
চাঁদপুর : চাঁদপুর শহরের কোড়ালিয়া রোডে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা (স্টে অর্ডার) অমান্য করে এবং আদালতকে ভুল বুঝিয়ে তিন পরিবারের বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে এডভোকেট সালেহ আহম্মেদ ও তার ছেলে এডভোকেট হাসিব, শেখ হাবিবুর রহমানের ছেলে দুলাল গং দের বিরুদ্ধে।
গত ১২ আগষ্ট নিম্ন আদালতের বরাতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে বিকালে শেষ করেন প্রশাসন।
কিন্তু পরের ২ দিন প্রশাসনের কোন অভিযান না থাকলেও অভিযুক্তরা উচ্ছেদ স্থাপনায় এসে নিজেরা পুনরায় জোরপূর্বক সেসব পরিবারের বসতঘর ভাঙ্গচুর ও লুটপাট করে বলেও জানায় ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, মৃত হাজি আব্দুল মান্নান ঢালির বাড়ি, প্রবাসী আলহাজ হারুন মিয়ার বাড়ি এবং মেজর আকাশের বাড়িসহ ১৩ শতক জমির উপর থাকা স্থাপনা কোনো নোটিশ ছাড়াই ভেক্যু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় হাইকোর্টের আদেশের কপি দেখালেও হামলাকারীরা তা উপেক্ষা করে জোরপূর্বক ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
ভুক্তভোগীরা আরো জানায়, ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি বাড়ির আসবাবপত্র, চাল-ডাল, কাপড়, নগদ টাকা, প্রায় ৪ ভরি সোনার গয়না, বৈদ্যুতিক পণ্য এবং তিনটি দোকানের মালামাল লুটে নেয় হামলাকারীরা। এমনকি বাড়ি ধ্বংসের সময় বেরিয়ে আসা রডগুলোও নিয়ে যায় তারা। আদালতকে ভুল বুঝিয়ে উচ্ছেদ আদেশটি করিয়ে নিয়ে প্রায় ১৩ শতক জমির স্থাপনা ধ্বংস করা হয়। এখন আমরা আতঙ্কে জিবনযাপান করছি।
পরে ১৫ আগষ্ট চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এর বরাবার ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে মৃত. মান্নান ঢালীর ছেলে ফারুক ঢালী বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, স্থানীয় প্রভাবশালীদের সাথে নিয়ে এডভোকেট সালেহ আহম্মেদ, তার ছেলে এডভোকেট হাসিব, শেখ হাবিবুর রহমানের ছেলে দুলালসহ অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জন সন্ত্রাসী হামলায় অংশ নেয়।
চার দশকের বেশি সময় ধরে ওই জমিতে বসবাসকারী পাঁচটি পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, অস্ত্রধারী ৫০–৬০ জন হামলাকারী নারী, শিশু, বৃদ্ধ—কাউকেই রেহাই দেয়নি। প্রাণভয়ে পরিবারগুলো পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। দুই দিন ধরে চলা এই তাণ্ডবের সময় দেখার কেউ ছিল না বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা বিষয়ে এডভোকেট সালেহ আহম্মেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাইকোর্টের এই স্থিতাবস্থার কোন ডকুমেন্ট এখানে আসে নাই। হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার কোন কাগজ এই নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয় নাই। হাইকোর্টের কোন রায় থাকলেতো অর্ডার থাকবে। এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেতো কোন লাভ নেই।
ফম/এমএমএ/



