
চাঁদপুর : কয়েকদিন পরে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদকে সামনে রেখে চাঁদপুর শহরে রোজার প্রথম থেকেই জমে উঠেছে ঈদ কেন্দ্রিক কেনাকাটা।
রোববার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে শহরের শপিংমল ও বিপণিবিতানসহ বিভিন্ন দোকান ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
নতুন পোশাকে ঈদ কাটবে এমন প্রত্যাশায় দিনের প্রচন্ড রোদ এবং গরমকে উপেক্ষা করে ক্রেতারা আসছেন তাদের পছন্দের পোশাক কিনতে। তবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দোকানগুলোতে ক্রেতাদের বেড়েছে বাড়তি চাপ।
সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। ক্রেতাদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। তাতে আশার আলো দেখছেন ব্যবসায়ীরা।
গত দুই বছর করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে সরকার কতৃক ঘোষিত বিধি-নিষেধ থাকায় আশানুরূপ ব্যবসা করতে পারেননি দোকানিরা। এবার করোনা ভাইরাস (কোভিড -১৯) না থাকায় ক্রেতার উপস্থিতি ভালো থাকায় স্বস্তি ফিরেছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
শহরের রেলওয়ে হকার্স মার্কেটের দোকানগুলোতে শাড়ি, সুতি কাপড়, থ্রি-পিছ, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, জিন্সের প্যান্ট থেকে শুরু করে থান-কাপড়, কসমেটিকস ও জুতাসহ সাজসজ্জার নানা উপকরণ পাওয়া যায়। এ কারণে হকার্স মার্কেটে ভিড় করছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ও চর অঞ্চলের মানুষ। তবে পোশাকের আকাশছোঁয়া দামে বেকায়দায় আছেন ক্রেতারা।
এদিকে অল্প আয়ের লোকজন মার্কেটে এসে পোশাক কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। চড়া দাম হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেক ক্রেতা। তবে দোকানিরা বলেছেন, সবকিছুর দাম অনেক বেশি সেই তুলনায় পোশাকের দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রযেছে।
ঈদের কেনাকাটা করতে আসা মুক্তা বেগম নামে গৃহবধু বলেন, বাজারে আসছি ছেলে-মেয়েদের জন্য কাপড় কিনতে কিন্তু এখানে এসে হিসেব মিলাতে পারছি না। ঈদে ছেলে-মেয়েদের নতুন পোশাক না দিলেও না। দাম অনেক বেশি। তারপরেও ছেলের পাঞ্জাবি আর মেয়ের থ্রি-পিস নিলাম। ছেলের পাঞ্জাবি নিয়েছে ১ হাজার ৬শ’ ৫০ টাকা আর মেয়ের থ্রি-পিস নিয়েছে ১ হাজার ৯শ’ ৮০ টাকা।
শহরের মিশন রোডের এলাকার বাসিন্দা নয়ন খান বলেন, মায়ের জন্য একটি কাপড় কিনেছি। দাম বেশি দিয়ে নিয়েছি। কাপড়ের দাম অন্য বছরের তুলনায় একটু বেশি মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, সুতির কাপড় ১ হাজার ৩শ’ ৭০ টাকা।
শহরের বিভিন্ন বিপনীবিতানগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, প্রকারভেদে থ্রি-পিস ১ হাজার ৮শ’ থেকে শুরু করে সাড়ে চার হাজার টাকা দাম চাওয়া হচ্ছে। পাঞ্জাবি ১ হাজার ৬শ’ ৫০ টাকা থেকে ৪ হাজার ২শ’ ৭৫ টাকা আর বাচ্চাদের পোশাক ১ হাজার ৫শ’ থেকে শুরু করে ২ হাজার ২শ’ ৫০ টাকা চাওয়া হচ্ছে।
এদিকে থান-কাপড়ের পাশাপাশি জুতার দোকানেও ক্রেতাদের সমাগম দেখা গেছে। শহরের কয়েকজন ব্যবসায়িদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, শবে বরাতের পর থেকে তাদের অল্প অল্প করে বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে দশ রমজানের পর বিক্রি বেড়েছে।চাকরিজীবিরা অনেকেই এখনও বেতন-বোনাস পায়নি, পেলে বিক্রি আরো বাড়বে ইনশাল্লাহ্।
হকার্স মার্কেটের সানি ফ্যাশন এর স্বত্বাধিকারী মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী প্রতিবেদককে বলেন, মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে গত দুই বছর তেমন ব্যবসা করতে পারি নাই। তবে এবার ঈদের বাজার জমে উঠেছে। আশা করি চাঁন রাত পর্যন্ত বেচাকেনা ভালো হবে বাকী আল্লাহ হাতে।
একই মার্কেটের চুমকি স্টোরের কয়েকজন কর্মচারী বলেন, রোজার প্রথম দিকে তেমন বেচাকেনা ছিলো না। আজ কয়েকদিন বেচাকেনা বেড়েছে। আশা করছি বেচাকেনা আরও বাড়বে।
শহরের কালীবাড়ি পুলিশ বক্সের সামনে ব্যাটারি চালিত আটোরিকশার চালকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, প্রতিদিন চর অঞ্চল থেকে ট্রলারে করে মেঘনা নদী পারি দিয়ে ঈদের কাপড় কিনতে আসছেন শত শত মানুষ। তবে গত কয়েকদিনের তুলনায় আজ লোকজন সমাগম বেশি।
ফম/এমএমএ/



