চাঁদপুর : চাঁদপুর সদরের মেঘনা নদীর পশ্চিমে শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার কাঁচিকাটা ইউপি নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। এ সময় বসতঘর ভাংচুর ও লুটপাট হয়েছে বলে আহত লোকজন জানিয়েছে। আহত ৭ জন চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
বুধবার (২৭ মার্চ ) সকালে কাচিকাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ মাথাভাঙা নজির খার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আহতরা হাসপাতালে ভর্তি হয়।
গত ৯ মার্চ কাঁচিকাটা ইউপি নির্বাচনে পরাজিত তিন চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকদের হামলায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে বিজয়ী চেয়ারম্যান মো. নূরুল আমিন দেওয়ান দাবী করেন। আহতরা চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
গুরুতর আহত চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য আল আমিন দেওয়ান (২৪), জয় গাজী (২৫), সোনা মিয়া দেওয়ান (৬০), বিল্লাল দেওয়ান (৩৫), নাজির খান (৬৫), সোলেমান দেওয়ান (৪০) ও জাহান উল্লাহ (৪০)।
আহতদের মধ্যে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা আল আমিন দেওয়ান, দেলোয়ার দেওয়ান, নাজির খাঁন ও জাহান উল্লাহর অবস্থা আসংখ্যাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকায় রেফার করেছেন চিকিৎসক।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আনিছুর রহমান বলেন, আহতদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। দুপুর ২টার পর দেলোয়ার নামে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়। এর আগেও কয়েকজনকে রেফার করা হয়েছে।
আহত বিল্লাল দেওয়ান ও জাহান উল্লা জানান, আমরা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। ভোটে জয় পরাজয় থাকবেই। আজ সকালে রিপন বেপারী এবং তার ভাইয়েরাসহ ৪ থেকে ৫শ’ লোক আমাদের বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাট এবং মানুষেদের উপর আতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে ধারালো রামদা, চাপাতি, টেঁটাসহ দেশি-বিদেশি অস্ত্র ছিলো। আমরা কোন কিছু বুঝে উঠারর আগে তারা আমাদের ওপর অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে হামলা করে।
কাঁচিকাটা ইউপির নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. নূরুল আমিন দেওয়ান বলেন, গত ৯ মার্চ আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটসহ প্রশাসনের লোকজন দায়িত্বে ছিলেন। ফলে সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। ভোটে পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বি ৩ চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুল হাওলাদার, ফজলুল হক কাউসার মোল্লাহ ও আব্দুল হাই খান আজকে পরিকল্পিতভাবে আমার আত্মীয়-স্বজনদের ওপর সশস্ত্র হামলা করে।
তিনি আরও বলেন, পরাজিত ৩ চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্দেশে স্থানীয় কাকন হাওলাদার, রিপন বেপারী, আলম মোল্লা, আলতাফ মোল্লা, বোরচরের সিদ্দিক, জহিরাবাদের ইউসুফ মেম্বার এবং আহমদ আলি মৃধার নেতৃত্বে অজ্ঞাত প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে। তারা ককটেল ফুটিয়ে, দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, টেঁটাসহ দেশী-বিদেশী সব অস্ত্র নিয়ে আমার আত্মীয়-স্বজন এবং সমর্থকদের বাড়িঘরে লুটপাট করে। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমাদের প্রায় ৫০ জন লোক আহত হয়েছে। তিনি প্রশাসনের কাছে এই ঘটনায় সুষ্ঠ বিচার এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্যের জন্য পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী কাউসার মোল্লার ব্যাক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেয়া হয়। তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান মুঠোফোনে ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আহত হয়েছে অনেকে। সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। এই মুহুর্তে বিস্তারিত বলা যাবে না। এখন পর্যন্ত কেউ কোন ধরণের অভিযোগ করেনি।
ফম/এমএমএ/



