চাঁদপুরে ইলিশের আমদানি কম, সাধারণের নাগালের বাইরে দাম

সংরক্ষিত ছবি।

চাঁদপুর: চাঁদপুরের প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে দাম এখনো বেশ চড়া। স্থানীয় জেলেদের ধরা এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২হাজার ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। ফলে অনেকেই দরদাম করেও ইলিশ না কিনে ফিরে যাচ্ছেন।

এদিকে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইলিশের আমদানি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, আমদানি বাড়লে বাজারে ইলিশের দাম আরও কমবে। তবে মৎস্য বিভাগের দাবি, ইলিশের আমদানি কমেনি; বরং বর্তমানে গড়ে মাছের আকার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে শহরের বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানাগেছে।

কিছু সময় ঘাটে অবস্থান করে দেখাগেছে, এখন আর সড়ক ও নৌ পথে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইলিশের আমদানি নেই। শুধুমাত্র স্থানীয় পদ্মা-মেঘনার ইলিশ আসছে আড়তে। তাও সংখ্যায় খুবই কম।

সদরের আনন্দ বাজার এলাকার জেলে ইসমাইল দেওয়ান বলেন, ইলিশমাছ পাওয়া যায়, তবে সংখ্যায় খুবই কম। সাথে অন্য মাছ পাওয়া যায়।

বহরিয়া এলাকার জেলে জাহাঙ্গীর মাঝি বলেন, এখন বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে। অন্য বছর ইলিশের আমদানি কিছুট বেশি ছিলো। তবে এবার কমেছে। ছোট সাইজের ইলিশ কম। ৬শ’ থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বেশি পাওয়া যায়।

ইলিশের বাজার দর জানালেন হরিণা ফেরিঘাট সংলগ্ন মাছঘাটের আড়তদার মো. ইব্রাহীম। তিনি বলেন, ইলিশের সাথে পাঙ্গাশ মাছ ধরা পড়ছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী ইলিশের আমদানি কম। তবে গত বছরের তুলনায় ইলিশের দাম কেজি প্রতি ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা কমেছে।

একই আড়তের আরেক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর সৈয়াল বলেন, ইলিশের দাম বেশি হওয়ার কারণে অনেক ক্রেতা দরদাম করে চলে যায়। গত বছর এই মাছঘাটে ইলিশ আনা মাত্রই বিক্রি হয়েছে। অনেক আড়তের ইলিশ এখন শহরে পাঠানো হচ্ছে।

চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আসা ক্রেতা শাহাবুদ্দিন মিজি বলেন, ইলিশ কেনার জন্য এসেছি। দাম কমে না। দরদাম মিললে কেনা হবে।

শহরের নতুন বাজার থেকে আসা ক্রেতা আবদুল বারেক  বলেন, মাছঘাটে এসে দাম দেখে চলে যেতে হয়। কারণ ১ কেজি ইলিশের দাম দিয়ে ৩ কেজির বেশি গরুর মাংস পাওয়া যায়। চাঁদপুরে থেকেও ইলিশের স্বাদ নিতে পারি না।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত সরকার বলেন, আষাঢ় মাসে ইলিশের আমদানি খুবই কম। জ্যৈষ্ঠ মাসে প্রতিদিন ১ থেকে দেড়শ’ মণ ইলিশ আমদানি হলেও চলতি মাসে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ২০ মণ ইলিশ আড়তে কেনাবেচা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা। ৭ থেকে ৯শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২হাজার ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা এবং ৪শ’ গ্রাম থেকে ৬শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১হাজার ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকা। তবে আমদানি বাড়লে দামও কমবে।

চাঁদপুর সদরের জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, ইলিশের আমদানি সংখ্যায় কমেনি। জেলেদের জালে যেসব ইলশ ধরা পড়ছে, তাতে গড় ইলিশের ওজন ও সাইজে ছোট। এই কারণে উৎপাদনের পরিমাণ কিছুটা হ্রাস পাবে। তবে অনেক বেশি নয়।

তিনি আরো বলেন, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষা করায় ইলিশের উৎপাদন গত কয়েকবছর বেড়েছে। আরো বাড়বে যদি নদীর প্রবাহ ঠিক থাকে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, নদীতে ডুবুচর, ইলিশের খাবার সংকটসহ নানা কারণে এখন পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের বিচরণ কম।

ইলিশ আমদানি কম হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানালেন ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ও মানুষের সৃষ্ট কারণে ইলিশের বিচরণ কমেছে। প্রাকৃতিক হচ্ছে নদীর পানিতেও লবনের মাত্রা বেড়েছে। জেলে সংখ্যা আগের চাইতে বেশি। জেলের মাছ ধরার কাজে নতুন নতুন প্রযুক্তি (ফাঁদ) ব্যবহার। যেমন খুবই সুক্ষ কারেন্টজাল ও চায়না দুয়ারি জাল। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন এবং নদীতে বর্জ্যরে দূষনে ইলিশের প্রাপ্যতা কমেছে।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম