
চাঁদপুর: চাঁদপুরে নানা অযুহাতে বেড়েই চলেছে মাছ-মাংস-সবজির দাম। দাম একবার বাড়লে কমার সম্ভাবনা যেনো একেবারেই কম।
বুধবার (১৯ এপ্রিল) বিকালে শহরের বিপণীবাগ বাজার ঘুরে ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই মিলেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, মান ও বাজার ভেদে প্রতি কেজি লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। গোল বেগুন ৭৫ টাকা, কচুরলতি ৮০ টাকা, পটল ৭৫-৮০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, কাঁকরোল বিক্রি হয়েছে ৮০-৮৫ টাকায়। প্রতিকেজি পেঁপে ৬০-৬৫ টাকা, শশা ৭৫-৮০ টাকা, গাজর ৮০ টাকা, টমেটো ৫০-৫৫ টাকা, লম্বা লেবু হালি মান ভেদে ৪৫ থেকে ৬০ টাকা, গোল লেবু প্রতিপিস ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচা মালের দোকানদার মাসুদ মিয়াজী বলেন, বড় সাইজের লাউ প্রতি পিচ ৯০ থেকে ১১০ টাকা, মাঝারি সাইজের লাউ প্রতিপিস ৭০-৭৫ টাকায় বিক্রি করেন। প্রতি আঁটি লাউ শাক ৪০ টাকা, লাল শাক প্রতি আঁটি ২০ টাকা, পালং শাক প্রতি আঁটি ৩০ টাকা, পুঁই শাক ও পাটের শাক প্রতি আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি। আর কাঁচা মরিচের বিক্রি করেন ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি।
কাঁচা বাজার করতে আসেন কাতার প্রবাসী ফজলু। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্যবসায়িদের কোনো নীতি-নৈতিকতা নেই। আজুহাত পেলেই তারা দাম বাড়িয়ে দেয়। তাদের কাছে সাধারণ মানুষ জিম্মি।
বিপনীবাগ বাজারের কাঁচা মালের দোকানদার গিয়াস উদ্দিন বলেন, গত সপ্তাহ থেকে আজকে সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। রোজার শুরুর আগে কম বেশি সব জিনিসের দাম বেড়েছে। ভ্যাপসা গরমে সবজি নষ্ট হচ্ছে। যানবাহনে ভাড়া বেড়েছে। সামনে সবজির দাম আরো বাড়বে। বাজারে এখন চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ভালো আছে।
এদিকে শহরের বিপনীবাগ বাজারে গরুর মাংসের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। হাড্ডি ছাড়া গরুর মাংস প্রতিকেজি ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর কলিজা প্রতিকেজি ৮০০ টাকা, গরুর সীনার মাংস প্রতিকেজি ৮৫০ টাকা ও হাড্ডিসহ গরুর মাংস ৭৭০ টাকা দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়িরা।
মাংস ব্যবসায়ি মো. মোবারক হোসেন জানান, খাসির মাংস প্রতিকেজি ১০৫০ থেকে ১১৫০ টাকা ও বকরী মাংস প্রতিকেজি ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা করে বিক্রি করেন তিনি।
গরুর মাংস কিনতে আসা ট্রেলার মাস্টার মো.লিয়াকত আলী খান বলেন, দুই কেজি তাজা গরুর মাংস কিনেছি ১৭০০ টাকা দিয়ে।
অপরদিকে মাছের আকাশছোঁয়া দামে বেকায়দায় ক্রেতারা। বড় সাইজের রুই ও কাতলা মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৫৫০ টাকায়। মাঝারি সাইজের রুই ও কাতলা প্রতিকেজি ৩৫০ টাকা ও ছোট সাইজের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা কেজি। প্রতিকেজি বড় সাইজের তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায় আর মাঝারি সাইজের তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা দরে, মেনি মাছের কেজি ৪০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ১১৫০ টাকা, পুকুরের পুঁটি মাছ ৪৫০ টাকা কেজি। পোয়া ৬০০ টাকা, পুকুরের মলা মাছ ৪৫০ টাকা কেজি, বড় পাবদা ৬৫০ টাকা, দেশী শিং ৮০০, দেশি মাগুর ৬০০ টাকা, চাষের পাঙ্গাস ২৮০ টাকা, চাষের কৈ ৩৫০ টাকা, নদীর পাঙ্গাস ৩৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ কিনতে আসা শহরের পূর্ব নাজির পাড়ার বাসিন্দা আবু বক্কর বলেন, মাছের দাম অনেক বেশি। দুই কেজি মাছের জায়গায় এককেজি মাছ কিনতে হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর জুলুম করছে ব্যবসায়ীরা। বাজার তদারকি না থাকায় দাম বাড়ছে অসাধু ব্যবসায়িরা।
বিপনীবাগ বাজারের মাছ ব্যবসায়ী সুমন, কৃষ্ণা ও বিপ্লব বলেন, কয়েক মাস ধরেই মাছের দাম চড়া। মাছের দাম সহসা কমার খুব একটা সম্ভাবনা নেই। কারণ এবার বৃষ্টি হয়নি। যদি বৃষ্টি হয় তাহলে মাছের দাম কিছুটা কমতে পারে। চলতি মৌসুমে সবসময়ই মাছের দাম চড়া থাকে। দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে ব্যবসায়িরা বলেন, ঈদকে ঘিরে পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে।
ফম/এমএমএ/


