দ্বিতীয়বার চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির নির্বাচিত বিল্লাল হোসেন মিয়াজী

মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী। ছবি: সংগ্রহীত।

চাঁদপুর : দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাঁদপুর জেলা শাখার আমির নির্বাচিত হয়েছেন মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী। ২০২৭-২৮ কার্যকালের জন্য জেলার ১ হাজার ৫০০ জন রোকনের সরাসরি ভোটে তিনি পুনরায় আমির নির্বাচিত হন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ২০২৭-২৮ কার্যকালের জন্য নির্বাচিত জেলা ও মহানগর আমিরদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে চাঁদপুর জেলা শাখার আমির হিসেবে মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর নাম ঘোষণা করা হয়।

এর আগে ২০২৫-২৬ কার্যকালের জন্য প্রথমবারের মতো তিনি চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির নির্বাচিত হন। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ছিলেন।

শিক্ষা ও রাজনৈতিক জীবন : মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী ১৯৮০ সালে ফরিদগঞ্জ নোয়াপাড়া দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করেন। ১৯৮২ ও ১৯৮৪ সালে লতিফগঞ্জ সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা থেকে যথাক্রমে আলিম ও ফাজিল এবং ১৯৮৬ সালে ফরিদগঞ্জ মাজিদিয়া কামিল মাদরাসা থেকে কামিল পাস করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৮ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ফরিদগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি, ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত চাঁদপুর শহর শাখার সভাপতি, ১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত জেলা শাখার সেক্রেটারি এবং ১৯৯২ সাল পর্যন্ত জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯২ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের পর সাংগঠনিক বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত চাঁদপুর পৌর জামায়াতের আমির ছিলেন। ২০০১ সাল থেকে জেলা জামায়াতের বিভিন্ন দায়িত্বে যুক্ত হন। এ সময় তিনি জেলা অফিস সম্পাদক, সেক্রেটারি ও নায়েবে আমিরের দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষকতা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড : ১৯৯২ সালে চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির সহকারী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বও পালন করেন।

রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণের কারণে তিনি কারাবরণ করেছেন বলে তাঁর রাজনৈতিক জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে। নব্বইয়ের দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখার কারণে সাত মাস কারাভোগ করেন। ১৯৮৬ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা করা হয়েছিল। বর্তমানে এর মধ্যে চারটি মামলা চলমান রয়েছে। ওই সময়ে তিনি একাধিকবার কারাবরণ ও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জেলা জামায়াতের আমির নির্বাচিত হয়ে গত দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এবার পুনরায় নির্বাচিত হওয়ায় ২০২৭-২৮ কার্যকালেও জেলা সংগঠনের নেতৃত্ব দেবেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি আট ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সপ্তম। তাঁর তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম