চাঁদপুরে ইউনিয়ন যুবদলের পদ বঞ্চিত নেতাদের ক্ষোভ

চাঁদপুর: চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচন্ডী ইউনিয়নের নব গঠিত যুবদলের কমিটি গঠনে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পদ বঞ্চিত নেতারা।

শুক্রবার (১৯ মে) তরপুরচন্ডী ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকায় ইউনিয়ন যুবদলের দ্বি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ওই সম্মেলনের উদ্ধোধন করেন উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক কে এম নজরুল ইসলাম নজু। তরপুরচন্ডী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর সরদারের সভাপতিত্বে ও সাবেক সাধারণ সম্পাদকের শাহীন ঢালীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা যুব দলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক।

এসময় তিনি তরপুরচন্ডী ইউনিয়নের নব গঠিত ইউনিয়ন যুবদলের কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন। সভাপতি আইউব আলী খন্দকার, সাধারণ সম্পাদক পদে শাহ-আলম দর্জির নাম ঘোষণা করেন। দুজনের নাম ঘোষণা করেই জেলা ও উপজেলার সিনিয়র নেতারা দ্রুত সভারস্থল ত্যাগ করে নদীর পাড় হয়ে শহরের চলে আসেন।

এই কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদ বঞ্চিত নেতাকর্মীরা সিনিয়র নেতাদের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তরপুরচন্ডী ইউনিয়নে পদ বাণিজ্যের কমিটি। আমরা ত্যাগী আর তৃনমূলের নেতা কর্মীরা মানবো না। আজকে সিনিয়র নেতারা নিজেরের পছন্দের লোক ও কর্মীহীন নেতা দিয়ে কমিটি করেছে। বিগত ১৫ বছরের আন্দোলন ও সংগ্রামে আমরা তাদের রাজপথে দেখেনি। দেখছি সরকারি দলের নেতাদের সাথে চামচামি ও ফুল দিয়ে বিভিন্ন সভা সমাবেশে বরণ করতে।

তারা আরোও বলেন, আমরা পরিস্কার জানিয়ে দিতে চাই শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক ভাই আমাদের একমাত্র নেতা। আমরা বিগত দিনে সরকারি দলের হাতে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাদের ত্যাগের কোন মূল্যায়ন করা হয়নি। কিন্তু এবারের কমিটি দেখে আমরা হতাশ। একই সাথে কষ্ট পেয়েছি। অর্থের বিনিময়ে এই কমিটি দেয়া হয়েছে।

পদ বঞ্চিত সভাপতি পদপ্রার্থী রনি মাল বলেন, জেলা যুব দলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক ও সদর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক কে এম নজরুল ইসলাম নজু মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এই কমিটি ঘোষনা করেছেন। তৃণমূলের কর্মী বিছিন্ন এই ভঙ্গুর নেতৃত্ব আমরা শত শত ত্যাগী কর্মীরা মানবে না। এই কমিটি নিয়ে এলাকায় যে কোন সময় বড় ধরণের বিবাদ সৃষ্টি হতে পারে।

কমিটি গঠন নিয়ে পদ বঞ্চিত সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী তুহিন বন্ধুকশী বলেন, দলকে ভালোবাসি বলেই তৃনমূলের নেতাদের অনুরোধে প্রার্থী হয়েছি। বার বার আন্দোলন সংগ্রামে গিয়েছি। হামলার স্বীকার হয়েছি। রক্ত জরিয়েছি। কিন্তু দলের শক্তি তৃনমূল নেতা কর্মীরা চায়। আমাকে কিন্তু জেলার ও উপজেলার নেতারা চায় অন্য জনকে। হতাশ হয়েছি, দুঃখ পেয়েছি কিন্তু আশাহত হয়নি। দিনশেষে শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক ভাই আমাদের নেতা। ওনার নির্দেশে রাজপথে ছিলাম এবং থাকবো। মানিক ভাই যা বিবেচনা করবেন আমারা ত্যাগীরা তাই মেনে নিবো।

চঁঅদপুর জেলা যুবদল সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক এই প্রসঙ্গে বলেন, কমিটি গঠনের পদ বানিজ্যের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। একটি কুচক্রী মহল আমাদের নামে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। আমরা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে জেলা যুবদল, সদর থানা যুবদল, ইউনিয়ন যুবদলের নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে ত্যাগী যোগ্য কর্মীদের থেকে নেতা নির্বাচন করে থাকি। যুবদল একটি বড় সংগঠন। এখানে পছন্দের বা পকেটের লোক দিয়ে কমিটি গঠনের সুযোগ নেই।
ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম