আলোকচিত্রে প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের আদ্যোপান্ত 

শাহরাস্তি (চাঁদপুর) : শাহরাস্তি উপজেলার উপলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী আরিশা নূর। স্কুল ড্রেস পরা প্রধানমন্ত্রীর ছোটবেলার ছবি দেখে উচ্ছাসিত সে। তার মতো করে সাইকেল চালিয়েছেন, স্কুল ড্রেস পরে বই নিয়ে স্কুলে গেছেন  বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা। ৫০ এর দশকে গাঁয়ের মেঠোপথ মাড়িয়ে চলা হাসু এখন বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে একজন সমাদৃত বিশ্ব নেতা।
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার দোয়াভাংগা থ্রি স্টার কমিউনিটি সেন্টারে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আয়োজন করা হয়েছে (২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর)  ‘ইতিহাস কথা কয়’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী।
বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরের কথা হয় সেখানে আসা মেহের ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী অনিক করের সাথে। তিনি  জানান, আমি স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। ইতিহাস সম্পর্কে আমার খুব ধারণাও নেই। এখানে এসে আমি স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বেশ ধারণা লাভ করেছি যা আমার পড়াশোনায় কাজে লাগবে।
‘দেশ, একটি সম্মিলিত উচ্চারণ’ নামক প্রগতিশীল সংগঠনের সার্বিক সহায়তায় প্রদর্শনীতে বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার শৈশব, কৈশোর কাল, বিবাহ বন্ধন এবং ছাত্রনেত্রী হিসেবে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ (১৯৪৭-১৯৭১),
কিছু কুলাঙ্গার সামরিক কর্মকর্তা কর্তৃক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা (১৯৭৫), স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা, ক্যান্টনমেন্টে পর পর ২১ বার সামরিক ক্যু এর মাধ্যমে কয়েক হাজার মুক্তিযোদ্ধা সামরিক কর্মকর্তা কে গোপনে হত্যা, ফাঁসি, অপহরণ ও জীবন্ত সমাধি (১৯৭৫-১৯৮১), শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দলগুলোকে পুনঃজাগরণ (১৯৮১-১৯৯৬),
সামরিক ও ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে শেখ হাসিনার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ (১৯৯৬-২০০১), বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক সহিংসতার নজিরবিহীন পৈশাচিকতা (২০০১-২০০৫), ২১ আগস্টের গ্রেনেডবিদ্ধ বাংলাদেশ, স্বাধীনতাবিরোধী ফ্যাসিবাদ সরকারের পতন ঘটিয়ে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় শেখ হাসিনা এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনকল্পে অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় পথ চলা (২০০৮-২০২২), একাত্তরের নরপিশাচ যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে বিএনপি জামাতের সঙ্গে হেফাজতের আঁতাত ও সহিংসতা (২০১৩) তথাকথিত গণতন্ত্র উদ্ধারের নামে পেট্রোলবোমা হামলার মাধ্যমে গণমানুষকে পোড়ানো (২০১৫), উন্নয়নের রোল মডেল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ (২০০৮-২০২২), দেশের জন্য বয়ে আনা আন্তর্জাতিক পুরষ্কার (২০০৮-২০২২), আজকের বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনার দর্শন শীর্ষক ৪ শত ৪৪টি আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের আয়োজক শাহরাস্তি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান মিন্টু জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তাঁর নেতৃত্বে অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি হয়েছে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে একটি রোল মডেল হিসেবে পরিচিত করেছেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনেও তিনি বিশ্বনেতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে করোনাকালেও দেশের প্রবৃদ্ধি এশিয়ায় প্রায় সব দেশের ওপরে। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর রাজনীতি, সংগ্রাম, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে  এগিয়ে যাওয়ার ঘটনাবলি আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে উন্মুক্ত এ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত বুধবার বেলা ১২টায় চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ নাসির উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেছেন।  এছাড়া কেক কাটা, দোয়া-মিলাদ ও উন্মুক্ত চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।
‘দেশ, একটি সম্মিলিত উচ্চারণ’ নামক প্রগতিশীল সংগঠনের সদস্য সচিব শাহাবুদ্দিন মজুমদার জানান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সু-পরিচিত ‘ইতিহাস কথা কয়’ শীর্ষক প্রদর্শনীর ৫ শ’ ৬ তম আয়োজন এটি।  তিনি আরও জানান, অনেক ত্যাগ ও রক্তের স্রোত পেরিয়ে আজকে শেখ হাসিনা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে তুলে ধরছেন। আগামী প্রজন্মের কাছে এসব ইতিহাস তুলে ধরতেই আমাদের এ প্রয়াস।
ফম/এমএমএ/ফয়েজ আহমেদ/

ফয়েজ আহমেদ | ফোকাস মোহনা.কম