
চাঁদপুর: ঈদ, উৎসব ও অবসরকালীন সময়ে যারা ভ্রমন করতে পছন্দ করেন তারা অল্প সময়ের মধ্যে চাঁদপুর জেলার ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমন করতে পারবেন। বিশেষ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় সাধারণ মানুষ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসব স্থানে বেশী ভ্রমন করতে আসেন। ‘ইলিশের বাড়ী’ খ্যাত শহরের তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন মোলহেডসহ প্রাকৃতিক পরিবেশে এসব স্থানগুলোতে আসলে কিছু সময়ের জন্য হলেও আপনার মনকে প্রফুল্ল রাখতে পারবেন। আসুন, জেনে নেই কিভাবে আমরা কোন স্থানে ভ্রমন করতে যাব…
জেলা ও জেলার বাহির থেকে অল্প সময়ের মধ্যে দর্শনীয় স্থানগুলোতে আসতে হলে আপনাকে প্রথমে চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মোলহেড থেকে শুরু করতে হবে। লঞ্চঘাট থেকে নেমে বড় স্টেশন আসতে রিকশায় বাড়া লাগবে ২০টাকা। হেটেও আসতে পারবেন। শহরের কালিবাড়ী জিরো পয়েন্ট থেকে আসতে অটোরিকশায় লাগবে জনপ্রতি ১০টাকা বাড়া।
তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন মোলহেডে প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলন, সূর্যাস্ত, মেঘনায় ট্রলার ও স্পীডবোট দিয়ে ঘুরাঘুরি করতে পারবেন। এখানে বিভিন্ন দামে নাস্তা ও খাওয়ার ব্যবস্থাও আছে।
অল্প সময়ে এসব কাজ শেষে মোলহেড থেকে রওনা করতে পারবেন সিএনজি চালিত অটোরিকশা যোগে হরিণা ফেরিঘাট। সেখানে যেতে বাড়া লাগবে জনপ্রতি ৫০টাকা। সেখানে তাজা ইলিশ ভাজা খাওয়া, নদীর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা এবং ছবিও তুলতে পারবেন। সেখান থেকে আবারও অটোরিকশা যোগে যেতে পারেন চান্দ্রা ইউনিয়নের হরিপুর জমিদার বাড়ীতে। বাড়া লাগবে জনপ্রতি ৪০-৫০টাকা। নিজস্ব বাইক থাকলে খুব কময় সময় লাগবে। সর্বোচ্চ ১০ মিনিট।
হরিপুর ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ীতে আপনি কমপক্ষে ৩০মিনিট সময় কাটাতে পারবেন। জমিদারদের পুরনো নকশায় তৈরী বেশ কয়েকটি বাড়ী রয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং বেশ কয়েকটি পুকুরও আছে। সামনে রয়েছে ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রয়েছে জমিদারদের সমাধিস্থল। বাড়ীটি ঘুরে ঘুরে দেখা ও ছবি তুলতে ভাল সময় কাটাতে পারবেন। এটি শুধুমাত্র দর্শনীয় স্থান নয়, এখানে সিনেমা ও নাটকের শুটিংও হয়। তবে বাড়ীর লোকদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে শুটিং করতে পারবেন।
হরিপুর ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ী ভ্রমন শেষে পাশবর্তী ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা জমিদার বাড়ী, সাহেবগঞ্জ নীলকুঠি, চান্দ্রা লোহাগড়া মঠ শুধুমাত্র পরিদর্শন করতে হলে কমপক্ষে ৫ঘন্টা সময় লাগবে। এক্ষেত্রে আপনার বাইক না থাকলে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ভাড়া করে নিতে হবে। ৫ ঘন্টার জন্য কমপক্ষে আপনাকে ভাড়া গুনতে হবে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। এই উপজেলা ভ্রমনের সময় আপনার সফরসঙ্গী নিতে পারেন একাধিক। এসব ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো গড়ে ৫-৭ কিলোমিটার দূরত্বে।
ফরিদগঞ্জ ভ্রমন শেষে আপনি পাশবর্তী উপজেলা হাজীগঞ্জে প্রবেশ করে ঐতিহাসিক হাজীগঞ্জ বড় মসজিদ পরিদর্শন করে নিজ গন্তেব্যে রওয়ানা হতে পারবেন। তবে আপনি যদি বেশী সময় কাটাতে চান তাহলে মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর পর্যটন লিমিটেডে গিয়ে সময় কাটাতে পারেন। তাহলে রাজধানী ঢাকা থেকে লঞ্চে মোহনপুর লঞ্চঘাটে এসে নামতে পারবেন। তবে সেখানে আপনাকে পরিদর্শনসহ সবকাজেই নগদ ব্যয় করতে হবে। সেখানকার খাওয়া উন্নত এবং দামও একটু বেশী। মোহনপুর থেকেও আপনি ভ্রমন শুরু করতে পারেন।
চাঁদপুরের তরুন লেখক, সাংবাদিক ও কবি মনিরুজ্জামান বাবলু ভ্রমন বিষয়ে বলেন, চাঁদপুরের ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে অনেকগুলো। তবে অল্প সময়ের মধ্যে ভ্রমন করতে হলে আপনাকে তিন নদীর মোহনা, হরিপুর জমিদার বাড়ী, হরিণা ফেরিঘাট, ফরিদগঞ্জের ঐতিহাসিক স্থানগুলো পরিদর্শন করতে হবে। এছাড়া সময় নিয়ে ভ্রমন করতে চাইলে হাজীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক বড় মসজিদ, অলিপুর মাজার, শাহ সুজা ও আওরঙ্গজেব মসিজদ, শাহরাস্তির রাস্তি শাহ্ মাজার, মন বাগান, কচুয়ার সাচার রথ, মানসী মুড়া পরিদর্শনে যেতে পারেন। এছাড়াও মন ভাল করার জন্য সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য দেখতে যেতে পারেন হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী মেঘনা পাড়ে।
ভ্রমন ও পিচার লেখক রিফাত কান্তি সেন বলেন, চাঁদপুরের ঐতিহাসিক স্থান গুলোর মধ্যে কিছু কিছু স্থাপনা এখনো সংরক্ষণ হয়নি। আবার কোনটি সংরক্ষণ শুরু হয়েছে। যেমন সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের বড় সুন্দর গ্রামের ৫০০ বছরের পুরনো মসজিদটি সংস্কার করা হয়েছে। এখন খুবই সুন্দর পরিবেশ করা হয়েছে সেখানে। এছাড়া ফরিদগঞ্জ উপজেলার কড়ৈতলী ও শোল্লা জমিদার বাড়ি রয়েছে। এসব স্থানগুলোও পরিদর্শন করে সময় কাটানো যাবে এবং খুবই গ্রাম্য পরিবেশ।
ফম/এমএমএ/


