
চাঁদপুর: মার্চ মাসের শেষে এবং এপ্রিল শুরুতে কয়েকদিন বৃষ্টি হলেও দীর্ঘ দিন বৃষ্টি হয়নি চাঁদপুর অঞ্চলে। বৈশাখ মাসের শুরুর দিকটাও গেল বৃষ্টি ছাড়া। অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টির দেখা মিলেছে। তবে আসলো ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহকারে। যেভাবেই আসুক না কেন, সব মানুষের আশা আকাঙ্খা ছিল বৃষ্টি আসুক। কারণ দেশের বিভিন্ন জেলায় গত কয়েকদিন বৃষ্টি হলেও চাঁদপুর ও আশাপাশের জেলায় হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরের পর থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। এরপর বিকেলে আলো কমে আসলে। ঠিক ৬টার আগ দিয়ে শুরু হলো প্রচন্ড ঝড়ো হাওয়া। এতে শহরের সড়ক ও খালি জায়গায় যত ধুলা বালি ছিলো সব উঠে আসলে বাতাসের সাথে। বেশ কিছু সময় ঝড়ো হাওয়ার পর বজ্রপাত। এরপর আসলে বৃষ্টি। বেশ কিছু সময় বজ্রপাত চলতে থাকে। রাত যখন সোয়া ৮টা চাঁদপুর শহরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত।
চাঁদপুর জেলায় এ বছর সর্বোচ্চ তামপাত্রা ছিলো ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। এটি কয়েকদিন অব্যাহত থাকার পরে কমে। এরপর আবার গত দুইদিন আবার তাপ প্রবাহ বাড়তে থাকে। রাতে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও সূর্যোদয়ের সাথে সাথে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। আবহাওয়ার এমন আচরণ পূর্বে এমন ছিলনা বলে বিভিন্ন গনমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ঝড়ো হাওয়া দেখে বিদ্যুতের সরবরাহ বন্ধ। বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এত উন্নত কোনভাবেই লাইন দিয়ে রাখতে পারেন না বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ চাঁদপুর। বিদ্যুৎ না থাকায় শহর অনেকটা ভুতুড়ে অবস্থায়। কিছু যানবাহন রাস্তায় থাকলেও ছোট যানবাহনগুলো বন্ধ থাকে। কারণ বজ্রপাতের কারণে অনেকেই ঘর থেকে নামছেন না।
এদিকে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে দায়িত্বরত ট্রাফিক পরিদর্শক শাহ আলম জানান, আবহাওয়া খারাপ দেখে চাঁদপুর থেকে ঢাকাগামী ৬টার লঞ্চটি যাত্রা বাতিল করে। এরপর ৭টার লঞ্চ যথারীতি সদরঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এরপর থেকে আর কোন সমস্যা নেই নদী পথে।
চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান জানান, নৌ পথে এখন পর্যন্ত কোন দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি। নৌ-পুলিমের সবগুলো ইউনিট সক্রিয় আছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চাঁদপুর উত্তর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, রাত ৮টা পযন্ত কোন স্থান থেকে দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি। তবে গত দুই দিন আগে বহরিয়া এলাকায় মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে একজন মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ হয়। তার সন্ধ্যান এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
ফম/এমএমএ/


