তৃতীয় প্রজন্ম (ছোটগল্প)

প্রতিকী ছবি।
।। যুবক অনার্য ।।সম্পূর্ণ অকারণে ফেসবুকে ঢুকে পড়ি।অর্জয়িতা রিয়া’র একটি গল্প( নাকি গদ্য!) পাঠ করি।ভাষা নিয়ে নীরিক্ষা আছে।একটি কমেন্ট করি।তারপর বেরিয়ে আসি।ভাবছি ‘তিস্তাপাড়ের বৃত্তান্ত’ ছুঁই।কী মনে করে আর ছোঁয়া হলো না।ইউটিউবে ঢুকি।কৌশিক সরকার ঘাটি।কিছু রাজনৈতিক তুকতাকও প্রসংগত ঘেটে দেখি।সামনে কি আসছে ব্যাপক পরিবর্তন-মানচিত্র বদলে যাবে ১৮০ ডিগ্রি এংগেলে নাকি থোড় বড়ি খাড়া বড়ি থোড়!
বেল বেজে ওঠে। কেউ এলো কি! এ ঘরে এই বাড়িতে।দরোজা খুলি।না কেউ না।নিচে একটি সুইচ আছে কেউ বাজিয়ে চলে গেছে। তিনি হয়তো কোনো আগন্তুক নন,হয়তো তার কোনো গন্তব্য নেই যেমন নেই আমার।
মাঝে মাঝে মনে হয় আমি যে জীবনে আছি সে আমার নয়।তারপরই ভাবনাটা এক পাশে সরিয়ে রেখে ভাবি হুমায়ুন আহমেদ নিয়ে লিখি।হুমায়ুন আহমেদ নিয়ে ইউটিউবে কিছু কথা আমার পাওয়া যায়। কন্টেন্ট শুনে-দেখে জনৈকা মন্তব্য করেছিলেন-‘ হুমায়ুন আহমেদের ৩০০ masterpiece। ৩০০ masterpiece দিয়ে জনৈকা কী বুঝিয়েছেন আমি বুঝিনি তবে আমি বুঝতে চেষ্টা করি দর্শক কেনো চেয়েছিলেন মুক্তি- বাকের ভাইয়ের।তারপর ভাবি…..
না না হে স্বাতী এইসব হই হট্টগোল ছেড়ে চলে যেতে হবে মৌন অঞ্চল ছেনে দূরে।তথাকথিত প্রেম জীবন রাজনীতি সংঘনীতি ছেড়ে আরো দূর অন্য নগরে।হ্যাঁ স্বাতী আকাশে অনেক তারা দেখে মনে পড়ে মেঘের অনেক রঙ মনে পড়ে মেঘে ঢাকা আকাশ আর ঋত্বিক দাদা।প্রশ্ন কি করা যেতে পারে ‘নাগরিক’ কেনো মুক্তি পেয়েছিলো ঋত্বিক দাদা প্রস্থানের ২৭ বছর পর?
না স্বাতীকে কিছু বলতে ভালো লাগছে না।- স্বাতী এসব বুঝবে না বলে নাকি স্বাতী বলে কেউ নেই বলে!
দুপুর ঘনায়মান।আজ আমার ১৩ তারিখ থেকে দুর্নিবার শরীর ভালো না।এ প্রসংগ বুঝি ভীষণ ঘ্যাণ ঘ্যাণে।তবে শরীর আজ থাক।
এবং অন্য এক শরীরের কথা তবে হোক।যেমন আরতীর শরীর।ওর দিকে তাকালে মনে হয় শরীর বেশি নাকি ওকে ভালোবাসি বেশি।ঝুকিপূর্ণ। নারীবাদীদের কাছে।যদি বলি শরীর তাহলে আসবে তেড়ে ওরা- নারীবাদীগণ যাহাদের অধিকাংশই মূলত পুরুষতান্ত্রিক। হে আরতী তুমি সুন্দর তোমার শরীরের চেয়ে তোমার শরীর সুন্দর তোমার চেয়ে তুমি তোমার চেয়েও সুন্দর আরও বেশি…
যাক তবে  জ্বলে যাক।জ্বলে যাক মাটির কলস সাজানো বাগান জিয়ল সংসার ঘুমভাংগা ভোর।জ্বলে যাক কুসুম কমল।আর তারপর? পৃথিবীতে উঠবে  জেগে নতুন কোনো ভোর? নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ?…
আমাকে যখন বলা হলো আপনি কেনো লিখেন-
আমি: ১ম উত্তর – না লিখে পারি না। ২য় উত্তর- লেখার জন্যই আমার জন্ম। ৩য় উত্তর -সুন্দর এক পৃথিবী নির্মাণের তরে।
এসব দর্শন আঁতেলেকচুয়াল। কিংবা নিছক অ-দর্শন।কেবলি অচল।
আমি তবে কেনো লিখি?
সেদিন।বুধবার।সোমবার হলেও চলবে।নিউমার্কেটে পূরবী।আর আমি।মুখোমুখি। আজিজ সুপারের দিকে হাঁটি।নীলক্ষেত কাঁটাবন ধরে।কনকর্ড এম্পোরিয়াম।ওখানে ৮০ দশকের এক কবি আমার ৫০ হাজার টাকা মেরে দিয়েছে।নিজের কাছে তো ছিলো না।এতো টাকা আমি পাবো কোথায়।চাষীর কাছে লোন করেছিলাম।
– বলতো পুরবী উনি আমার টাকা মেরে দিলেন কেনো?
:মেরে দিতে দিলি কেন?
-বিশ্বাস করেছিলাম।
:বিশ্বাস করলে কি কেউ না মেরে দেয়!
বিশ্বাস করলে তো মেরে দেয়াই নিয়ম।
-পুরবী, আমি কিন্তু তোকে বিশ্বাস করি।
:অবিশ্বাস করা শুরু কর, বেঁচে যাবি।
আচ্ছা রিমঝিম এখন কোথায় আছে।আমার সংগে যে আইডিতে এড ছিলো তা ডিলিট অপশনে দেয়া ছিলো।কোম্পানি ক্ষমা করেনি যথারীতি ডিলিট করে দিয়েছে।রিমঝিম তুই কি আজও বৃষ্টির মতো ঝরে পড়িস। জানি আমার জানবার হয়তো উপায়-পদ্ধতি নেই।অবনীকে নিয়ে সুখে থাকিস।অবনী ভালো ছেলে।আমার চেয়ে অনেক বেশি।আমি হলে তুই খুব অসুখী হয়ে যেতিস কারণ আমি আসলে অন্য আমি হতে পারতাম না কিছুতেই।
ফেসবুক অর্জয়িতা হুমায়ুন ঋত্বিক আরতী শরীর নারীবাদ হয়ে রিমঝিমে এসে ভাবনা থেমে যায়।লুনিক বলেছিলো: আলবের কাম্যু কাফকা আর কাকে ভালো লেগেছিলো।
আমি- মানিক বাসুদেব।
:সন্দীপন?
-অতোটা নয়।যতোটা গর্জেছে ততোটা বর্ষেনি।
: নতুন একটা ছেলে।’১৫ তে প্রকাশ করে ‘১৯- এ বেস্ট সেলার।কলকাতায়ও জমিয়েছে খুব।
– পড়িনি। একটি ইন্টার্ভিউ দেখেছিলাম।প্রশ্ন করা হলো- ওকে নাকি অনেকে বলেন দেখতে মেসির মতো।উত্তর হিসেবে সে গালভর্তি হেসেছিলো।স্নিগ্ধ হাসি।তবে লেখাও স্নিগ্ধ হলে বিপদ।ভালো হয়- রাশ কিংবা হিংস্র হলে- ডোরাকাটা বাঘের মতো।
: রন্ধনশালার পর নতুন কিছু জন্মেছে?
-এখনও না।
:নিশ্চিত?
-নিশ্চিত নই।ধারণা করি।
:তারপর?
আমি: মৌন ও পরাজিত।
আমার মাথায় পেইন হচ্ছে।দুপুর ১ টায় অবিনাশ আসবে।সে মানে অবিনাশ মাত্র ১৩/১৪।এখনো অযৌবন ভর করে আছে।অবিনাশ যুবক হবে  মধ্যবয়সী হবে তারপর বৃদ্ধ অত:পর মত্যু বা অমরত্ব।
অবিনাশ ৫০০ বছর পর এসেছিলো।তখনও সে ১৩/১৪- অযৌবন।তার মস্তিষ্কে আবিস্কারকগণ ৫ লাখ বই ঢুকিয়ে দিয়েছে।সে লিখতে পারছে না কিছুই।আরো ১০ লাখ ঢুকিয়ে নেবে।চৈতি ঢুকিয়েছে ১ কোটি।লিখতে পারে নি কিছু।চৈতির ৫ কোটি ভিউ ফলো আরও কতো কী!কন্টেন্ট শুধু ছবি।অবিনাশের ছবি নেই ভিউ নেই ফলো টলো নেই।অপারেশন করে অবিনাশ চৈতি হয়ে গেলো।ভিউ হলো ফলো হলো। কন্টেন্ট নেই।শুধু ছবি।চৈতি মানে  চৈতি নং-১, তার বুকের সাইজ বাড়িয়ে নিলো। ভিউ ফলো বেড়ে গেলো।চৈতি মানে চৈতি নং-২ মানে অবিনাশ ওরফে চৈতি বুকের সাইজ বাড়িয়ে নিলো। ভিউ ফলো হলো।কন্টেন্ট নেই শুধু ছবি।
তৃতীয় প্রজন্ম।যার কন্টেন্ট কেবল ছবি।অন্য কিছু নয়।অন্য কিছুই নয়।।

ফোকাস মোহনা.কম