ঈদ বিনোদন চাঁদপুর তিন নদীর মোহনায়

চাঁদপুর: চাঁদপুর জেলার প্রায় ২৮ লাখ মানুষের জন্য বিনোদন কেন্দ্র খুবই কম। ব্যাক্তি উদ্যোগে কিছু বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠলে আকারে খুবই ছোট। যার ফলে ঈদ কিংবা অন্য উৎসবে জেলা ও জেলার বাহিরের লোকজন ছুটে আসে পদ্মা মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মোহনায়। কিছু সময়ের জন্য হলো পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আনন্দ ও বিনোদনে মেতে উঠে লোকজন। এবারও ঈদুল আযহার দিন দুপুর থেকে শুরু হয়েছে হাজার হাজার দর্শনার্থীদের ভীড়।

রোববার (৮ জুন) সন্ধ্যায় কিছু সময় শহরের বড় স্টেশন মোলহেড তিন নদীর মোহনায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে দেখাগেছে হাজার হাজার দর্শনার্থী। শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী লোকজন এসেছেন বিনোদনের জন্য।

মোহনার আগে শহরের মাঝখান দিয়ে মেঘনায় এসে মিলিত হয়েছে ডাকাতিয়া নদী। এরপর মেঘনা ও পদ্মা নদী। তিনটি নদীর মিলস্থলে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।

এবারের ঈদে ডাকাতিয়া নদীতে দেখাগেছে ট্রলার করে অনেকে ঘুরছেন। ডাকাতিয়া নদীর মোলহেড এলাকায় রয়েছে ৮-১০টি স্পীড বোট। এগুলো দিয়ে অনেকে মোহনায় ঘুরেন। এছাড়াও ট্রলার দিয়ে জনপ্রতি ৫০টাকা করে মোহনা এলাকায় নদীতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এসব দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য রয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সম্পত্তিতে গড়ে উঠা মোলহেড বেশ কয়েকবার দর্শনার্থীদের জন্য সংস্কার করা হয়েছে। কিছুদিন আগেও রেলওয়ের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। যে কারণে দর্শনার্থীরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে। তবে অস্থায়ীভাবে অনেক হকার ওই স্থানে বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্য বিক্রি করতে দেখাগেছে।

ফেণী জেলা থেকে ঘুরতে আসা পার্থ সরকার বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কাজে এসেছেন চাঁদপুরে। তিন নদীর মোহনার চিত্র খুবই চমৎকার। যে কারণে কিছুটা সময় নদীর কাছে বসে কাটিয়েছেন।

শহরের পুরান বাজারের ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন বলেন, শহরে কোন বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় অবসর সময় পেলে এখানে আসি। ঈদেও বন্ধুদের নিয়ে সময় কাটাতে এসেছি।

পাশের লক্ষীপুর জেলা থেকে তিন নদীর মোহনায় ঘুরতে এসেছেন জনি হোসেন ও রিফাত হোসেন রায়হান। তারা বলেন, তিন নদীর মোহনার দৃশ্য খুবই চমৎকার। অনেকেই দেখলাম এখানে এসেছেন ঈদের সময় কাটাতে। আমরাও বেশ কয়েকজন বন্ধু মিলে বাইক নিয়ে এসেছি।

শহরের নতুন বাজার এলাকার আরেক ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান বলেন, মুক্ত বাতাসে নদী এলাকায় ঘুরার জন্য এবং কিছু সময় বসে কাটানোর জন্য তিন নদীর মোহনায় খুবই মনোরম পরিবেশ। ঈদের সময় আজকে বহু লোকজন এখানে এসেছে।

চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম ইকবাল বলেন, ঈদ ও উৎসবে তিন নদীর মোহনায় দর্শনার্থীদের ভীড় থাকে। যে কারণে নৌ পুলিশ এই স্থানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নৌ পুলিশ দায়িত্ব পালন করে।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম