চাঁদপুর : ছোট বেলা থেকেই একটু দুষ্টু প্রকৃতির। মায়ের অবাধ্য। প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষ করলেও মাধ্যমিকে এসে আরো বেপরোয়া। একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হলেও অষ্টম শ্রেণীর পর আর পড়া হয়নি। নানা বাড়ীতে থাকার সুবাধে এবং এক সময় পরিবারের অভাবের কারণে কাজে যোগ দিতে হয়। গ্রামের এক টাইলস্ মিস্ত্রির সহযোগী হয়ে কাজ শিখে নিজেই হয়ে যান টাইলস্ এর কাজের ঠিকাদার। দশ বছরের অধিক সময় এই কাজ করে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন আল-আমিন নামে যুবক। তার পরিচয় এখন ‘গোল্ডেন বয়’। জীবন্ত মূর্তি ধারণ করে চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন। তার স্বপ্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর হবেন।
আল-আমিন শেখ। পিতা শাহজাহান শেখ। পৈত্রিক বাড়ী বাগেরহাট জেলায়। জন্ম ১৯৯৭ সালে। তার ৮ বছর বয়সে পরিবারিক সমস্যার কারণে তার মা মনোয়ারা বেগম চলে আসেন চাঁদপুর ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ গ্রামের বাবার বাড়ীতে। আফতাব উদ্দিন বেপারী বাড়ীতে মায়ের কাছে বড় হন আল-আমিন। মুক্তা আক্তার নামে ছোট বোন আছে। সে স্থানীয় একটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়েন।
জীবন্ত মূর্তি ধারণ নিয়ে কথা হয় আল-আমিনের সঙ্গে। আল-আমিন বলেন, আমি ফরিদগঞ্জ নানা বাড়ীতেই ছিলাম। এখনো আমার মা-বোন সেখানে। আমি চাঁদপুর শহরের ক্লাব রোডে এক বন্ধুর সঙ্গে থাকি। টাইলস্ এর কাজ করে নানা অসুস্থতা দেখা দেয়। অবসর বসে না থেকে স্মার্ট মোবাইলে ফেসবুক ও ইউটিউব দেখে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হওয়ার পরিকল্পনা করি। গত জুন মাস থেকে জীবন্ত মূর্তি ধারণ করে চাঁদপুর শহরের তিন নদীর মোহনা, শপথ চত্বর এলাকায় অবস্থান করছি। ইতোমধ্যে আমি চাঁদপুরের লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছি।

আল-আমিন বলেন, আমি ইউরোপের জীবন্ত মূর্তি ধারণ করা ব্যাক্তিদের ভিডিও দেখে উৎসাহ পাই এটি করার জন্য। তবে আমার কাছে সে পরিমাণ অর্থ নেই এই কাজটি খুব ভালোভাবে করার জন্য। একই সাথে আমি আগ থেকে কিছু সামাজিক সচেতনতামূলক কাজে যুক্ত ছিলাম এবং এখনো করছি। বিশেষ করে সড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চলাচল বিষয়ে সতর্কতামূলক প্রচারণা করে আসছি।
তিনি বলেন-আমি কর্মজীবনে গ্রামের বিভিন্ন ব্যবসায় নিজ অর্থ বিনিয়োগ করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। বার বার লোকসান হয়েছে। এখন জীবন্ত মূর্তি ধারণ করে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষদেরকে বিনোদন দেয়ার পাশাপাশি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হওয়ার স্¦প্ন দেখছি। ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। তবে আমার একটি ভালো ক্যামেরা প্রয়োজন। অন্য কোন সমস্যা নেই। আমার কাজের জন্য কিছুটা সহযোগিতা করেছেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমান। সবার সহযোগিতা থাকলে আমার কাজটি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।
এদিকে জীবন্ত মূর্তি ধারণ করে দীর্ঘ সময় একই স্থানে অবস্থান করা ব্যাক্তি চাঁদপুরে এরপূর্বে দেখা যায়নি। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে এখন আল-আমিন এর উপস্থিতি থাকে। বিশেষ করে জেলার প্রধান পর্যটন কেন্দ্র তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন মোলহেডে প্রায় সময়ই তিনি অবস্থান করেন।
ফম/এমএমএ/



