চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরিঘাটের যানবাহন সংখ্যা কমেছে, রাজস্ব তলানিতে

ছবি: ফোকাস মোহনা.কম।

চাঁদপুর: চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরিঘাটে একসময় দীর্ঘ লাইনে যানবাহন পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হত। কিন্তু এখন ফেরি সংখ্যা বেড়েছে, কমেছে যানবাহনের সংখ্যা। যানবাহন কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে পদ্মাসেতু ও শরীয়তপুর অংশে সড়কের বেহাল দশার কারণ জানালেন সংশ্লিষ্টরা। যার ফলে রাজস্ব আদায় নেমেছে অর্ধেকের নীচে এবং এর প্রভাব পড়েছে ঘাটের ইজারাদার ও ব্যবসায়ীদের ওপর।

শুক্রবার (২৬ আগষ্ট) বেলায় সাড়ে ১১টার দিকে হরিণা ফেরিঘাটে গিয়ে দেখাগেল সুনশান নীরবতা। পার হওয়ার জন্য অপেক্ষমান গাড়ীর সংখ্যা খুবই কম। চট্টগ্রামসহ অন্যান্য জেলা থেকে আসা যাত্রীবাহী পরিবহন ও মালবাহী ট্রাক ঘাটে এসেই উঠে যাচ্ছে ফেরিতে। কারণ ফেরি সংখ্যা এখন ৮টি। ৪টি প্রতিদিন চলে এবং ৪টি বন্ধ থাকে। রো রো ফেরি হওয়ার কারণে এখন আর যানবাহন পার্কিং ইয়ার্ডে অপেক্ষা করতে হয় না। বিপরীতে দেখাগেল হরিণা ফেরিঘাটের পার্কিং ইয়ার্ডে একটি রাজনৈদিক দলের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পুরো ইয়ার্ডই ফাঁকা এবং সড়কের পাশের তারের প্রাচীর একাধিক স্থানে কেটে চলাচল করছে সাধারণ মানুষ। অনেকটাই অরক্ষিত পার্কিং ইয়ার্ড।

কাকলী নামের ফেরির লস্কর সেলি মুন্সি জানান, গোলাম মাওলা নামের ফেরিতে অনেক গাড়ী পার হতে পারে। এছাড়াও যানবাহন কম হওয়ায় কোন ধরণে সমস্যাই হয় না। পদ্মাসেতু চালু হওয়ার পর মাওয়া ফেরি ঘাট থেকে এখানে কয়েকটি ফেরি এসেছে।

একই ফেরির মাষ্টার মো. আজিজ জানান, গাড়ীর সংখ্যা শুধুমাত্র চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরিঘাটেই কম তা নয়, পদ্মা সেতু হওয়ার কারণে বেশ কয়েকটি ঘাটের যানবাহন সংখ্যা কমেছে। এতে কোন সমস্যা নেই। কারণ পদ্মাসেতু চালু হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমেছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে গন্তব্যে যেতে পারছেন। দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলা পদ্মা সেতুর সুবিধা ভোগ করছেন। আমাদের এই ঘাট দিয়ে আর কয় জেলার মানুষ পার হয়।

ফেরিঘাটের ভাড়া আদায়কারী জাহিদ হোসেন জানান, আগে প্রতিদিন ফেরিতে পার হওয়া যানবাহন থেকে ভাড়া আদায় হয়েছে ৬ থেকে শুরু করে ৮ লাখ টাকা। এখন তা কমে আদায় হচ্ছে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। অর্ধকেরও নীচে নেমেগেছে।
ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম