
চাঁদপুর: চাঁদপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রমিক দলের কর্মী সমাবেশে মিছিল নিয়ে যোগ দিয়েছেন আওয়ামীপন্থী দুই শ্রমিক নেতা। আওয়ামী সরকার পতনের পর তারা নিজেদের খোলস পাল্টানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু তারা আওয়ামী লীগ সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে এখন পল্টিবাজি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক শ্রমিক।
শনিবার (২ নভেম্বর) বিকেলে শ্রমিক দলের কর্মী সমাবেশে মিছিল নিয়ে উপস্থিত হন চাঁদপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি (১২২০) বাবুল মিজি ও চাঁদপুর জেলা সিএনজি চালিত অটোরিকশা, টেক্সি কার সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী ওমর ফারুক।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, এই দুই শ্রমিক নেতা দীর্ঘ দিন আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে মোটা অংকের টাকা কামিয়েছে। ারা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা সমাবেশে মিছিল নিয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন। মনকি বিগত নির্বাচন গুলোতে এরা শ্রমিক সংগঠনের পরিচয় দিয়ে আওয়ামী প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে প্রচার প্রচারণা করতেও দেখা গেছে। মূলত এই দুই শ্রমিক নেতা অত্যন্ত চতুর ও টাউট প্রকৃতির।
খবর নিয়ে আরো জানাযায়, চাঁদপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি (১২২০) বাবুল মিজি চাঁদপুরের শীর্ষ এক আওয়ামী লীগ নেতার ছত্রছায়ায় প্রায় ১৫ বছরের অধিক সময় চাঁদপুর সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যেন তার একক প্রভাব। এখন আবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বোল পাল্টিয়ে শ্রমিক দলের কর্মী সমাবেশে মিছিল নিয়ে উপস্থিত হন এই শ্রমিক নেতা। এতে শ্রমিক দলের সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এদিন শ্রমিক নেতা বাবুল মিজিকে শহীদ মিনারে অতিথিদের সাথে দেখতে পেয়ে সমাবেশে উপস্থিত একাধিক শ্রমিক দলের কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের প্রশ্ন তাহলে কি তারা বিএনপির সময়ও শ্রমিকদের নেতৃত্ব দিবে। শ্রমিক দলে কি নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কোন নেতা নেই। তারা কার সাথে কথা বলে এই সমাবেশে এসেছে। এমন অনেক কথা বলতে শুনা যায়। একই তরিকতের লোক চাঁদপুর জেলা সিএনজি চালিত অটোরিকশা, টেক্সি ও টেক্সি কার সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী ওমর ফারুক। সে শুধু বিগত দিনে শ্রমিক নেতাকর্মীদের নিয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশেই উপস্থিত হননি, এমনকি বিভিন্ন নির্বাচনে তাকে আওয়ামী প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাইতেও দেখা গেছে।
এবিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য শ্রমিক নেতা বাবুল মিজিকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। যে কারণে তার বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।
আরেক শ্রমিক নেতা কাজী ওমর ফারুক এই প্রতিবেদককে প্রথমে বলেন, আমি যাইনি আমার লোক গেছে। আমি শেষে গেছি। আপনি কি শ্রমিক লীগ করেন নাকি শ্রমিক দল করেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ভাই আপনি কখন ফ্রি আছেন বসে এক সাথে চা খাবো।
এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ভূইয়া বলেন, আমরা প্রোগ্রামে ব্যস্ত ছিলাম। তারা কিভাবে আসলো আমরা জানিনা। খোজ নিয়ে আমরা অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।
একই কথা বললেন, চাঁদপুর জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা সতর্ক থাকব। ভবিষ্যতে তারা যেন আর আসতে না পারে।
চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সলিম উল্যাহ সেলিম এই প্রসঙ্গে বলেন, আমি বিষয়টি ওই দিনই আচ করতে পেরে তাদের স্টেজ থেকে নামিয়ে দিতে বলেছি। আমাদের ক্লিয়ার কথা কোন হাইব্রিড আওয়ামী পেতাত্তাদের বিএনপিতে স্থান হবেনা। তারা যদি ভবিষ্যতে আমাদের কোন অনুষ্ঠানে আসে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ফম/এমএমএ/


