চাঁদপুর সরকারি হাসপাতাল থেকে নারী প্রতারক আটক, অতঃপর…

চাঁদপুর: চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নামে বেনামে রোগীদের নাম দিয়ে টিকিট কেটে ওষুধ উত্তোলন করে বিক্রি এবং চিকিৎসকদের কক্ষে প্রবেশ করে আপত্তিকর আচরণ করায় নাজমা বেগম (৪৫) নামে প্রতারক নারীকে আটক করা হয়েছে।

বুধবার (৬ মার্চ) দুপুরে হাসপাতালের ২০৭ নম্বর কক্ষ থেকে আনসার সদস্যরা তাকে আটক করে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশে সোপর্দ করে।

ওই নারী শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার বাসিন্দা। এক সময় তিনি আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি সদর মডেল থানা, সাব রেজিষ্ট্রি অফিস ও সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে প্রতারণা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আনসার (পিসি) সুরুজ্জামান জামান বলেন, হাসপাতালের ২১৫ নম্বর কক্ষে মেডিকেল অফিসার ডাঃ আনজুম আরা ফেন্সি ও ২০৭ নম্বর কক্ষে মেডিকেল অফিসার ডাঃ নূরুন্নাহার রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। ওই সময় রোগীদের সিরিয়াল ভঙ্গ করে প্রতারক নাজমা বেগম ডাঃ আনজুম আরা ফেন্সি ও ডাঃ নূরুন্নাহারের কক্ষে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট কয়েকটি ঔষধের নাম লিখে দেয়ার জন্য চিকিৎসকদের চাপ প্রয়োগ করে। চিকিৎসক ঔষধের নাম লিখতে রাজি না হওয়ায় নাজমা বেগম চিকিৎসকের সাথে অশালিন ও আপত্তিকর খারাপ আচরণ করে। পরে হাসপাতালের স্টাফ ও আনসার সদস্যরা এগিয়ে আসলে তাদেরকেও তিনি গালমন্দ করে। এরপর তাকে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ ও আনসারদের সহায়তায় আটক করা হয়। এ সময় ওই নারীর থেকে নাজমা, সালমা, সালেহাসহ বিভিন্ন নামের একাধিক হাসপাতালের টিকিট ও সরকারী ঔষধ পাওয়া যায়।

হাসপাতালের কর্মরত একাধিক কর্মচারী জানান, বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসকদের কক্ষে প্রবেশ করে কখনও নাজমা, আবার কখনও সালমাসহ বিভিন্ন পরিচয় দেয়। হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন নাম ব্যবহার করে টিকিট সংগ্রহ করে সরকারি ঔষধ অন্যত্র নিয়ে বিক্রি করেন। আবার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা রোগীদের কাছ থেকে কৌশলে টাকা, পয়সা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ আছে। বিকেলে আটক নাজমা বেগমকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপস্থিত করা হয়।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকারিয়া হোসেন জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতে নাজমা বেগম নামে ওই নারীকে উপস্থিত করা হয়। তার সাথে কথা বলে মনে হয়েছে মানসিক সমস্যা আছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোন ভিডিও ফুটেজ দেখাতে পারেনি। যে কারণে কোন ধরণের আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলেছি যদি পরবর্তীতে ওই নারী হাসপাতালের কার্যক্রমে কোন ধরণের বাধা প্রদান করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম