান থেকে কিনি।

এই টাকা কোথায় থেকে সংগ্রহ করো এমন প্রশ্নের জবাবে সানি ও নাঈম বলেন, মা টাকা দিয়েছে।  কি জন্য খেলো এমন আপনার জবাবে সানি বলেন, টাইম পাস এর জন্য খেলি।

অভিভাবকের অভিযোগ, ফ্রি ফায়ার গেমে আসক্তদের খাওয়া-ঘুম তো নেই বরং তাদের সময় নেই কারোর সঙ্গে গল্প বা কথা বলার। এভাবে চললে তারা শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে উঠতে পারে।

সানির মা খুকি বেগম বলেন, জেদ করে টাকা আদায় করে। সারাদিন বকাবকি করি। সারাদিনের এই বকাবকি তাদের ঘুমের ঘোরেও প্রভাব ফেলে। দিনে ব্যবহৃত বিভিন্ন রকমের শব্দ ঘুমের ঘোরেও বলতে শোনা যায়।

নাঈমের বাবা নয়ন খান বলেন, মূলত এই খেলার সুযোগ এসেছে অনলাইন ক্লাস শুরু পদ্ধতি থেকে। ক্লাসগুলো যদি অনলাইনে না দিতো তাহলে খেলার সুযোগ পেত না বাচ্চারা।

ফম/এমএমএ/

শাহ্ আলম খান | ফোকাস মোহনা.কম