
চাঁদপুর: চাঁদপুর শহরের বিপণীবাগ বাজারে বড় বড় ডালায় সাজানো আছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। ডালার পানিতে ঝাপটাচ্ছেও জ্যান্ত মাছগুলো। তবুও দেখা মিলছে না ক্রেতার। কিছুক্ষণ পর পর দুই একজন আসলেও তারা দাম জিজ্ঞেস করে চলে যাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ সর্বোচ্চ দুই কেজি মাছ কিনছেন। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ দাম খুব চড়া।
সোমবার (১ মার্চ) বিকালে বাজার ঘুরে এমনই চিত্রই দেখা যায়।
মাছ কিনতে আসা শহরের ট্রাক রোডের খান সড়কের বাসিন্দা মুনসুর খানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, মাছের দাম খুব চড়া। পুরো বাজার ঘুরে ৭৭০ গ্রাম ওজনের একটি কাতলা মাছ কিনেছে ৩৬৫ টাকা দিয়ে।
মাছ বিক্রেতা নারায়ণ দাস বলেন, আড়তে মাছের দাম বাড়তি, আমাদের কিনতে হয় বেশি দামে। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে ক্রেতা কম বাজারে।
মাছ বিক্রেতাদের তথ্যমতে, বাজারে বড় সাইজের প্রতি কেজি তেলাপিয়া মাছ ২৬০-২৮০ টাকা, মেঘনা নদীর বড় সাইজের পাঙাস মান বেদে প্রতি কেজি ৪৮০-৫৫০ টাকা, ছোট পাঙাস ২৮০-৩০০ টাকা, চাষের কই মাছ ৩৫০-৩৭০ টাকা, দেশী কই মাছ ৬০০ টাকা কেজি। চাষের রুই মাছ বড় সাইজের প্রতি কেজি ৩৯০-৪২০ টাকা, মাঝারি সাইজের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩২০-৩৩০ টাকা, কাতলা মাছ বড় সাইজের প্রতি কেজি ৪৫০ থেকে ৪৮০টাকা, মাঝারি সাইজের কাতলা মাছ প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকা, চাষের শিং মাছ কেজি ৪০০-৪৫০ টাকা, দেশি পুটি মাছের ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বড় সাইজের পোয়া মাছের কেজি ৫৫০ টাকা, মাঝারি সাইজের পোয়া মাছ ৩৮০ টাকা ও ছোট সাইজের পোয়া মাছ ২৫০থেকে ২৮০ টাকা।মাঝারি সাইজের চিংড়ি মাছ ৭৭০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অধিকাংশ মাছই চাষের মাছ বলে জানিয়েছেন মাছ ব্যবসায়িরা। তবে ইলিশ মাছের দেখা মিলেনি শহরের বিপনীবাগ বাজারে।
এদিকে বিপণীবাগ সবজি বিক্রেতারা বলছেন, সবজির দাম কমেছে, তবে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দুই-একটি সবজির দাম কম হলেও বাকি সব সবজির দাম আগের মতোই বাড়তি দামে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা।
কাঁচা মালের দোকানদার মাসুদ মোল্লা জানান, মান ও বাজার ভেদে শসা প্রতি কেজি ৪০-৪৫ টাকা, লম্বা ও গোল বেগুনের কেজি ৬০-৬৫ টাকা, টমেটো ২৫-৩০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ৬০ টাকা, করলার কেজি ৬৫-৬৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচা মালের দোকানদার আল-আমিন জানান, লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। মাঝারি সাইজের চাল কুমড়া প্রতিটি ৫০-৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৩০ টাকা, পটল ৬০, ঢেঁড়স ৬০, কচুর লতি ৬৫, পেঁপে ৩০, বরবটি ৬০ টাকা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচা মালের দোকানদার লোকমান বেপারী জানান, কাচামরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা দরে। কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকায়। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা কেজির দরে।
কাঁচা বাজার করতে আসা শহরের খান নাজির পাড়ার বাসিন্দা মোক্তার হোসেন জনান, ভাই রমজান মাসে সবজির গায়ে আগুন লেগেছিল। এখন তা নিভছে কিছুটা।
শহরের দক্ষিণ বিষ্ণুদি এলাকার বাসিন্দা সরকারি চাকরিজীবী মিজানুর রহমান জুয়েল বলেন, বাজারে কয়েক দিন যে অবস্থা ছিল, তা বলার মতো না। আজ বাজার করে ভালো লাগছে। দু’একটা সবজির দাম কমেছে।
সবজি বিক্রেতা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সব ধরনের সবজির দাম এরই মধ্যে কমে গেছে, সামনে আরও কমবে ইনশাল্লাহ্। ধীরে ধীরে কাঁচা মাল আড়তে আসা শুরু হইছে। তাই দামও কমতেছে।
ফম/এমএমএ/



