
চাঁদপুর: “আলোকিত মানুষ, আলোকিত সমাজ”-এই স্লোগানকে ধারণ করে চাঁদপুরের জনপ্রিয় সামাজিক সংগঠন ‘আলোর ছোয়া’র উদ্যোগে এক ব্যতিক্রমধর্মী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়েছে। বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ইমাম ও আলেমদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ এই অনুষ্ঠান চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে শনিবার (১৯ এপ্রিল ২০২৫) বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাখাওয়াত জামিল সৈকত। তিনি ইমাম-আলেমদের সমাজে নৈতিকতা, শান্তি ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং আলোর ছোয়া সংগঠনের এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি রহিম বাদশা ও দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক অ্যাডভোকেট ইকবাল বিন বাশার।
আলোর ছোঁয়ার উপদেষ্টা মাওঃ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান খানের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মাওঃ মোঃ আবদুর রহমান গাজীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি ও মনোয়ারখাদী বেপারি বাড়ি জামে মসজিদের খতিব মাওঃ হাফেজ মোঃ রুহুল আমিন মেহেরপুরী, বিষ্ণুপুর গাউছিয়া জামে মসজিদের খতিব মাওঃ মোঃ আবু সুফিয়ান আল আবেদী, মধ্যে মনোহরখাদী বাইতুর নূর জামে মসজিদের খতিব মাওঃ সুলতান মাহমুদ, সুন্নাহ টিভি বাংলা চ্যানেলের পরিচালক মুফতি আবু বকর বিন ফারুক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন জামে মসজিদের খতিব মাওঃ আক্তার হোসেন। প্রিয় নবীর শানে নাতে রাসুল পরিবেশন করেন জুলফিকার হামলার গজল পরিবেশক দলের সদস্য মোঃ কবির হোসেন।
অনুষ্ঠানে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ইমাম ও আলেমদের নিরলস প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরা হয়। পরিশেষে নির্বাচিত ইমাম ও আলেমদের হাতে সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) তুলে দেন প্রধান অতিথি। এছাড়া অনুষ্ঠানটির সহযোগিতায় ছিলেন চাঁদপুর প্রেসক্লাব, দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠ ও সুন্নাহ টিভি বাংলা।
প্রধান অতিথি ইউএনও বলেন, ত্রুটি বিচ্যুতি নিয়েই একটি সমাজ। এই ত্রুটির মধ্যেও যে আলোকিত মানুষ হয়ে ওঠেন, সমাজ তাকে সম্মান করে। জনবহুল এলাকায় অসংগতি বেশি থাকাটাই স্বাভাবিক, তবে এগুলো মোকাবেলা করে এগিয়ে যাওয়াই মানবিক সমাজের লক্ষ্য হওয়া উচিত। তিনি আরো বলেন, “ইসলাম সবসময় অন্যের সুখ-দুঃখ নিয়ে চিন্তা করে। আর এ কারণেই ইসলাম শান্তির ধর্ম। ‘আলোকিত মানুষ, আলোকিত সমাজ’ স্লোগান নিয়ে বিষ্ণুপুর থেকে যে সামাজিক আলোর ছোঁয়ার যাত্রা শুরু হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি চাই, এই আলো ছড়িয়ে পড়ুক সারা বাংলায়। ভালো মানুষের সংখ্যা যত বাড়বে, হিংসা-বিদ্বেষ তত কমবে। যারা অপরাধে লিপ্ত, তাদের উচিত নিজেদের সংশোধন করা। যদি সমাজ ভালো থাকে, তবে আমাদের ঘুমও হবে শান্তিময় হবে।
ফম/এমএমএ/


