তথ্য জানার অধিকার একটি সাংবিধানিক অধিকার : ডিসি কামরুল হাসান

চাঁদপুর: “অনলাইন তথ্য প্রবাহে সকল নাগরিকের সম অধিকার চাই” এই শ্লোগান নিয়ে জেলা প্রশাসন চাঁদপুরের আয়োজনে এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চাঁদপুরের অংশগ্রহণে বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় “আন্তর্জাতিক সার্বজনীন তথ্যে অভিগম্যতা দিবস” ২০২৩ উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ বছর ইউনেস্কো দিবসটির মূলপ্রতিপাদ্য করেছে-‘তথ্যের অবাধ প্রবাহে অনলাইন স্পেসের গুরুত্ব’।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বশির আহমেদ।

এতে প্রধান অতিথি বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) কামরুল হাসান। তিনি বলেন, তথ্য জানার অধিকার কোন মৌখিক অধিকার নয়, এটি একটি সাংবিধানিক অধিকার। সাংবিধানিক স্বীকৃতি বাস্তবায়ন করার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তথ্য অধিকার আইনে সাধারণ নাগরিকের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার সুনির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা আছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েব পোর্টালে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া দেওয়া আছে। আপনারা প্রয়োজন হলে ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। তবে অনেক প্রতিষ্ঠানের ওয়েব পোর্টাল হালনাগাদ নেই। টিআইবি ওয়েব পোর্টাল নিয়ে কাজ করছে। আজও একটি রিপোর্ট দিয়েছে। তবে আমি আশা করছি আপনারা ওয়েব পোর্টালের তথ্যগুলো হালনাগাদ করে নেবেন। একটি অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানগুলো কি কাজ করবে তা ওয়েব পোর্টালে হালনাগাদ করা আছে। তবে সাধারণ জনগণকে তথ্য প্রাপ্তির অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জানা খুবই প্রয়োজন। কারণ এরাই আগামীর ভবিষ্যত। ওয়েব পোর্টাল স্টাডি নিয়ে টিআইবি-সনাক যে পরামর্শগুলো দেয় সেই পরামর্শ মোতাবেক সবাইকে নির্দেশনা দিয়ে থাকি। তিনি অনুষ্ঠানে আসার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিপিএম পিপিএম বলেন, আমাদের তথ্যের কোন ঘাটতি নেই। তথ্যে ভরপুর সোস্যাল মিডিয়া। যেখানে সত্য মিথ্যা সবই থাকে। আমরা একটা তথ্যের মহামারীর মধ্যে আছে। সোস্যাল মিডিয়ায় তথ্যের এই মহামারী রোধ করতে না পারলে আইনসৃঙ্খলার অবনতি ঘটবে। তাই আমাদেরকে সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। তথ্যের মহামারী রোধ করার জন্য সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি সবাইকে যেকোন মাধ্যমে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করার আহ্বান জানান।

সনাক সভাপতি ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া বলেন, বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠান করা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জন্য এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে এই আইনটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। টিআইবি’র সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শমতে সরকার ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন পাশ করে। তথ্য অধিকার আইনকে মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য সনাক-চাঁদপুর কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবসের উপর টিআইবি’র দাবীসমূহ উপস্থাপন করেন। দাবীগুলো হলো-

সরকারি ও বেসরকারি সকল ওয়েবসাইট যেন হালানাগাদ, সুবিন্ন্যস্ত, আকর্ষণীয় ও ইন্টারঅ্যাকটিভ হয় তা নিশ্চিত করতে হবে, তথ্য প্রকাশ ও তথ্যে অভিগম্যতার সুবিধার্থে ডিজিটাল টুলসের ব্যবহারের উপযোগী অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। বিশেষ করে, গ্রাম পর্যায়ে সুবিধাবি ত সকল জনগোষ্ঠীসহ সাধারণ নাগরিকের অভিগম্যতা বৃদ্ধির জন্য সুনির্দিষ্ট স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে, ডিজিটাল ডিভাইড প্রতিহত করে সকল নাগরিকের জন্য সমান ডিজিটাল অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯Ñ এর পরিপন্থি বিদ্যমান আইনসমূহ সংস্কার ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাতিল করতে হবে, নতুন কোনো আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে তথ্য অধিকারের মূল চেতনার পরিপন্থি বা আইনটির কার্যকর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে, এমন কোনো ধারা যাতে সংযোজিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে, তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী তথ্য প্রাপ্তির জন্য আবেদনকারীর তথ্য প্রাপ্তি ও নিরাপত্তাসহ আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিধান করতে হবে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে জ্ঞান ও তথ্য প্রদানে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা অর্জনে বিভিন্ন কারিগরি ও অনলাইন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তথ্য প্রদানে আগ্রহ সৃষ্টির আরো কার্যকরি প্রণোদনামূলক উদ্যোগ নিতে হবে, তথ্য অধিকার আইনের অধিকতর বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণমূলক কার্যক্রমে সুশীল সমাজ, জনগণ ও গণমাধ্যমের কার্যকর অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, প্রাতিষ্ঠানিক স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ ও প্রচারের কার্যকরতা বৃদ্ধিতে তথ্য কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, তথ্য প্রকাশ ও প্রচারে প্রতিষ্ঠানসমূহের দক্ষতা ও সংগতি পর্যবেক্ষণের জন্য তথ্য কমিশনের তদারকি বাড়াতে হবে। বেসরকারি সংস্থা ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে তথ্য কমিশনের সহযোগিতা ও অংশীদারত্বমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারন করতে হবে, সর্বোপরি, তথ্য অধিকার নিশ্চিতে গণমাধ্যমকে অধিকতর কার্যকর ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহ, সুশীল সমাজ, তথ্য কমিশন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যকর সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বশির আহমেদ-এর সভাপতিত্ত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মোঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল, অধ্যক্ষ রতর কুমার মজুমদার প্রমুখ। এছাড়াও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীবৃন্দ, সনাক-চাঁদপুরের ইয়েস গ্রুপের সদস্যবৃন্দ।
ফম/এমএমএ/

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি | ফোকাস মোহনা.কম