পেঁয়াজের দাম ঘন্টায় ঘন্টায় পরিবর্তন হচ্ছে চাঁদপুরে

চাঁদপুর: ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশের পর থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দাম। চাঁদপুরেও এর ব্যতিক্রম নয়। শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর শহর অঞ্চলের দোকানগুলোতে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে। এইদিন সকালে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয় প্রতিকেজি ১০০-১১০টাকা। সন্ধ্যার পর বেড়ে দাঁড়ায় প্রতিকেজি ১৪০-১৬০টাকা। রাত অতিবাহিত হয়ে শনিবার (৯ ডিসেম্বর) পুরো পাইকারী ও খুচরা বাজারের চিত্র পাল্টে যায়। ঘন্টায় ঘন্টায় পরিবর্তন হতে থাকে পেঁয়াজের দর।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, চাঁদপুরে পেঁয়াজের মুল আড়ৎদার হলেন শহরের পুরাণ বাজারের মসজিদ পট্টির ব্যবসায়ী লোকমান বেপারী, শামসু মোল্লা, মোস্তাফা মোল্লা এবং রহমান। মূলত তারাই চাঁদপুরে ভারতীয় ও অন্যান্য পেঁয়াজ আমদানি করেন। শুক্রবার ভারতের পেঁয়াজ আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার খবর শুনে বাজারকে তারা অস্থিতিশী করে তুলেন।

শনিবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে পুরান বাজার পেঁয়াজের দর নিয়ে বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়। উল্লেখিত ব্যবসায়ীদের আগের দামে পেঁয়াজ মওজুদ থাকলেও অতি মুনাফার লোভে বেশি দামে বিক্রি শুরু করেন। এমন সংবাদ পেয়ে চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সদস্য নাজমুল হোসেন পাটওয়ারী, লিয়াকত পাটওয়ারী, মোশারফ হোসেন মানিক মাঝি, গোপাল সাহা ও পরেশ মালাকার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা এসব ব্যবসায়ীদেরকে ক্রয়মূল্য থেকে অতিরিক্ত ১০টাকা বেশি দরে বিক্রি করার জন্য বলেন এবং বিষয়টি তারা জেলা মার্কেটিং অফিসার ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাথে আলোচনা করেন।

চেম্বার সদস্য মোশারফ হোসেন মানিক মাঝি গনমাধ্যমকে জানান, বাজারে পেঁয়াজের দর বৃদ্ধি না হলেও পুরাণ বাজারের সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য দর বৃদ্ধি করে অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি করে। তাদেরকে প্রতিকেজি পেঁয়াজা ১১০টাকা বিক্রি করার জন্য বললেও তারা মানে না। ১২০ টাকা কেজি বিক্রির জন্য দাবী করে। এরপর ব্যবসায়ী নেতারা চলেগেলে তারা আবার ১২০-১৫০টাকা পাইকারি বিক্রি করেন।

এদিকে সংবাদ পেয়ে মসজিদ পট্টিতে হাজির হন পুরান বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রাজিস শর্মা। তিনি বিশৃঙ্খলা অবস্থা নিযন্ত্রণে আনেন। এরপর অতিরিক্ত মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করতে না পেরে কয়েকজন আড়ৎদার তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়।

অপরদিকে সরেজমিন শহরের বিপনীবাগ বাজারে গিয়ে দেখাগেছে দাম বাড়ার কথা শুনে শুক্রবার রাতেই অনেক দোকানের পেঁয়াজ বিক্রি হয়ে যায়। শনিবার সকালে বাচ্চু স্টোরে ভারতীয় পেয়াজ বিক্রি হয় প্রতি কেজি ১৪০টাকা। আলাউদ্দিনের স্টোরে বিক্রি হয় ১৫০টাকা এবং আবু তাহের স্টোরে বিক্রি হয় ১৬০টাকা। বিপনীবাগের ব্যবসায়ীরা পুরান বাজার মসজিদ পট্টির সামির এন্টারপ্রাইজ থেকে ১৪০টাকা কেজি দরে ভারতীয় পেয়াজ ক্রয় করে আনেন।

বাজারে অবস্থানরত শহরের অনেক ক্রেতাই ওই সময় পাইকারী ব্যবসায়ীদের সমালোচনা করেন এবং তারা এই বিষয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম