প্রায় এক দশক কবরস্থান পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কাজ করেন ইউসুফ তালুকদার

চাঁদপুর সদর উপজেলার কল্যাণপুর ইউনিয়নের পাথালিয়া গ্রামে নিজ উদ্যোগে কবরস্থান পরিস্কার করছেন আটানব্বই বছর বয়সী ইউসুফ তালুকদার। ছবি: ফোকাস মোহনা.কম।

চাঁদপুর: আটানব্বই বছর বয়সী মো. ইউসুফ তালুকদার। সময় তখন সকাল সাড়ে ১০টা। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সড়কের পাশে রোদের মধ্যে মাথায় গামছা পেঁচিয়ে বসে আপন মনে কবরস্থান পরিস্কার করছেন। তবে নিজ বাড়ী কিংবা আত্মীয় স্বজনের কবর নয়, পাশের পাথালিয়া গ্রামের মিজি বাড়ীর বাড়ীর কবর। বিগত এক দশক তিনি শুধুমাত্র কবরস্থানই নয়, এলাকার সড়কের পাশে থাকা অপ্রয়োজনীয় গাছ ও আবর্জনা পরিস্কার করার কাজ করে আসছেন। কিন্তু তিনি এই কাজের বিনিময় কারো কাছ থেকে নেন না। ইউসুফ তালুকদার চাঁদপুর সদর উপজেলার কল্যাণপুর ইউনিয়নের কল্যান্দি গ্রামের তালকুদার বাড়ীর মৃত ওসমান গণি তালুকদারের ছেলে।

সম্প্রতি ওই এলাকায় গিয়ে তার এই ব্যাতিক্রম কাজ দেখে কিছু সময় অতিবাহিত হল। ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে তিনি পরিস্কার করার কাজটি শেষ করলেন। ঠিক ওই মুহুর্তে হাজির হলেন গ্রামের দে বাড়ীর নিখিল চন্দ্র দে। তিনি কবর থেকে পরিস্কার করা ঘাসগুলো এক সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন।

নিখিল চন্দ্র দে বললেন-আমি নিজেও একজন কৃষক। আমার দু’টি গবাদি পশু আছে। যে কারণে উনার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ঘাসগুলো নিয়ে যাচ্ছি। আমার জানামতে তিনি কল্যান্দি ও পাথালিয়া গ্রামের কবর গত এক দশক নিজ উদ্যোগে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে আসছেন।

পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন কল্যান্দি গ্রামের প্রবাসী সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন-আমি বিদেশে যাওয়ার আগ থেকেই ইউসুফ চাচাকে এই কাজ করতে দেখেছি। তিনি এলাকার প্রায় বাড়ীর কবর বছরে একাধিকবার পরিস্কার করে দেন। তিনি আমাদের এলাকার বয়স্ক ব্যাক্তিদের মধ্যে একজন। খুবই নিরিবিলি মানুষ। কারে সাথে জগড়া বিবাদে নেই। নিজ উদ্যোগে এই ধরণের কাজ করা বর্তমান সময়ে খুবই কম পাওয়া যায়। দেখা হলে আমাদের খুবই স্নেহ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানাগেল, তৃতীয় শ্রেনী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন ইউসুফ তালুকদার। দুই ছেলে ও দুই কন্যা সন্তানের জনক। স্ত্রী গত ৯ বছর পূর্বে মারাগেছেন। এক সময় তিনি পাশের সফরমালী বাজারে ধান ও চালের ব্যবসা করতেন। সন্তানরা বড় হওয়ার পর ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। ২০০২ সালে হজ করেছেন। এখন কল্যান্দি গ্রামের ফজর আলী মাষ্টার বাড়ী জামে মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেন। বাকী সময় বাড়ীতে থেকেই ইবাদত করেন।

ইউসুফ তালুকদার বয়স হয়ে যাওয়ার কারণে কানে খুব কম শুনেন। নিকটে গিয়ে জানতে চাওয়া হলো কেন এই কবর পরিস্কারের কাজ করেন। তিনি বলেন-শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। কবরস্থানের নিকট আত্মীয় স্বজনরা আসতে চায় না। যে কারণে ময়লা আবর্জনা হয়ে থাকে। এলাকার যারা মারগেছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই আমার পরিচিত এবং একসঙ্গে চলাফেরা ছিল। নিজ গন্তব্য একই স্থানে, এটি মনে করে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজে চলে আসি।

ফম/এমএমএ/