চাঁদপুর: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে চাঁদপুর জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। চাঁদপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম সলিম উল্যা সেলিম দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় এই কথা জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন , শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার লগ্ন থেকেই সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সবসময় সব সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে।
অ্যাড. এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম বলেন, চাঁদপুরের ৫৬ হাজার ১২৬ বর্গমাইলের মধ্যে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশি। এখানে সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই, আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক,আমরা বাংলাদেশি এবং একে অপরের সুখে-দুঃখে পাশে আছি ও থাকব।
পূজা উদযাপন উপলক্ষে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি জানান, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী চাঁদপুরে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও দলীয় স্বেচ্ছাসেবক টিম আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া দলীয় কার্যালয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে এবং নেতাকর্মীদের ফোন নম্বর হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাইদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আমি এবং আমাদের সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক এমপি মিলে স্থানীয় প্রত্যেক মাননীয় সংসদ সদস্য (এমপি) এবং পাঁচজন সদস্যের সাথে সরাসরি কথা বলেছি। পাশাপাশি উপজেলা কমিটির দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের সাথেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ উপজেলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সভাপতি মাননীয় এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আনম এহসানুল হক মিলন, ড. জালাল উদ্দিন আহমেদ এমপি, ইঞ্জিনিয়ার মোমিনুল হক এমপি এবং মাননীয় সংসদ সদস্য এমএ হান্নান সাহেব সহ সকলের সাথে আমরা সার্বিক যোগাযোগ রক্ষা করেছি। বর্তমানে সবাই মাঠে রয়েছেন এবং দুর্গাপূজার পুরো উৎসবজুড়ে শতভাগ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে মাঠে অবস্থান করবেন, যাতে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন হতে পারে।
পূজা উৎসবে অপশক্তির ষড়যন্ত্র ও শঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের মূল আশঙ্কা হলো-যারা অতীতে রাজনৈতিক ও নির্বাচনে আমাদের প্রতিপক্ষ ছিল এবং পরাজিত হয়েছে। তারা এখন এই উৎসবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তারা এই সুযোগে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে আমাদের দল, সরকার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান , দেশ এবং পুরো জাতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চায়। একই সাথে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের অবশিষ্টাংশ এবং যারা গোপনে গুপ্ত অবস্থায় রয়েছে, তারাও এর সাথে জড়িত থাকার চেষ্টা করছে।
তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি প্রদান করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই যাতে গুপ্ত কোনো সংগঠন, জামায়াত-শিবির কিংবা আওয়ামী ফ্যাসিষ্টর হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর কোনো ধরনের আঘাত হানতে না পারে এবং দেশ ও সরকারের বদনাম করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা কঠোর ও সজাগ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মাঠে আছি। পূজার সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে যত ধরনের প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ প্রয়োজন, তার সবগুলোই ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
পূজা চলাকালীন যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা বা ষড়যন্ত্র রুখে দিতে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইদের বৃহত্তম এই উৎসব যেন অত্যন্ত শান্তিতে, সুন্দর ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে সংসদ সদস্য গণ, প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মী সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
শেষে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনসহ চাঁদপুরের সর্বস্তরের জনগণকে চাঁদপুর জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আগাম শারদীয় শুভেচ্ছা জানান।
ফম/এমএমএ/


