
চাঁদপুর: চাঁদপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, চাঁদপুরের আয়োজনে ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), চাঁদপুরের সহযোগিতায় “চাই স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন” শীর্ষক অ্যাডভোকেসি সভা বুধবার (৩৯ মার্চ) জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সনাক চাঁদপুরের সভাপতি ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়, চাঁদপুর-এর উপ-পরিচালক ডাঃ মোঃ ইলিয়াছ বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সনাক-টিআইবি যে ৪টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র নিয়ে কাজ করবে তাতে আমার ও আমার বিভাগের সকল কর্মীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। তিনি আরও বলেন, জনবল সংকটের কারনে অনেক সময় সেবা প্রদানে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। সেবা গ্রহিতাদের চাহিদা অনেক। কিন্তু আমাদেরও অনেক সীমাবদ্ধাতা রয়েছে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রগুলোতেও কর্মী সংকট। যে কেন্দ্রগুলোতে কর্মী নাই সেখানে অন্য কেন্দ্রগুলো থেকে কর্মী এনে সেবা প্রদান করতে হয়। যেকোন খারাপ অবস্থান থেকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই আমার মূল লক্ষ্য। করোনাকালীন সময়েও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা প্রদান করেছে।
তিনি টিআইবি’র প্রতি কোথায় কোথায় দুর্নীতি হচ্ছে এবং কি কারণে দুর্নীতি হচ্ছে এগুলোর রিপোর্ট তৈরির পাশাপাশি এর উত্তরনের উপায়গুলোও তুলে ধরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমাদের যদি কোন দুর্বল বা চ্যালেঞ্জের দিক থাকে সেগুলো আশা করছি সনাক-টিআইবি’র মাধ্যমে জানতে পারবো।
তিনি জানান, অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে ৩টা মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র দৃশ্যমান করতে পেরেছি। তিনি সনাক ও টিআইবি’র দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন। সনাক-টিআইবি’র বর্তমান প্রকল্পে জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগকে বেঁচে নেওয়ার জন্য সনাক-টিআইবিকে তিনি ধন্যবাদ জানান।
জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়, চাঁদপুর-এর সহকারী পরিচালক একেএম আমিনুল ইসলাম বলেন, অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো জনবল সংকট। আশা করছি আগামী ১/২ বছরের মধ্যে এই জনবল সংকটও অনেকটা কমে যাবে। আগামী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কাজের গতি ও মান অনেকাংশে বেড়ে যাবে। আমরা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ সনাক-টিআইবি’র সাথে কাজ করতে চাই। সনাক ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পারস্পরিক সহযোগিতার ফলে জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সেবার মান আরও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।
স্বাগত বক্তব্যে সনাকের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত বলেন, একজন ব্যক্তি একটি প্রতিষ্ঠানের সেবার মানোন্নয়নে কিভাবে পরিবর্তন এনে দিতে পারে তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়, চাঁদপুর-এর উপপরিচালক ডাঃ মোঃ ইলিয়াছ। তিনি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আইকন। আর একারনেই তিনি জনপ্রশাসন পদকও পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সনাক ও টিআইবি’র মূল লক্ষ্য হলো দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন বিনির্মানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা। এছাড়াও তিনি স্বাস্থ্যখাতে সনাকের কার্যক্রমগুলো তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে সনাক সভাপতি ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া বলেন, একজন আদর্শ নাগরিক হতে হলে আমাদের দায়িত্বগুলো সঠিকভাবে পালন করতে হবে। সেবাদাতা ও গ্রহিতাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা থাকলে সেবার মান এমনিতেই বৃদ্ধি পাবে। একজন কর্মী নির্দিষ্ট সমেয়র পর অতিরিক্ত কাজ করলে তাঁর অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, উপ-পরিচালক মহোদয়ের কর্মদক্ষতার কারনেই তিনি জনপ্রশাসন পদক পেয়েছেন। তিনি সনাক-টিআইবি’র কার্যক্রমগুলোতে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সহযোগিতা কামনা করেন।
সনাক সভাপতি ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়ার সঞ্চালনায় মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের ডিস্ট্রিক কনসালটেন্ট ডাঃ নাছির আহমদ, মেডিকেল অফিসার-মা ও শিশু স্বাস্থ্য-এফপি ডাঃ শাহরিন আফরিন, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ তানভীরুল ইসলাম ও সনাকের সহ-সভাপতি জেসমিন আক্তার। টিআইবি’র এরিয়া কোঅর্ডিনেটর মোঃ মাসুদ রানার সঞ্চালনায় এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সনাকের সহ-সভাপতি মোঃ আলমগীর পাটওয়ারী, সনাক সদস্য মোঃ আব্দুল মালেক, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের ফ্যাসিলেটেটর মোঃ সামছুল আলম ও সনাক-চাঁদপুরের ইয়েস গ্রুপের সদস্যবৃন্দ।
ফম/এমএমএ/



